শীতের মধ্যেও হালকা গরম খেলে তেষ্টা মেটে না, কিন্তু ঠান্ডা জলে আরাম হয়! এর কারণ কী

শীতে তেষ্টা মেটাতে হালকা গরম জল খেলেও ঠিক ‘তৃপ্তি’ আসে না। বরং সাধারণ তাপমাত্রার বা কিছুটা ঠান্ডা জল খেলে তবেই যেন প্রাণ জুড়োয়। এর কারণ কী?

Published on: Jan 6, 2026, 11:25:37 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

শীতের কনকনে ঠান্ডায় যেখানে চারিদিকের মানুষ গরম কফি বা উষ্ণ জলে চুমুক দিচ্ছেন, সেখানে আপনার মন চাইছে এক গ্লাস ঠান্ডা জল? অনেকেরই অভিজ্ঞতা এমন যে, শীতে তেষ্টা মেটাতে হালকা গরম জল খেলেও ঠিক ‘তৃপ্তি’ আসে না। বরং সাধারণ তাপমাত্রার বা কিছুটা ঠান্ডা জল খেলে তবেই যেন প্রাণ জুড়োয়। ২০২৬-এর এই মরসুমে অনেকের মনেই প্রশ্ন— এটি কি নিছকই মনের ভুল, নাকি এর পেছনে কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ আছে?

শীতের মধ্যেও হালকা গরম খেলে তেষ্টা মেটে না, কিন্তু ঠান্ডা জলে আরাম হয় কেন
শীতের মধ্যেও হালকা গরম খেলে তেষ্টা মেটে না, কিন্তু ঠান্ডা জলে আরাম হয় কেন

শীতেও কেন ঠান্ডা জল বেশি তৃপ্তিদায়ক মনে হয়, এর কারণ কী?

শীতেও কেন ঠান্ডা জল তেষ্টা মেটায়? বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা

আমাদের শরীরের তৃষ্ণা মেটানোর প্রক্রিয়াটি কেবল জল খাওয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং মুখ এবং গলার কিছু স্নায়বিক সংকেতের ওপরও নির্ভর করে। এর পেছনে মূলত ৩টি প্রধান কারণ রয়েছে:

১. মুখের আর্দ্রতা ও তাপমাত্রার প্রভাব (Oral Cooling)

গবেষণায় দেখা গেছে, ঠান্ডা জল পান করলে আমাদের মুখের ভেতর এবং গলার টিস্যুগুলো দ্রুত শীতল হয়। এই শীতলতা মস্তিষ্কের 'হাইপোথ্যালামাস' অংশে (যা তৃষ্ণা নিয়ন্ত্রণ করে) সংকেত পাঠায় যে তৃষ্ণা মিটেছে। উষ্ণ জলের ক্ষেত্রে এই শীতল অনুভুতিটি হয় না, তাই জল খাওয়ার পরেও মনে হয় তৃষ্ণা মেটেনি।

২. শীতে ঘরের ভেতরের শুষ্কতা

শীতকালে আমরা সাধারণত বদ্ধ ঘরে থাকি অথবা হিটার ব্যবহার করি। এতে ঘরের বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। ফলে আমাদের নাক ও মুখের ভেতরটা শুকিয়ে (Dry Mouth) যায়। এই শুষ্ক ভাব দূর করতে ঠান্ডা জল যতটা কার্যকরভাবে মিউকাস মেমব্রেনকে উদ্দীপিত করে, গরম জল তা পারে না।

৩. মেটাবলিজম ও শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

শীতকালে শরীর নিজের তাপমাত্রা বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণভাবে বেশি কাজ করে। একে বলা হয় 'থার্মোরেগুলেশন'। অনেক সময় শরীর ভেতর থেকে গরম অনুভব করলে ঠান্ডা জল পানে দ্রুত স্বস্তি মেলে। একে অনেকটা রিফ্রেশিং ড্রিঙ্কের মতো মনে হয়।

গরম জল বনাম ঠান্ডা জল: কোনটি বেছে নেবেন?

যদিও ঠান্ডা জল তৃপ্তি দেয়, তবে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিদ্যায় শীতকালে কিছু সতর্কতা জরুরি:

  • গরম জলের উপকারিতা: শীতকালে হালকা গরম জল পরিপাকতন্ত্রকে সচল রাখে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। এটি সর্দি-কাশির ঝুঁকি কমায়।
  • ঠান্ডা জলের ঝুঁকি: ফ্রিজের অতিরিক্ত ঠান্ডা জল খেলে টনসিলের সমস্যা বা গলার সংক্রমণ হতে পারে। তবে সাধারণ তাপমাত্রার (ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা) জল খেলে তেমন ক্ষতি নেই।

তৃপ্তি পেতে কী করবেন?

আপনি যদি গরম জল খেয়ে তৃপ্তি না পান, তবে ইষদুষ্ণ জলের বদলে স্বাভাবিক তাপমাত্রার জল পান করুন। জল পানের আগে মুখে কিছুক্ষণ জল নিয়ে কুলি করার মতো করে রাখুন, এতে তৃষ্ণা দ্রুত মিটবে।

  • Suman Roy
    ABOUT THE AUTHOR
    Suman Roy

    সুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More