Bengal Offshore Crude Oil Extraction: পশ্চিমবঙ্গ লাগোয়া বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে তেলের ভাণ্ডার আছে? তার অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে মেগা প্রকল্প চালু করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর তা নিয়ে আরও আশার আলো জোগালেন রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি জানালেন, বেঙ্গল অফশোর তথা বঙ্গোপসাগরের তলদেশে থাকা ভারত এবং বাংলাদেশ উপকূল সংলগ্ন ভূতাত্ত্বিক এবং খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান অঞ্চলে কাজ চলছে। প্রাথমিকভাবে মেগা প্রকল্পে সাফল্যও মিলেছে।
বঙ্গোপসাগরের উপকণ্ঠের তেল নিয়ে আশাবাদী শমীক

তাঁর কথায়, ‘বেঙ্গল অফশোর - আমাদের যে বঙ্গোপসাগর অঞ্চল, যার মধ্যে ওঁদের পরিভাষায় মহানদীও আছে। মহানদীর দুটো ড্রিলিংয়ের কাজ সাফল্যের সঙ্গে করা হয়েছে। তার টেস্টিংয়ের কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যবাসী হিসেবে একটা আশা তো থাকে। আমরা আশা করছি যে আমাদের বঙ্গোপসাগরের উপকণ্ঠে যে তেল পাওয়া যাবে, তা এখনকার থেকেও অনেক বেশি (হবে)। এতদিন একটি সরকারের কারণে জ্বালানি সুরক্ষার সঙ্গে আপস করা হয়ে যাচ্ছিল।’
আর তিনি সেই মন্তব্য করেছেন অশোকনগরের বাইগাছিতে তৈলক্ষেত্র পরিদর্শনে গিয়ে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে বাইগাছি থেকে বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু করা হয়েছে। সেখান থেকেই তিনি আশা জুগিয়েছেন যে আগামিদিনে পশ্চিমবঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে-লাগোয়া অঞ্চল থেকে তেল উত্তোলন করা যাবে। বিশেষত বঙ্গোপসাগর অঞ্চল থেকে যে তেল পাওয়া যাবে, তা অশোকনগরের থেকেও ভালো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বঙ্গোপসাগরের তলদেশে তেল ও গ্যাসের সন্ধানে ভারত
{{/usCountry}}বঙ্গোপসাগরের তলদেশে তেল ও গ্যাসের সন্ধানে ভারত
{{/usCountry}}এমনিতে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে ভারত যে তেলের সন্ধান চালাচ্ছে, তা আগেই সামনে এসেছে। গত মে'তে সংবাদমাধ্যম সিএনএন নিউজ১৮-র একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকারের যে নথি হাতে এসেছে, তাতে দেখা গিয়েছে যে ভারতের পূর্ব উপকূলীয় সমুদ্র-অঞ্চলে (অফশোর রিজিয়ন বা উপকূল থেকে দূরে সমুদ্রের ভিতরে অবস্থিত অঞ্চল) বড়সড় ভূ-তাত্ত্বিক সমীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে। সেই সমীক্ষার আওতায় বাংলা-পূর্ণিয়া, মহানদী, কৃষ্ণা-গোদাবরী এবং আন্দামান অফশোর বেসিন বা অববাহিকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই প্রকল্পের জন্য গত ১৪ মে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল।
বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে সমীক্ষা ভারত সরকারের
সরকারি নথিপত্র উদ্ধৃত করে ওই রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ওই প্রস্তাবিত সমীক্ষার অংশটা বিশাল বড়। অনেক এলাকাজুড়ে চালানো হবে সমীক্ষা। শুধুমাত্র বাংলা-পূর্ণিয়া এবং মহানদী অফশোর সমীক্ষায় প্রায় ৪৫,০০০ লাইন-কিলোমিটার এলাকা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। আবার আন্দামানের ক্ষেত্রে সেটা ৪৩,০০০ লাইন-কিমির মতো। আরও ৩০,০০০ লাইন-কিমি অংশ আছে কাবেরীর ক্ষেত্রে। আর সেই বিশাল অঞ্চলে সমীক্ষা চালানোর মূল্য উদ্দেশ্য একটাই - বঙ্গোপসাগরের তলদেশে লুকিয়ে থাকা তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার খুঁজে বের করা।