Sheshnaag-150 Drone System: ইরান যুদ্ধের মধ্যেই 'গোপনে' মেগা প্রস্তুতি ভারতের! 'শেষনাগ-১৫০' ঘোরাবে পুরো খেলা
প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারত এখন আর কেবল ক্রেতা নয়, বরং নির্মাতা হয়ে ওঠার পথে। ‘শেষনাগ ১৫০’ ড্রোন ভারতের সেই শক্তিরই প্রকাশ। যখন বিশ্বের বড় শক্তিগুলো ড্রোন যুদ্ধের মাধ্যমে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চেষ্টা করছে, তখন ভারত নিঃশব্দে নিজের ঘর গোছাচ্ছে।
বর্তমান বিশ্বের রণকৌশল দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ হোক বা মধ্যপ্রাচ্যে ইজরায়েল-হামাস সংঘাত - আধুনিক যুদ্ধে ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা আজ অনস্বীকার্য। বিশেষ করে আমেরিকা-ইজরায়েল ও ইরানের মধ্যে যে ড্রোন যুদ্ধ চলছে, চার আবহে ভারত নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কোমর বেঁধে নেমেছে। এই লক্ষ্যেই ভারত অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তৈরি করছে 'শেষনাগ ১৫০' নামক একটি অত্যন্ত শক্তিশালী ড্রোন সিস্টেম, যা আগামিদিনে ভারতের আকাশসীমা রক্ষায় গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে।

কী এই শেষনাগ ১৫০?
‘শেষনাগ ১৫০’ হল ভারতের ড্রোন, যা দীর্ঘ সময় ধরে আকাশে উড়তে সক্ষম এবং উচ্চমানের নজরদারি চালাতে পারদর্শী। এর নামকরণ করা হয়েছে পৌরাণিক শক্তিশালী সাপ ‘শেষনাগ’-এর নামানুসারে, যা তার অপরাজেয় শক্তির প্রতীক। এটি কেবল সাধারণ কোনও ড্রোন নয়, বরং এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ‘গেম চেঞ্জার’ হতে চলেছে।
কেন এই 'শেষনাগ ১৫০' গুরুত্বপূর্ণ?
প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রোন প্রযুক্তি এখন আর কেবল নজরদারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সরাসরি আক্রমণে অত্যন্ত কার্যকর। গত কয়েক বছরে ড্রোন প্রযুক্তির যে লড়াই চলছে, তা থেকে ভারত বুঝতে পেরেছে যে বিদেশের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় প্রযুক্তিতে শক্তিশালী ড্রোন তৈরি করা কতটা জরুরি। 'শেষনাগ ১৫০' হল সেই দিশায় ভারতের এক বড় পদক্ষেপ। এটি মূলত একটি দীর্ঘ পাল্লার এবং দীর্ঘ সময় আকাশে উড়তে সক্ষম ড্রোন, যা শত্রুপক্ষের রাডারকে ফাঁকি দিতে সক্ষম।
আরও পড়ুন: Pahalgam Terror Case Update: পহেলগাঁও-কাণ্ডে নয়া মোড়! তদন্তের সুতো পৌঁছাল চিনে
'শেষনাগ ১৫০' ড্রোনের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য
'শেষনাগ ১৫০' ড্রোনের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর সহনশীলতা এবং উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সেন্সর। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি ১৫০ কেজি পর্যন্ত ওজন বহন করতে পারে, যার মধ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা, রাডার এবং প্রয়োজনে ঘাতক অস্ত্রও থাকতে পারে। এটি অনেকটা উচ্চতায় উড়তে পারে। ফলে পার্বত্য অঞ্চল বিশেষ করে লাদাখ বা অরুণাচল প্রদেশের মতো সীমান্তে নজরদারি চালাতে এটি হবে অপ্রতিরোধ্য। এর নামকরণ করা হয়েছে পৌরাণিক শক্তিশালী সর্প 'শেষনাগ'-এর নামে, যা এর শক্তি ও ক্ষিপ্রতার প্রতীক।
বিশ্বজুড়ে ড্রোনের সফল ব্যবহারের বড় উদাহরণ হল ইরানের তৈরি সস্তা ও কার্যকর ড্রোন এবং আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রিডেটর ড্রোন। ভারত এই দুই ধরণের প্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটিয়ে নিজস্ব সমাধান খুঁজছে। মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ব্যবহারের মাধ্যমে বড়-বড় লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হচ্ছে। ভারত সরকারও স্থির করেছে যে ভবিষ্যতের জন্য দেশের ভাণ্ডারে এই ধরণের অন্তত কয়েকশো ড্রোন থাকা প্রয়োজন। 'শেষনাগ ১৫০' প্রকল্পের মাধ্যমে ভারত মূলত ড্রোনের ক্ষেত্রে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।
গোপনীয়তা ও আত্মনির্ভর ভারত
এই প্রকল্পটি অত্যন্ত নিঃশব্দে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এর মূল কারণ লো সামরিক কৌশল বজায় রাখা। ভারতের নিজস্ব সংস্থাগুলি এই ড্রোনের সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার তৈরিতে কাজ করছে, যাতে অন্য কোনও দেশ এর তথ্য হ্যাক বা জ্যাম করতে না পারে। ভারতের 'মেক ইন ইন্ডিয়া' প্রকল্পের অধীনে এই ড্রোনের উৎপাদন শুরু হলে এটি শুধুমাত্র দেশের সেনাবাহিনীই ব্যবহার করবে না, বরং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর কাছে রফতানি পথও প্রশস্ত হবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা এবং ভারতীয় নৌসেনায় আগামিদিনে প্রচুর পরিমাণে ড্রোনের চাহিদা থাকবে। 'শেষনাগ ১৫০' সেই চাহিদা মেটানোর প্রাথমিক ধাপ। এটি কেবল সীমান্তে টহল দেবে না, বরং জিপিএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে নির্ভুল লক্ষ্যভেদেও সহায়তা করবে। ড্রোন বিধ্বংসী ব্যবস্থার হাত থেকে বাঁচতে এতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিশেষ ‘লো সিগনেচার’ প্রযুক্তি।
E-Paper











