Why beer bottles are brown or green: সাদা বোতলে কেন থাকে না বিয়ার? বাদামি ও সবুজ রঙের পিছনে রয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

Why beer bottles are brown or green: এর পেছনে কোনো ফ্যাশন বা বিপণন কৌশল নেই, বরং লুকিয়ে রয়েছে রসায়নের এক অদ্ভুত বিজ্ঞান এবং বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। বিয়ারের বোতলের এই নির্দিষ্ট রঙের রহস্য জেনে নিন।

Published on: Jun 1, 2026, 09:04:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Why beer bottles are brown or green: রেস্তোরাঁ, পাব কিংবা কোনো উৎসবের আসর—বিয়ারের বোতল কম-বেশি সবারই চোখে পড়ে। তবে কখনো কি একটি বিষয় খেয়াল করেছেন? পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের বা যেকোনো ব্র্যান্ডের বিয়ারের বোতলই হোক না কেন, সেটির রঙ মূলত দুটিই হয়ে থাকে—হয় গাঢ় বাদামি (Brown), না হয় গাঢ় সবুজ (Green)। জল বা কোল্ড ড্রিংকসের মতো স্বচ্ছ সাদা বোতলে কেন বিয়ার বিক্রি করা হয় না?

সাদা বোতলে কেন থাকে না বিয়ার? বাদামি ও সবুজ রঙের পিছনে রয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস
সাদা বোতলে কেন থাকে না বিয়ার? বাদামি ও সবুজ রঙের পিছনে রয়েছে বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

এর পেছনে কোনো ফ্যাশন বা বিপণন কৌশল নেই, বরং লুকিয়ে রয়েছে রসায়নের এক অদ্ভুত বিজ্ঞান এবং বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস। বিয়ারের বোতলের এই নির্দিষ্ট রঙের রহস্য জেনে নিন।

হাজার হাজার বছর পুরনো এই জনপ্রিয় পানীয়টি একসময় স্বচ্ছ কাঁচের বোতলেই সংরক্ষণ করা হতো। কিন্তু প্রাচীনকালের বিয়ার প্রস্তুতকারকরা লক্ষ্য করলেন, বিয়ার তৈরির পর তা স্বচ্ছ বোতলে ভরে রোদে রাখলেই তার স্বাদ ও গন্ধ বদলে যাচ্ছে। বিয়ার থেকে এক ধরণের বিশ্রী গন্ধ বের হতে শুরু করত। কিন্তু কেন এমন হতো?

১. আলোর খেলা এবং রাসায়নিক বিজ্ঞান (The Science of Skunking)

বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, বিয়ার তৈরির প্রধান উপাদানগুলোর একটি হলো ‘হপস’ (Hops)। এই হপস-এর মধ্যে আইসো-আলফা অ্যাসিড থাকে। যখন বিয়ারকে কোনো স্বচ্ছ বা সাদা বোতলে রাখা হয়, তখন সূর্যের আলো বা তার ক্ষতিকারক অতিবেগুনি রশ্মি (UV Rays) খুব সহজেই সেই বোতল ভেদ করে ভেতরে প্রবেশ করে।

সূর্যের আলো বিয়ারে থাকা অ্যাসিডের সাথে বিক্রিয়া করে তা ভেঙে ফেলে। এই রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে এক ধরণের সালফার যৌগ তৈরি হয়, যার গন্ধ অনেকটা গন্ধগোকুল বা ‘স্কাঙ্ক’ (Skunk) নামক প্রাণীর গায়ের দুর্গন্ধের মতো হয়। এই কারণেই বিয়ার নষ্ট হয়ে যাওয়ার এই প্রক্রিয়াকে বিশ্বজুড়ে ‘স্কাঙ্কড বিয়ার’ (Skunked Beer) বা 'লাইটস্ট্রাক' বলা হয়ে থাকে।

২. মুশকিল আসান করল বাদামি রং

এই দুর্গন্ধের হাত থেকে বিয়ারকে বাঁচাতে বিজ্ঞানীরা এবং প্রস্তুতকারকরা এমন একটি রঙের সন্ধান করছিলেন যা সূর্যের আলোকে প্রতিফলিত করতে পারে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা গেল, গাঢ় বাদামি রঙ আল্ট্রাভায়োলেট বা অতিবেগুনি রশ্মিকে প্রায় ১০০ শতাংশ আটকে দিতে সক্ষম। বাদামি কাঁচের বোতল একটি ফিল্টার হিসেবে কাজ করে ভেতরের তরলকে সুরক্ষিত রাখে। ফলে বিয়ারের স্বাদ ও গন্ধ দীর্ঘদিন অক্ষুণ্ণ থাকে। এই আবিষ্কারের পর বিশ্বজুড়ে বাদামি বোতলের ব্যবহার শুরু হয়।

৩. সবুজ বোতলের এন্ট্রি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাস

বাদামি বোতল যখন রমরমিয়ে চলছে, তখন মাঝপথে বাধা হয়ে দাঁড়াল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৪০-এর দশকে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির কারণে বিশ্বজুড়ে বাদামি কাঁচের তীব্র সংকট দেখা দেয়। বিয়ার প্রস্তুতকারকরা বড় সমস্যায় পড়েন, কারণ তারা আবার স্বচ্ছ বোতলে ফিরে গেলে বিয়ার নষ্ট হয়ে যাবে।

এই সংকট দূর করতে তারা বাদামির বিকল্প হিসেবে গাঢ় সবুজ রঙকে বেছে নেন। সবুজ রঙ বাদামির মতো ১০০ শতাংশ না হলেও, বেশ ভালো পরিমাণে সূর্যের ক্ষতিকর আলো আটকাতে সক্ষম ছিল। বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পরও অনেক নামী ব্র্যান্ড (যেমন হেইনেকেন বা কার্লসবার্গ) তাদের বোতলের এই সবুজ রঙটি আর বদলায়নি। সবুজ বোতলকে তারা ‘প্রিমিয়াম’ ও অভিজাত লুক হিসেবে বাজারজাত করতে শুরু করে।

আধুনিক যুগে প্রযুক্তির ছোঁয়া

বর্তমান ২০২৬ সালের উন্নত প্রযুক্তির যুগে অবশ্য যেকোনো রঙের বোতলেই বিয়ার রাখা সম্ভব। কারণ এখন কাঁচে বিশেষ ইউভি-প্রোটেক্টিভ কোটিং (UV-Protective Coating) ব্যবহার করা যায়। তা সত্ত্বেও ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং গ্রাহকদের অভ্যাসের কথা মাথায় রেখে কোম্পানিগুলো আজও তাদের বিয়ারের জন্য বাদামি ও সবুজ বোতলই ব্যবহার করে আসছে।

সুতরাং, পরের বার যখন বিয়ারের বোতল হাতে নেবেন, মনে রাখবেন সেই বাদামি বা সবুজ রঙের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিজ্ঞানের এক দারুণ সমাধান এবং বিশ্বযুদ্ধের এক ঐতিহাসিক গল্প।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More