Britain's New PM: ব্রিটেনে নতুন প্রধানমন্ত্রী ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কীভাবে দেশ চালাতে পারেন তিনি?

৫৬ বছর বয়সি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে অনেকেই ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ বলেও ডাকেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তাঁর সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।

Published on: Jul 20, 2026, 09:54:21 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

ব্রিটেনে আবারও নেতৃত্বে পরিবর্তন। সোমবার দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম। গত এক দশকে তিনি ব্রিটেনের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ডাউনিং স্ট্রিটে শেষ ভাষণ দেওয়ার পর রাজা তৃতীয় চার্লসের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। এরপর রাজা চার্লস অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।

৫৬ বছর বয়সি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। (Gareth Fuller/PA via AP)
৫৬ বছর বয়সি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। (Gareth Fuller/PA via AP)

৫৬ বছর বয়সি অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এর আগে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র ছিলেন। উত্তর ইংল্যান্ডে তাঁর জনপ্রিয়তার কারণে তাঁকে অনেকেই ‘কিং অফ দ্য নর্থ’ বলেও ডাকেন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকেই তাঁর সামনে একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। এর মধ্যে রয়েছে জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ, দুর্বল অর্থনৈতিক বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জল-সহ বিভিন্ন জনপরিষেবার মানোন্নয়ন এবং সরকারি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলা।

লেবার পার্টির নেতা নির্বাচিত হওয়ার পর বার্নহ্যাম বলেন, গত ৪০ বছরে ব্রিটেনের রাজনীতিতে এটি সবচেয়ে বড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। তাঁর দাবি, তিনি দেশের প্রশাসনিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে চান, যাতে সাধারণ মানুষের সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান করা যায়।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তাঁর সরকার এমন একটি পথ তৈরি করবে যেখানে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমবে এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চল সমানভাবে উন্নয়নের সুযোগ পাবে। তাঁর মতে, ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন ও নতুন আশার অপেক্ষায় ছিল, আর সেই পরিবর্তনই আনতে চায় তাঁর সরকার।

লেবার পার্টির অনেক সাংসদের মতে, বার্নহ্যাম এমন একজন নেতা যিনি ডানপন্থী জনপ্রিয় নেতা নাইজেল ফারাজ এবং তাঁর দল রিফর্ম ইউকের উত্থানকে কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে পারবেন। স্টারমারের জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার পর বার্নহ্যামের নেতৃত্বে দল নতুন গতি পাবে বলেও তাঁদের আশা।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বার্নহ্যামের প্রথম বড় কাজ হবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন। বিশেষ করে অর্থমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতে এই দুই পদে মতবিরোধের কারণে একাধিক সরকার সমস্যায় পড়েছে।

প্রথমদিকে জ্বালানি ও জলবায়ু বিষয়ক মন্ত্রী এড মিলিব্যান্ডকে অর্থমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে রাখা হলেও, এখন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নামও জোরালোভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে বার্নহ্যাম জানিয়েছেন, তিনি এখনও তাঁর মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত তালিকা ঠিক করেননি এবং এ নিয়ে জল্পনা না করার আবেদন জানিয়েছেন।

ক্ষমতায় এসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল পরিচয়পত্র প্রকল্প বাতিল করা, কর ও সরকারি ব্যয়ের নীতিতে পরিবর্তন আনা এবং দুর্বল পরিষেবা দেওয়া ইউটিলিটি সংস্থাগুলির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো। ঋণে জর্জরিত থেমস ওয়াটারের মতো সংস্থাকে বিশেষ সরকারি তত্ত্বাবধানে আনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

সব মিলিয়ে, নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং ব্রিটেনের অর্থনীতি ও প্রশাসনে বড় পরিবর্তন আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েই যাত্রা শুরু করতে চলেছেন।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More