Israel spying: টার্গেটে কোন মার্কিন আধিকারিকরা? ইজরায়েলের গুপ্তনজরদারি নিয়ে উদ্বিগ্ন পেন্টাগন

Israel spying: মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে ইজরায়েল। যদিও তাতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ছে না। রিপোর্টের দাবি, পেন্টাগনের ‘ডিফেন্ট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) সম্প্রতি ইজরায়েলি চরবৃত্তির আশঙ্কাকে ‘ক্রিটিকাল লেভেল’-এ উন্নীত করেছে।

Published on: Jun 7, 2026, 19:46:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Israel spying: ইরান যুদ্ধ নিয়ে মতবিরোধের জের। সম্প্রতি এক ফোনালাপে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তীব্র ভর্ৎসনা করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ‘আপনি উন্মাদ। সবাই আপনাকে ঘৃণা করে।’ পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের সম্পর্কে ফাটলের ইঙ্গিত এবার আরও স্পষ্ট হচ্ছে। একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ইজরায়েলি গুপ্তচর বাহিনীর কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে পেন্টাগনের। কিন্তু ‘চিরসখা’ ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদকে নিয়ে পেন্টাগনের এই উদ্বেগের কারণ কী? রিপোর্টে দাবি, শীর্ষ মার্কিন আধিকারিকরা মোসাদের গোপন নজরদারির টার্গেট হতে পারে।

ইজরায়েলের গুপ্তনজরদারি নিয়ে উদ্বিগ্ন পেন্টাগন
ইজরায়েলের গুপ্তনজরদারি নিয়ে উদ্বিগ্ন পেন্টাগন

মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলির এই রিপোর্টকে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে ইজরায়েল। যদিও তাতে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ছে না। রিপোর্টের দাবি, পেন্টাগনের ‘ডিফেন্ট ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি’ (ডিআইএ) সম্প্রতি ইজরায়েলি চরবৃত্তির আশঙ্কাকে ‘ক্রিটিকাল লেভেল’-এ উন্নীত করেছে। দুই কর্মরত ও এক প্রাক্তন মার্কিন আধিকারিক সূত্রে এই খরব মিলেছে বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউ ইয়র্ক টাইমস-কে বেশ কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) এই সতর্কতার মাত্রাটি বাড়িয়েছে। কারণ, তারা আশঙ্কা করছে যে ইজরায়েল শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর ক্রমবর্ধমানভাবে নজরদারি করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে হোয়াইট হাউজের অভ্যন্তরীণ আলোচনা বোঝাই এর উদ্দেশ্য বলে জানিয়েছেন তাঁরা।

ইজরায়েলের টার্গেটে কারা?

প্রতিবেদন অনুসারে, সাম্প্রতিক অন্য গোয়েন্দা প্রতিবেদনগুলোতেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, পেন্টাগনের নীতি কর্মকর্তা এলব্রিজ কোলবি এবং তাঁর ডেপুটি চতুর্থ মাইকেল ডিমিনোর ওপর ইজরায়েলের নজরদারি প্রচেষ্টার প্রমাণ নথিভুক্ত হয়েছে। পেন্টাগনের ডিফেন্স ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (ডিআইএ) আশঙ্কা করছে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সমাপ্তি নিয়ে কী ধরনের আলোচনা চলছে, তা জানার উদ্দেশ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারির চেষ্টা বাড়িয়েছে ইজরায়েল। সেই আশঙ্কার ভিত্তিতেই সংস্থাটি ইজরায়েলি গোয়েন্দা তৎপরতার ঝুঁকি মূল্যায়নের মাত্রা বাড়িয়েছে। একজন বর্তমান মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ডিআইএর মূল্যায়নের সঙ্গে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি ও একটি চার্ট যুক্ত ছিল।

এনবিসি নিউজের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, মানব গোয়েন্দা কার্যক্রম (হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স) এবং প্রযুক্তিগত তথ্য সংগ্রহ-উভয় ক্ষেত্রেই ইজরায়েলের সক্ষমতা ‘ক্রিটিক্যাল’ বা অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ওই নথিতে এমন কয়েকটি নির্দিষ্ট ঘটনারও উল্লেখ করা হয়েছে, যেগুলোর কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে জানান তিনি। সেই সূত্রেই ইজরায়েলে সফররত শীর্ষ মার্কিন আধিকারিকদের বার্নার ফোন ও টেম্পোরারি কম্পিউটারের মতো সামগ্রী ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। যোগাযোগ সংক্রান্ত প্রোটোকলগুলি কঠোরভাবে মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় কী প্রভাব?

এমন সময়ে এই প্রতিবেদনগুলো প্রকাশ্যে এসেছে, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে ইরান যুদ্ধ এবং লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে মতবিরোধ সামনে এসেছে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি দুজনের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ ফোনালাপ হয়। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেন, তিনি ওই আলোচনায় নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে দুই দেশের কৌশলগত লক্ষ্য ভিন্ন পথে এগোচ্ছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে এসেছে। তবে শ্বজুড়ে মিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইজরায়েল দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি চালিয়ে আসছে। তবে ডিআইএর মূল্যায়নে দেখা গেছে, ২০২৪ সালের শেষ ভাগ থেকে এই তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। সে সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন গাজায় ইজরায়েলের যুদ্ধ নিয়ে দেশটির ওপর চাপ বাড়াতে শুরু করেছিল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উদ্বেগের পেছনে থাকা ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি হলো ২০২১ সালে ইজরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার ডিআই-এর সদর দফতরে গোপনে শ্রবণযন্ত্র স্থাপনের চেষ্টা। এছাড়া ২০২৫ সালে ইজরায়েলের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসের একটি গাড়িতে একই ধরনের নজরদারি যন্ত্র বসানোর চেষ্টা করেছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।