Class 12 Result Row: ছাত্র বলছে ২ নম্বর বেড়েছে,CBSEর দাবি ১১!বিভ্রান্তির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কী পেলেন বেদান্ত শ্রীবাস্তব?

CBSE 12th Result Row: বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনা প্রথম সামনে আসে গত মে মাসে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ফল-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সিবিএসই তাঁকে তাঁর নিজের পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্রের বদলে অন্য এক পরীক্ষার্থীর স্ক্যান করা উত্তরপত্র দেখিয়েছিল। বিষয়টি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়।

Published on: Jun 29, 2026, 13:52:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

CBSE Class 12 Result Row: সিবিএসই-র দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র বেদান্ত শ্রীবাস্তবের উত্তরপত্র অদলবদলের ঘটনা এ বছরের ফল-পরবর্তী মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার একাধিক ত্রুটি সামনে এনেছিল। অবশেষে তাঁর দ্বাদশের খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশিত হয়েছে। তবে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা পদার্থবিদ্যা বিষয়ে নয়, মোট নম্বর বেড়েছে মাত্র দুই। এরপরেই মাত্র দু’নম্বর বা‌ড়ায় ভিডিও পোস্ট করে সিবিএসইর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষার্থী বেদান্ত শ্রীবাস্তব। আর সেই ভিডিওর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সিবিএসই-র তরফে জানানো হয়, যাচাইয়ের পর ওই ছাত্রের মোট ১১ নম্বর বেড়েছে। ফলে সিবিএসই দ্বাদশের খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পরই শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত বিভ্রান্তি।

বিভ্রান্তির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কী পেলেন বেদান্ত শ্রীবাস্তব? (X/@VEDANTSHRIV17)
বিভ্রান্তির মধ্যে শেষ পর্যন্ত কী পেলেন বেদান্ত শ্রীবাস্তব? (X/@VEDANTSHRIV17)

বিভ্রান্তির কেন্দ্রে যে ছাত্র, তাঁকে নিয়ে আগেও বিতর্ক হয়েছিল। বস্তুত তাঁর পদার্থবিদ্যার খাতা বদলের ঘটনাটির পরেই সিবিএসই দ্বাদশের পরীক্ষার খাতার দেখার পদ্ধতি নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। প্রকাশ্যে আসে অনস্ক্রিন মার্কিং (ওএসএম) পদ্ধতিতে খাতা দেখা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ। প্রকাশ্যে মুখ খোলায় ‘পাকিস্তানি’, ‘দেশবিরোধী’ ইত্যাদি বিশেষণও শুনতে হয় ছাত্রটিকে। সেই ছাত্র, বেদান্ত শ্রীবাস্তবকে এবার এক অর্থে মিথ্যাবাদী বলল সিবিএসই। রবিবার নিজের পরীক্ষার খাতার পুনর্মূল্যায়নের নম্বর নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে একটি ভিডিও পোস্ট করেছিলেন বেদান্ত। তাতে বেদান্তকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমার খাতা পুনর্মূল্যায়নের নম্বর পেয়েছি। ১১টি প্রশ্নের উত্তর পুনর্বার দেখার জন্য আবেদন করেছিলাম। তাতে মাত্র ২ নম্বর বেড়েছে। এক নম্বর অঙ্কে আর এক নম্বর কম্পিউটার সায়েন্সে। আর যে খাতা বদল হয়েছিল (পদার্থবিদ্যা), তাতে একটিও নম্বর বাড়েনি।’ বেদান্তের ওই দাবিকেই ‘মিথ্যা’ বলে মন্তব্য করেছে সিবিএসই সেই সঙ্গে একটি বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, বেদান্তের আগের প্রাপ্ত নম্বর কত ছিল আর তার পরিবর্তিত নম্বর কত হয়েছে।

বেদান্তের ভিডিও প্রকাশ্যে আসার কিছু ঘণ্টা পরেই সিবিএসই ওই বিবৃতি দেয়। তাতে জানানো হয়েছে, যাচাইয়ের পর বেদান্তর ১১ নম্বর বেড়েছে। পদার্থবিদ্যায় থিওরিতে ৯ নম্বর বেড়ে ৩৫ থেকে হয়েছে ৪৪। গণিত ও কম্পিউটার সায়েন্সে ১ নম্বর করে বেড়েছে। কাজেই বেদান্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় যে দাবি করেছেন, তা সঠিক নয়। অথচ ওই ছাত্র জানিয়েছেন ২ নম্বর। এই অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে।

