AISA Hunger strike supporting CJP: ২৩ দিনের অনশন ভাঙলেন AISA-র তিন ছাত্রনেতা, তবে থামছে না আন্দোলন
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেহা বোরা, মনীশ কুমার এবং আমিন অমিতোজ নামে তিন ছাত্রনেতা গত ২৩ দিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের অনশন শেষ হলেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অন্যভাবে চলবে।
দীর্ঘ ২৩ দিনের অনশন শেষ করলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA)-এর তিন ছাত্রনেতা। সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক এবং ককরোচ জনতা পার্টির (CJP) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তাঁরা অনশনে বসেছিলেন। সোমবার বিরোধী সাংসদ, সমাজকর্মী, আইনজীবী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আবেদনের পর তাঁরা অনশন ভাঙেন। তবে আন্দোলন যে থামছে না, তা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে AISA।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নেহা বোরা, মনীশ কুমার এবং আমিন অমিতোজ নামে তিন ছাত্রনেতা গত ২৩ দিন ধরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁদের অনশন শেষ হলেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন অন্যভাবে চলবে।
AISA-র দাবি, টানা ২৩ দিনের অনশনের ফলে তিনজনেরই শরীরের ওজন ১২ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে নেমে গিয়েছিল। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অনুরোধের পরই তাঁরা অনশন ভাঙার সিদ্ধান্ত নেন।
সংগঠন জানিয়েছে, এবার এক মাসব্যাপী দেশজুড়ে প্রচার অভিযান চালানো হবে। এই কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)-র ভূমিকার তদন্ত এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP) ২০২০-এর বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে।
এদিকে, সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে দিল্লির যন্তর-মন্তরে জড়ো হন CJP-র কর্মী-সমর্থক ও ছাত্ররা। যদিও দিল্লি পুলিশ সংসদের দিকে মিছিলের অনুমতি দেয়নি এবং রাজধানীতে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
আন্দোলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। তিনি আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া। তাঁর কথায়, শিক্ষা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং সেই দাবিকেই সামনে রেখে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অন্যদিকে, CJP-র মুখপাত্র সৌরভ দাস জানিয়েছেন, সরকার সম্প্রতি আলোচনার উদ্যোগ দেখিয়েছে। যদিও এই উদ্যোগ অনেক দেরিতে এসেছে বলে তাঁর দাবি। তবুও সংগঠন আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
সৌরভ দাস বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে এখনও স্পষ্ট কোনও প্রস্তাব আসেনি। তবে CJP আলোচনার দরজা খোলা রেখেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সরকারের উপরই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, সোনম ওয়াংচুকও জানিয়েছেন, সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস-সহ বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়টি সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনে আলোচনার আশ্বাস দেয়, তাহলে তিনি তাঁর অনশন প্রত্যাহার করতে রাজি।
সব মিলিয়ে, তিন ছাত্রনেতার অনশন শেষ হলেও শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন থামছে না। বরং নতুন কর্মসূচি এবং সরকারের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনার মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


