I-PAC-Samajwadi Party Contract: বাংলায় বিপর্যয়ের পরই IPAC-র সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন অখিলেশের, শুরু খারাপ সময়?
I-PAC-Samajwadi Party Contract: গত এক দশকে ভারতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠা করা আই-প্যাক। ২০১৭ এবং ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে টানা হারের পর অখিলেশ যাদব তাঁর প্রচার কৌশলে কর্পোরেট ছোঁয়া আনতে চেয়েছিলেন।
I-PAC-Samajwadi Party Contract: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের অপ্রত্যাশিত ফলাফলের পর রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা করলেন সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। তবে তিনি জানিয়েছেন, এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত দলের তহবিলের অভাবের কারণে নেওয়া হয়েছে, রাজনৈতিক অসন্তোষের জন্য নয়। যদিও বাংলার ভোটের ফলে তৃণমূলের ভরাডুবির ঠিক পরপরই অখিলেশ যাদবের এই ঘোষণার কিছুটা হলেও রাজনৈতিক গন্ধ পাচ্ছে দেশের রাজনৈতিক মহল।

বুধবার লখনউতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে অখিলেশ যাদব জানান, অর্থাভাবের কারণে এই আইপ্যাকের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ করতে তারা বাধ্য হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের নির্বাচনে যেসব আসনে কম ব্যবধানে হেরেছিল সমাজবাদী পার্টি, সেই আসনগুলিতেই আই-প্যাকের সঙ্গে কাজ করার কথা ছিল। সেই চুক্তি থেকেই সরে আসল অখিলেশের দল। এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অখিলেশ বলেন, 'তারা কিছু দিন আমাদের জন্য কাজ করছিল। কিন্তু এখন আমাদের কাছে পর্যাপ্ত তহবিল নেই।' তিনি আরও বলেন, 'আই-প্যাকের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফলের কোনও যোগাযোগ নেই। আমাদের কাছে তহবিল নেই। বিজেপি আমাদের কাছে তহবিল পৌঁছাতে দেবে না।' অখিলেশ যাদবের কথায়, 'হ্যাঁ, আমাদের মধ্যে একটি সম্পর্ক ছিল। তারা আমাদের সঙ্গে কয়েক মাস কাজ করেছিল, কিন্তু আমরা তা চালিয়ে যেতে পারছি না, কারণ আমাদের কাছে সেই ধরনের তহবিল নেই।'
‘আই-প্যাক’ আসলে কী?
গত এক দশকে ভারতীয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে ভোটকুশলী থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া প্রশান্ত কিশোরের প্রতিষ্ঠা করা আই-প্যাক। ২০১৭ এবং ২০২২-এর বিধানসভা নির্বাচনে টানা হারের পর অখিলেশ যাদব তাঁর প্রচার কৌশলে কর্পোরেট ছোঁয়া আনতে চেয়েছিলেন। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শেই তিনি আই-প্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গত জানুয়ারিতে কলকাতায় এসে চুক্তি চূড়ান্ত করার পর উত্তরপ্রদেশে কাজও শুরু করে দিয়েছিল আই-প্যাক। কিন্তু হঠাৎ সম্পর্কচ্ছেদের পিছনে আই-প্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চ্যান্ডেলের গ্রেফতারির অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। গত এপ্রিল মাসেই কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডি পশ্চিমবঙ্গে কয়লা কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত আর্থিক তছরুপের মামলায় গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। তদন্তকারী সংস্থার অভিযোগ ছিল, হাওয়ালার মাধ্যমে বেআইনি টাকা আই-প্যাকে লেনদেন করা হয়েছে। যদিও ওই ঘটনায় তিনি জামিন পেয়েছেন ইতিমধ্যেই। তবে এই ঘটনা সংস্থার ভাবমূর্তিকে কিছুটা হলেও কালিমালিপ্ত করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তদন্তে দাবি করা হয়, একটি ‘হাওলা’ চক্রের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আই-প্যাক পরিচালনাকারী সংস্থার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল এবং সেই অর্থ বৈধ।
'আমরা ২০২২ সালে ভোগ করেছি' : অখিলেশ যাদব
এদিন অখিলেশ যাদব শাসক দল বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনেরও সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেন যে উত্তরপ্রদেশের ২০২৪ সালের উপনির্বাচন একটি 'বহুস্তরীয় নির্বাচনী মাফিয়া মডেল'-এর প্রদর্শনী। তিনি অভিযোগ করেন যে এসপি-র ভোটারদের, বিশেষ করে মুসলিম ও যাদব সম্প্রদায়ের ভোটারদের, পরিকল্পিতভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তাঁর কথায়, 'দিদি [মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়] যা মোকাবেলা করেছেন, আমরা ২০২২ সালে তা সহ্য করেছি।' যদিও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের এ বিষয়ে অন্য ব্যাখ্যা রয়েছে। তাঁদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ এবং তামিলনাড়ুর শাসকদল তৃণমূল এবং ডিএমকে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা ভোটে আই-প্যাকের ‘পরামর্শ’ এবং ‘রাজনৈতিক ব্যবস্থাপনা’র উপর ভরসা রেখে লড়তে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। এরপরেই অখিলেশ যাদব আই-প্যাকের ওপর ভরসা হারিয়েছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
E-Paper

