MQ-4C Triton: বড় ক্ষতি! হরমুজ প্রণালীতে নিখোঁজ ২০০ মিলিয়ন ডলারের মার্কিন ড্রোন, বাড়ছে রহস্য
MQ-4C Triton: এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটির মূল্য ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলারেরও বেশি এবং এটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল।
MQ-4C Triton: হরমুজ প্রণালীর আকাশে নজরদারি অভিযানের পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন। এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের এই ড্রোনটি উড্ডয়নের মাঝপথে জরুরি সংকেত পাঠানোর কিছুক্ষণ পরই রাডার থেকে অদৃশ্য হয়ে যায়। আর এই ঘটনাটি ঘিরে ফের উত্তেজনা ছড়িয়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ড্রোনটি পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী এলাকায় প্রায় তিন ঘণ্টা নজরদারি মিশন সম্পন্ন করে ইতালির সিসিলিতে অবস্থিত নেভাল এয়ার স্টেশন সিগোনেলা নৌ বিমান ঘাঁটির উদ্দেশ্যে ফিরছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনলাইন ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪ বলছে, ড্রোনটি ইরানের দিকে সামান্য মোড় নেওয়ার পর ‘৭৭০০’ (সাধারণ জরুরি অবস্থার জন্য) কোড পাঠিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। চালকবিহীন বিমানটিকে ‘অদৃশ্য’ হওয়ার আগে দ্রুত উচ্চতা হারাতে দেখা যায়। তবে ড্রোনটি বিধ্বস্ত হয়েছে নাকি গুলি করে নামানো হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি এমন সময় ঘটলো, যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দিন আগে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে এবং তেহরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা করেছে।
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল ড্রোন
এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোনটির মূল্য ২০০ মিলিয়ন বা ২০ কোটি ডলারেরও বেশি এবং এটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এলাকার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রচলিত আকাশযান থেকে ভিন্ন, ট্রাইটন সংকীর্ণ জলপথের ওপর দীর্ঘক্ষণ ধরে কৌশলগত নজরদারি চালাতে সক্ষম। এটি অবিরাম ও বৃহৎ পরিসরের সামুদ্রিক নজরদারির জন্য নির্মিত এবং প্রায়শই পি-৮এ পোসাইডন টহল বিমানের ‘চোখ’ হিসেবে কাজ করে। ট্রাইটন একমাত্র উচ্চ-উচ্চতা ও দীর্ঘ-সহনশীলতা সম্পন্ন (HALE) সামুদ্রিক বিমান, যা ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ৭ হাজার ৪০০ নটিক্যাল মাইল পাল্লায় উড়তে সক্ষম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল নাগাদ মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে ২০টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন ছিল এবং আরও সাতটি ড্রোন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খরচ
গত একমাস ধরে প্রশ্ন উঠছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে ঠিক কত টাকা খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের? এবার সেই পরিসংখ্যান সামনে এল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (এসআইপিআরআই) জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে প্রতি সেকেন্ডে ১০ হাজার ৩০০ ডলার খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৯.৮ লক্ষ টাকা। এখনও পর্যন্ত মার্কিন করদাতাদের ২.৬৩ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে এই যুদ্ধে। জানা গিয়েছে, যুদ্ধে দৈনিক ৮৯০ মিলিয়ন ডলার খরচ হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৮ হাজার ৪৫৫ কোটি টাকা। এসআইপিআরআই-র রিপোর্ট অনুসারে, এই দৈনিক ব্যয়ের মধ্যে যুদ্ধাস্ত্র, বিমান অভিযান, নৌবাহিনী মোতায়েন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং রসদ সরবরাহ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
E-Paper

