ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইয়ের ছেলে মোজতবাই? সম্পত্তি জানলে অবাক হবেন
ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেই? আপাতত সেরকমই জল্পনা চলছে। এমনিতে ইরানের বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, মোজতবাকে ছোটবেলা থেকেই তাঁর বাবার উত্তরসূরি হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে।
ইরানের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠেছে মোজতবা খামেনেই। ইজরায়েল-মার্কিন হামলায় মৃত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেইয়ের দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনেইকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল বাড়ছে। বিশেষ করে যখন থেকে তাঁকে যখন ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে অন্তর্বর্তী কাউন্সিল বেছে নিয়েছে, তখন থেকেই তার ব্যক্তিগত জীবন এবং অগাধ সম্পত্তির হিসাব নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ইজরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৬ বছর ধরে ইরানে বাবার শাসন চলার পরে ছেলে মোজতবাকে পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

মোজতবা খামেনেইয়ের উত্থান ও প্রভাব
১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা মোজতবা খামেনেই বরাবরই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। তবে আড়ালে থাকলেও ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী 'রেভোলিউশনারি গার্ডস' (IRGC) এবং আধা-সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর উপর তার ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে মনে করা হয়। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময় বিক্ষোভ দমনে তাঁর ভূমিকার পর থেকে তিনি খামেনেই প্রশাসনের অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন।
মোজতবা খামেনেইয়ের মোট সম্পত্তি
গোয়েন্দা সূত্র উদ্ধৃত করে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে দাবি করা হয়, মোজতবার মোট সম্পত্তির পরিমাণ কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও ইরান সরকার বা খামেনেই পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো তাদের সম্পদের ঘোষণা করে না। তবুও বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে মোজতবা প্রায় ২ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি) মালিক। অনুমান করা হয়, ইরানের বড়-বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান এবং চ্যারিটেবল ট্রাস্টের উপর তাঁর যে নিয়ন্ত্রণ আছে, সেটার কারণেই এত সম্পদ আছে। ইরানে ‘সেতাদ’ নামক একটি সংস্থা রয়েছে যা সরাসরি সুপ্রিম লিডারের অধীনে পরিচালিত হয়। ধারণা করা হয়, এই সংস্থার বিশাল অঙ্কের তহবিলের একটি বড় অংশ মোজতবার নিয়ন্ত্রণে থাকে।
বিদেশি ব্যাঙ্কে গচ্ছিত সম্পদ?
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গোপন নথিতে দাবি করা হয়েছে যে মোজতবার ব্যক্তিগত সম্পদের একটি বড় অংশ বিদেশের ব্যাঙ্কে রাখা আছে। বিশেষ করে ব্রিটেন ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে তাঁর বিপুল অর্থ গচ্ছিত থাকার খবর পাওয়া গেছে। যদিও ২০০৯-২০১০ সালের দিকে ব্রিটিশ সরকার ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে মোজতবার সঙ্গে সম্পর্যুক্ত প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারের একটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ বা বাজেয়াপ্ত করেছিল বলে জানা যায়।
আরও পড়ুন: এখনও ছেলে নিয়ে দুবাইয়ে আটকে শুভশ্রী, দেশে ফিরলেন শাকিব খানের নায়িকা সোনাল চৌহান
বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সম্পত্তি
মোজতবা ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত ক্ষমতাশালী হওয়া সত্ত্বেও জনসমক্ষে সাধারণ পোশাকেই দেখা দেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মহলের দাবিস তাঁর নিরাপত্তা ও বাসভবনের পিছনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়, তা রাজকীয় বললেও ভুল হবে না। তেহরানে তাঁর কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত একাধিক প্রাসাদোপম আবাসস্থল রয়েছে। এছাড়া শিয়া মুসলিমদের পবিত্র শহরেও তাঁর বিশেষ প্রভাব ও সম্পত্তি রয়েছে বলে শোনা যায়।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


