WB-Bangladesh Border Fencing: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় পদক্ষেপ, আরও শক্ত হচ্ছে বিএসএফের হাত, কী লাভ হবে?

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। শুরু হয়ে গেল তোড়জোড়। যে সিদ্ধান্তের ফলে ভারতীয় সুরক্ষা বাহিনী তথা বিএসএফের হাত আরও মজবুত হবে।

Published on: Mar 03, 2026 2:59 PM IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত বে়ড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফকে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করল রাজ্য সরকার। যে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই সূত্রের খবর, সীমান্তে বেড়া এবং বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য অবশেষে ১০৫ একর জমি বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত মন্ত্রিগোষ্ঠী সম্প্রতি এই প্রস্তাব অনুমোদন করেছে, যা রাজ্যের সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে পিটিআই)

মন্ত্রিগোষ্ঠীর সবুজ সংকেত

নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিগোষ্ঠী এই ১০৫ একর জমি হস্তান্তরের প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। এই প্যানেলে রয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস এবং অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। বিএসএফের তরফে বারবার জমি সংকটের কারণে বেড়া দেওয়ার কাজ ব্যাহত হওয়ার বিষয়টি জানানোর পর মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

জমি ব্যবহারের পরিকল্পনা

মোট ১০৫ একর জমির মধ্যে ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে।

১) বেড়া নির্মাণ: প্রায় ১৭ কিলোমিটার জুড়ে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৬৭ একর জমি ব্যবহার করা হবে।

২) আউটপোস্ট স্থাপন: ৯টি নতুন বর্ডার আউটপোস্ট নির্মাণের জন্য ১৮ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে।

৩) অবশিষ্ট জমি: এছাড়া আরও ২৫ একর সরকারি জমি বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য ব্যবহারের প্রস্তাব অনুমোদন পেয়েছে।

আরও পড়ুন: WB Rain Forecast till 9th March: রবিতে শুরু; সোমে হুগলি, বর্ধমান-সহ ১৩ জেলায় বৃষ্টি, গরমও বাড়বে দাপিয়ে, কতটা?

জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া

যেহেতু এই জমিগুলির বেশিরভাগই ব্যক্তিগত মালিকানাধীন, তাই রাজ্য সরকার সরাসরি জমি মালিকদের কাছ থেকে তা ক্রয় করবে। জেলা প্রশাসন এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জমিগুলি বিএসএফের হাতে তুলে দেবে। মন্ত্রিগোষ্ঠীর এই সিদ্ধান্তের ফাইল এখন মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে ক্যাবিনেটে যাবে। মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত সিলমোহর পাওয়ার পরেই জমি হস্তান্তর ও বেড়া দেওয়ার কাজ পুরোদমে শুরু হবে।

আরও পড়ুন: Fake Aadhaar Card Check: ভুয়ো আধার কার্ডের জাল ফাঁসছেন না তো? কয়েক মিনিটেই জেনে নিন এভাবে, নাহলে বড় বিপদ

কেন এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ?

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ২,২১৬.৭ কিলোমিটার সীমান্ত পশ্চিমবঙ্গের মধ্য দিয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে বিশাল একটি অংশ এখনও বেড়াহীন আছে। এর ফলে অনুপ্রবেশ, গরু পাচার, সোনা চোরাচালান এবং মাদক পাচারের মতো ঘটনা ঘটে থাকে। কেন্দ্রীয় সরকার দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করছিল যে, জমি অধিগ্রহণে বিলম্বের কারণে তারা সীমান্ত সিল করতে পারছে না। কলকাতা হাইকোর্টও সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া দ্রুত করার নির্দেশ দিয়েছিল। এমতাবস্থায় রাজ্য সরকারের এই সক্রিয়তা কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন: SSC Teachers Recruitment Latest Update: নবম-দশম নিয়োগের ক্যালেন্ডার প্রকাশের পথে SSC! ফের একাদশ-দ্বাদশের কাউন্সেলিং কবে?

জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক সমন্বয়

দীর্ঘদিন ধরে জমি জট নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে যে টানাপোড়েন চলছিল, এই সিদ্ধান্তের ফলে তার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, এই ১৭ কিলোমিটার এলাকায় বেড়া দেওয়া সম্পন্ন হলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলিতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। বিএসএফের জওয়ানরা আরও উন্নত পরিকাঠামোর মাধ্যমে সীমান্ত পাহারা দিতে পারবেন।