Plastic Notes in India: ছিঁড়বে না, গলবে না! ভারতে আসছে প্লাস্টিকের নোট? ইঙ্গিতবাহী বার্তা RBI গভর্নরের
Plastic Notes in India: প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে এটি চালু হলে সরকারের পুনঃমুদ্রণ ও ব্যবস্থাপনার কোটি কোটি টাকা বেঁচে যাবে।
Plastic Notes in India: কাগজের নোটে ইতি পড়তে চলেছে? ভারতে চালু হতে পারে প্লাস্টিক বা পলিমার কারেন্সি? গত কয়েকদিন ধরে নেটপাড়ায় চলা এই জল্পনার অবসান ঘটাল স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই)। শুক্রবার দ্বিমাসিক মুদ্রানীতি ঘোষণার পর এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই বিষয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশে পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট চালু করার একটি প্রস্তাব বর্তমানে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। তবে প্রস্তাবটি একেবারেই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে।

এদিন সাংবাদিক বৈঠকে প্লাস্টিক নোটের সত্যতা স্বীকার করে গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, 'পলিমার নোট চালু করার একটি প্রস্তাব আমাদের বিবেচনাধীন রয়েছে। এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আমরা খতিয়ে দেখছি। এটি বাস্তবে রূপ দেওয়া কতটা লাভজনক হবে, তা মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।' অর্থাৎ, প্লাস্টিক নোটের খবরটি যে স্রেফ গুজব নয়, তা গভর্নরের কথাতেই পরিষ্কার। তবে ভারতে প্লাস্টিক নোট চালুর ভাবনা কিন্তু নতুন নয়। প্রায় এক দশক আগে, ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে সংসদে জানানো হয়েছিল যে, দেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুর বৈচিত্র্য মাথায় রেখে পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি শহরে (কোচি, মহীশূর, জয়পুর, শিমলা এবং ভুবনেশ্বর) মোট ১০০ কোটি পিসের ১০ টাকার পলিমার নোট চালু করা হবে।
কিন্তু সেই সময়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা ও পরিকাঠামো বা পরিচালনার সমস্যার কারণে ওই পাইলট প্রজেক্টটি স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত আবহে কাগজের নোটের খরচ ও বর্জ্য কমাতে ফের সেই পুরনো পরিকল্পনা নতুনভাবে খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। প্লাস্টিকের বা পলিমার নোট কাগজের চেয়ে অনেক বেশি টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়। ফলে এটি চালু হলে সরকারের পুনঃমুদ্রণ ও ব্যবস্থাপনার কোটি কোটি টাকা বেঁচে যাবে। কারণ, দেশে ইউপিআই বা ডিজিটাল লেনদেন রেকর্ড হারে বাড়লেও, কাগজের নোটের চাহিদাও সমানতালে বাড়ছে। গত ১৫ মে-র হিসাব অনুযায়ী, বাজারে রেকর্ড ৪২.৮৬ ট্রিলিয়ন টাকার নগদ অর্থ প্রচলিত রয়েছে। আর এই বিপুল কাগজের নোট সামলাতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে আরবিআই-এর। এই বিপুল পরিমাণ নগদ বজায় রাখতে গিয়ে আরবিআই-এর খরচ ও সমস্যা দুই-ই বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কারেন্সি নোট ছাপানোর খরচ এক ধাক্কায় বেড়ে হয়েছে ৬,৩৭২.৮ কোটি টাকা। যা আগের বছরের (৫,১০১.৪ কোটি টাকা) তুলনায় অনেকটাই বেশি। অন্যদিকে, ২০২৫ অর্থবর্ষে বাজার থেকে প্রায় ২৩.৮ বিলিয়ন পিস ময়লা ও ছেঁড়া নোট তুলে নিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ককে, যার মধ্যে ৫০০ এবং ১০০ টাকার নোটই সবচেয়ে বেশি ছিল।
E-Paper