সিবিএসই-র দাবি উড়িয়ে পাল্টা জবাব ছাত্রের

সোশ্যাল মিডিয়ায় বেদান্তের দাবি সিবিএসই খারিজ করে দেওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসতেই, এবার বোর্ডের বিরুদ্ধে আরও বড়সড় পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছে ওই ছাত্র। বেদান্ত স্পষ্ট জানিয়েছেন, বোর্ড পদার্থবিদ্যায় যে ৯ নম্বর বাড়ার কথা বলছে, তা কোনও খাতা পুনঃমূল্যায়ন বা ‘রি-ইভ্যালুয়েশন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাড়েনি। এক্স বার্তায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বেদান্ত বলে, 'পদার্থবিদ্যার ওই বাড়তি ৯ নম্বর আসলে আমার আসল ও প্রাপ্য নম্বর, যা আপনারা আমাকে প্রথমে দেননি। কারণ আপনারা আমার উত্তরপত্র বা খাতাটি অন্য কারও সঙ্গে বদলে ফেলেছিলেন। এছাড়া কম্পিউটার সায়েন্স এবং গণিতে ১ নম্বর করে মোট ২ নম্বর বেড়েছে।'

বেদান্ত শ্রীবাস্তব কে?

বেদান্ত শ্রীবাস্তবের ঘটনা প্রথম সামনে আসে গত মে মাসে। তিনি অভিযোগ করেছিলেন, ফল-পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সিবিএসই তাঁকে তাঁর নিজের পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্রের বদলে অন্য এক পরীক্ষার্থীর স্ক্যান করা উত্তরপত্র দেখিয়েছিল। বিষয়টি তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করলে তা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর আরও বহু পরীক্ষার্থী নতুন চালু হওয়া অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ তুলতে শুরু করেন। তবে প্রকাশ্যে মুখ খোলায় ‘পাকিস্তানি’, ‘দেশবিরোধী’ ইত্যাদি বিশেষণও শুনতে হয় ছাত্রটিকে। পরে বেদান্ত তাঁর আসল পদার্থবিদ্যার উত্তরপত্রের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করেন। অনেকেরই দাবি, উত্তরপত্রে ডিজিটাল মূল্যায়নের পরিবর্তে প্রচলিত লাল কালির চিহ্ন দেখা গিয়েছে। ফলে নতুন করে অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। যদিও এ বিষয়ে সিবিএসই আলাদা করে কোনও মন্তব্য করেনি।

এখন পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের মাধ্যমে বেদান্তের ব্যক্তিগত মামলার নিষ্পত্তি হলেও, এ বছরের অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন ব্যবস্থা ঘিরে বিতর্ক এখনও থামেনি। বহু পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, যাচাই বা পুনর্মূল্যায়নের পরও নানা অসঙ্গতি রয়ে গেছে। তাঁদের দাবি, অনেক উত্তর মূল্যায়নই করা হয়নি, কোথাও উত্তর লিখেও নম্বর দেওয়া হয়নি, আবার কোথাও মূল্যায়নের চিহ্ন ও প্রাপ্ত নম্বরের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষায় প্রথমবারের মতো সিবিএসই অন-স্ক্রিন মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। এর ফলে প্রচলিত হাতে উত্তরপত্র মূল্যায়নের পরিবর্তে স্ক্যান করা উত্তরপত্র ডিজিটাল মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। নতুন এই ব্যবস্থার পর ফল প্রকাশের পরে রেকর্ড সংখ্যক পরীক্ষার্থী উত্তরপত্র যাচাই, উত্তরপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ এবং পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেন। যদিও সিবিএসই-র দাবি, মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের পুরো প্রক্রিয়াই নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়েছে। তবুও বহু পরীক্ষার্থী এখনও আরও বেশি স্বচ্ছতা, নির্ভুলতা এবং জবাবদিহির দাবি জানিয়ে চলেছেন।