হেঁচকি কেন ওঠে, আর তা সহজে থামাবেনই বা কীভাবে? জেনে নিন
ন ঘন হেঁচকি উঠলে তা বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। হেঁচকি ওঠার কারণ এবং এটিকে দ্রুত থামানোর কিছু কার্যকর ঘরোয়া কৌশল জেনে নিন।
হঠাৎ করে হেঁচকি ওঠা একটি সাধারণ ঘটনা, যা সাধারণত কয়েক মিনিট স্থায়ী হয় এবং এতে কোনো শারীরিক ক্ষতি হয় না। তবে ঘন ঘন হেঁচকি উঠলে তা বেশ অস্বস্তিকর হতে পারে। হেঁচকি ওঠার কারণ এবং এটিকে দ্রুত থামানোর কিছু কার্যকর ঘরোয়া কৌশল নিয়ে এই প্রতিবেদন।

১. হেঁচকি কেন ওঠে? এর পেছনের বিজ্ঞান
হেঁচকি ওঠার মূল কারণ হলো ডায়াফ্রাম (Diaphragm)-এর অনৈচ্ছিক সংকোচন বা খিঁচুনি। ডায়াফ্রাম হলো বুক এবং পেটের মাঝখানে থাকা একটি বড় পেশী, যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসে সাহায্য করে।
- ডায়াফ্রামের সংকোচন: যখন ডায়াফ্রাম হঠাৎ করে সংকুচিত হয়, তখন দ্রুত ফুসফুসের ভেতরে বাতাস প্রবেশ করে। এই সময় স্বরযন্ত্রের ঠিক ওপরে থাকা ভোকাল কর্ড (Vocal Cords) বা স্বরতন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। এই আকস্মিক বন্ধ হওয়ার কারণেই "হিক" বা হেঁচকি শব্দ তৈরি হয়।
- স্নায়ুর জ্বালা (Nerve Irritation): ডায়াফ্রামের এই সংকোচন শুরু হয় মূলত ভেগাস নার্ভ (Vagus Nerve) অথবা ফ্রেণিক নার্ভ (Phrenic Nerve)-এর কোনো কারণে জ্বালা বা উদ্দীপনার ফলে। এই নার্ভগুলি ডায়াফ্রামের সঙ্গে মস্তিষ্ককে যুক্ত করে।
সাধারণ ট্রিগার (Triggers)
নিম্নলিখিত কারণে এই নার্ভগুলি উদ্দীপিত হতে পারে:
- খুব দ্রুত বা বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়া।
- কোমল পানীয় বা কার্বনেটেড পানীয় পান করা (যা পেটে গ্যাস তৈরি করে)।
- অতিরিক্ত গরম বা অতিরিক্ত ঠান্ডা খাবার হঠাৎ খাওয়া।
- মানসিক উত্তেজনা বা হঠাৎ ভয় পাওয়া।
- অ্যালকোহল সেবন।
২. হেঁচকি থামানোর সহজ ও কার্যকরী উপায়
হেঁচকি থামানোর বেশিরভাগ কৌশলই মূলত ভেগাস নার্ভকে উদ্দীপিত করে বা ডায়াফ্রামকে অন্য কাজে ব্যস্ত রেখে তার স্প্যাজম বা খিঁচুনি বন্ধ করার ওপর নির্ভরশীল:
ক. শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি (Breathing Control)
- শ্বাস ধরে রাখা: গভীরভাবে শ্বাস নিন এবং যত লম্বা সময় সম্ভব শ্বাস ধরে রাখুন। শরীরে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে ডায়াফ্রামের স্প্যাজম বন্ধ হতে পারে।
- কাগজের ব্যাগে শ্বাস নেওয়া: একটি ছোট কাগজের ব্যাগের মধ্যে মুখ ও নাক রেখে কয়েকবার শ্বাস-প্রশ্বাস নিন। এটিও রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে।
খ. নার্ভ উদ্দীপন পদ্ধতি (Nerve Stimulation)
- জল পান: বরফ ঠান্ডা জল দ্রুত পান করুন। ঠান্ডা জল গলা এবং খাদ্যনালীর ভেগাস নার্ভকে চমকে দিয়ে স্প্যাজম বন্ধ করে দিতে পারে।
- এক চামচ চিনি/মধু: এক চামচ চিনি বা মধু সরাসরি জিভের পেছনে রাখুন এবং গিলে ফেলুন। এই মিষ্টি স্বাদ ভেগাস নার্ভকে অতিরিক্ত উদ্দীপিত করে হেঁচকি বন্ধ করতে পারে।
- জিহ্বা টানা: আলতো করে আপনার জিহ্বাটিকে বাইরের দিকে টানুন। এটি গলার পেছনের নার্ভগুলিকে উদ্দীপিত করে।
- গাগল করা: মুখ ভর্তি জল নিয়ে ৩০ সেকেন্ড ধরে গার্গল করুন।
গ. শারীরিক ভঙ্গি পরিবর্তন
- বুক হাঁটুতে: চেয়ার বা মেঝেতে বসে বুককে হাঁটুর সঙ্গে চেপে ধরে থাকুন প্রায় এক মিনিট। এতে ডায়াফ্রামের উপর চাপ পড়ে স্প্যাজম বন্ধ হতে পারে।
৩. কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?
সাধারণত, হেঁচকি অল্প সময়ের মধ্যেই থেমে যায়। কিন্তু যদি হেঁচকি ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলতে থাকে (দীর্ঘস্থায়ী হেঁচকি), তবে এটি অন্য কোনো গুরুতর অন্তর্নিহিত সমস্যার (যেমন গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স, স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা বা কোনো ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া) লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।












