Delhi University: দিল্লির উইমেন্স কলেজে ABVP সদস্যদের তাণ্ডব, পাল্টা স্লোগান ছাত্রীদের
Delhi University: গার্গী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনার সময় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে আরিয়ান মান এবং এবিভিপি কর্মীরা জোরপূর্বক কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।
Delhi University: দিল্লির মহিলা কলেজে ফের তাণ্ডব। এবার দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্গী কলেজ থেকে এমন অভিযোগ সামনে এল। পড়ুয়াদের দাবি, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় স্টুডেন্ট ইউনিয়নের (ডিইউএসইউ) সভাপতি আরিয়ান মান এবং অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের (এবিভিপি) বেশ কয়েকজন সদস্য গার্গী কলেজে জোরপূর্বক প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আর এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছে আম আদমি পার্টি।

অভিযোগ, গার্গী কলেজের ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনার সময় অস্বচ্ছতার অভিযোগ তুলে আরিয়ান মান এবং এবিভিপি কর্মীরা জোরপূর্বক কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তীব্র সমালোচনা করে আপ প্রশ্ন তুলেছে, এটাই কী ভারতীয় জনতা পার্টি-যে দলের সরকার দিল্লি শাসন করছে এবং এটি এবিভিপি-র 'সংস্কার' (নীতিশাস্ত্র)-এর ধারণা?
গার্গী কলেজে কী ঘটেছিল?
এইচটি-র প্রতিবেদন অনুসারে, গত শুক্রবার ছাত্র সংসদ নির্বাচনের সময় গার্গী কলেজ ক্যাম্পাসে হামলা ঘটেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পড়ুয়ারা জানিয়েছেন, ভোট চলাকালীন একজন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী প্রক্রিয়াটিকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করে ডিইউএসইউ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। খবর পেয়েই ডিইউএসইউ-এর সভাপতি আরিয়ান মান এবং এবিভিপি-র অন্যান্য সদস্যরা ক্যাম্পাসে পৌঁছালেও তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই পুরুষদের কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। অভিযোগ, কিন্তু আরিয়ান মান ও অন্যরা তা না করেই প্রার্থীকে সমর্থন করার অজুহাতে জোর করে গার্গী কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। চতুর্থ বর্ষের এক স্নাতক পড়ুয়া জানিয়েছেন, গার্গী কলেজ ডিইউএসইউ-এর রাজনীতির আওতার বাইরে পরিচালিত হয় এবং সেখানে কোনও সক্রিয় ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠনও নেই।
জানা গেছে, কলেজ ক্যাম্পাসে মোতায়েন পুলিশ কর্মীরা বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করে এবং আরিয়ান মান ও অন্যদের সেখান থেকে বের করে দেন এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখেন। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তৎপর হলে বেশ কয়েকজন পড়ুয়া এবিভিপির বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় বলে জানা গেছে। একজন পুলিশ আধিকারিক বলেছেন, কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি এবং নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের কাছ থেকে কোনও অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
কী বলছে এবিভিপি?
ডিইউএসইউ প্রধান আরিয়ান মানের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনও প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এবিভিপি-র দিল্লি রাজ্য সম্পাদক সার্থক শর্মা বলেছেন, বিক্ষোভের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবিভিপি বা কোনও বামপন্থী সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কহীন এক প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রী ডিইউএসইউ সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ করেন যে, তার অরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তার সঙ্গে ভিন্ন আচরণ করা হচ্ছে। সার্থক শর্মা বলেন, 'এবিভিপি সদস্যরা প্রথমে অবস্থান ধর্মঘট করছিলেন, তখন একজন অশিক্ষক কর্মচারী তাদের মৌখিকভাবে গালিগালাজ করলে তারা জোর করে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে বাধ্য হন।'
আপের প্রতিক্রিয়া
আম আদমি পার্টি ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে এই ঘটনার একটি ভিডিও শেয়ার করে বলেছে, এটি কেবল নিয়ম লঙ্ঘনই নয়, বরং এটি 'শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।' আপ বলেছে, বিজেপি ‘বেটি বাঁচাও’ স্লোগান দিলেও মহিলা কলেজ পর্যন্ত নিরাপদবোধ করছে না। ভিডিওটিতে দেখা যায়, আরিয়ান মান ও এবিভিপি সদস্যরা কলেজ ক্যাম্পাসে জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছেন। এরপর পুলিশ তাঁদেরকে চত্বর থেকে বের করে দিচ্ছে এবং ছাত্রছাত্রীরা 'এবিভিপি হায় হায়' বলে স্লোগান দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এখনও পর্যন্ত কলেজ কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ জানাননি।
E-Paper

