ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর আসার রাতে, গত বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের এই মুখপাত্রের মৃত্যুর খবর আসতেই সেদেশের জায়গায় জায়গায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তারই মাঝে ময়মনসিংহ জেলায় এক নারকীয় হত্যাকাণ্ড ঘটে যায়। সেখানে মাঝরাস্তায় এক যুবককে ব্যাপক মারধর করে হত্যা করা হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর দেহ রাস্তার ধারের এক গাছে বেঁধে জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো বর্বরোচিত কাণ্ড ঘটে বাংলাদেশে। সেই রাতের ঘটনা নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিল বাংলাদেশ ব়্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বা ব়্যাব।

ময়মনসিংহের ওই নারকীয় ঘটনার ভিডিয়ো ক্রমেই সোশ্যাল মিডিয়ায় চূড়ান্ত নিন্দার ঝড় তোলে। ওঠে নানান প্রশ্ন। এদিকে, বাংলাদেশে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ব়্যাব জানাচ্ছে, ওই নির্মম হত্যার শিকার যুবক যে কারখানায় কাজ করতেন, সেই কারখানা কর্তৃপক্ষই সেই রাতে তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয়। ওই যুবক পেশায় ছিলেন পোশাক শ্রমিক। ময়নমনসিংহের ভালুকায় তাঁকে গত বৃহস্পতিবার রাতে কারখানার ফ্লোর ম্যানেজার চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করেন।
এর আগে প্রশ্ন ওঠে, সেদিন রাতে ওই যুবককে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়ে কেন যুবককে পুলিশের হাতে বা নিরাপত্তারক্ষীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়নি? তারই উত্তরে ব়্যাব জানায়, সেদিন রাতে চাকরি থেকে যুবককে ইস্তফা দিতে বাধ্য করানোর পর তাঁকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। ব়্যাবের তরফে কর্মকর্তা নাইমুল হাসান বলেন,'ঘটনার সূত্রপাত হয় ৪টার সময়। ফ্যাক্টরির ফ্লোর ইনচার্জ তাঁকে (যুবককে) ইস্তফা দিতে বাধ্য করে। ইস্তফা দেওয়ার পর উত্তেজিত জনতার কাছে সে (ফ্লোর ম্যানেজার) হ্যান্ডওভার করে দেয়।' এরই সঙ্গে তিনি বলেন, ওই যুবককে 'পুলিশের কাছে কেন দেয়নি, তার নিরাপত্তা কেন নিশ্চিত করেনি সেজন্য পাইওনিয়ার কারখানার দুজনকে আমরা গ্রেফতার করেছি।' জানা গিয়েছে, কারখানার ভিতরে ওই যুবকের কটূক্তি ঘিরে যাবতীয় সংঘাত শুরু হয়ে, পরে তা কারখানার বাইরে জানা জানি হতেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে না জানিয়ে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানাচ্ছে ব়্যাব। ওই যুবকের সঙ্গে কারোর পুরনো শত্রুতা রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানানো হয়।
ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন, পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কোম্পানির ফ্লোর ম্যানেজার আলমগীর হোসেনকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। তার সঙ্গে গ্রেফতার হয়েছেন কারখানার কোয়ালিটি ইনচার্জ এবং মিরাজ হোসেন আকন (৪৬)। এছাড়াও গ্রেফতার হয়েছে তারেক হোসেন (১৯), লিমন সরকার, মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিঝুম উদ্দিন (২০), আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) এবং মো. নাজমুল।