Bhargavastra Latest Update: দেশীয় প্রযুক্তিতে বড় সাফল্যের পথে ‘ভার্গবাস্ত্র’, ২০৩০-এর মধ্যে ‘সুদর্শন চক্র’

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ‘ভার্গবাস্ত্র’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই ২০৩০ সালের মধ্যে বহুস্তরীয় অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’ তৈরি করা সম্ভব হবে।

Published on: Jul 25, 2026, 08:40:12 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bhargavastra Latest Update: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আরও একটি বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিল সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস লিমিটেড (এসডিএএল)। সংস্থার চেয়ারম্যান সত্যনারায়ণ নুওয়াল জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ‘ভার্গবাস্ত্র’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করবে। তাঁর দাবি, এই প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করেই ২০৩০ সালের মধ্যে বহুস্তরীয় অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘সুদর্শন চক্র’ তৈরি করা সম্ভব হবে।

সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ‘ভার্গবাস্ত্র’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করবে।  (প্রতীকী ছবি) (DRDO)
সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ‘ভার্গবাস্ত্র’ আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার সব ধাপ শেষ করবে। (প্রতীকী ছবি) (DRDO)

শুক্রবার নাগপুরে ‘ভার্গবাস্ত্র’-এর প্রদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন নুওয়াল। তিনি জানান, এই কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই একাধিক সফল পরীক্ষা পেরিয়েছে। এখন শুধু চূড়ান্ত মূল্যায়নের জন্য আরও কিছু পরীক্ষা বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, 'এই পুরো সিস্টেমটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আমাদের নিজস্ব ট্রায়াল শেষ হয়ে যাবে। নৌবাহিনীর আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই এটি দেখেছেন, এবার সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিরাও দেখলেন। এর আগে বালাসোর ও পোখরানে মাইক্রো-মিসাইলের সফল পরীক্ষা হয়েছে। আজ রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল কন্ট্রোল সিস্টেম এবং অন্যান্য অংশও পরীক্ষা করা হয়েছে।'

সংস্থার দাবি, ‘ভার্গবাস্ত্র’-এর রাডার ১০ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত আকাশে থাকা লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে পারে। এছাড়া ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (ইওটিএস) ৬ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত নজরদারি করতে সক্ষম। বর্তমানে ভারতীয় সেনার প্রয়োজন যেখানে আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত, সেখানে এই প্রযুক্তি আরও বেশি দূরত্বে কাজ করতে পারে। নুওয়াল বলেন, 'সেনাবাহিনীর বর্তমান চাহিদা আড়াই কিলোমিটার হলেও আমরা ইতিমধ্যেই ৬ কিলোমিটার পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছি। ভবিষ্যতে আরও উন্নত প্রযুক্তি তৈরি হবে।'

‘ভার্গবাস্ত্র’ সম্পূর্ণভাবে ভারতের তৈরি একটি কাউন্টার-ড্রোন ব্যবস্থা। এটি শত্রুপক্ষের ড্রোন, আত্মঘাতী ড্রোন (লোইটারিং মিউনিশন) এবং একসঙ্গে আক্রমণ করা ড্রোনের ঝাঁক (ড্রোন সোয়ার্ম) ধ্বংস করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি রকেট ও নির্ভুল মাইক্রো-মিসাইল ব্যবহার করা হয়েছে।

সিস্টেমটিতে অত্যাধুনিক কমান্ড, কন্ট্রোল, কমিউনিকেশন ও ইন্টেলিজেন্স (C4I) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে রাডার, ইলেকট্রো-অপটিক্যাল/ইনফ্রারেড (EO/IR) সেন্সর এবং রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি ডিটেক্টর। এগুলির সাহায্যে একসঙ্গে একাধিক ড্রোন শনাক্ত, ট্র্যাক এবং প্রয়োজনে ধ্বংস করা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার ভারতীয় সেনার একটি দল ‘মেক-টু’ প্রকল্পের অধীনে নাগপুরে সংস্থার কারখানা পরিদর্শন করে। সেখানে ড্রোনের একটি ঝাঁক উড়িয়ে সিস্টেমের কার্যকারিতা দেখানো হয়। রাডার ও সেন্সরগুলি সফলভাবে ড্রোন শনাক্ত করে এবং কমান্ড সিস্টেম তাৎক্ষণিকভাবে লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করে লঞ্চারের কাছে তথ্য পাঠায়। নিরাপত্তার কারণে সেদিন প্রকৃত রকেট ছোড়া হয়নি।

সত্যনারায়ণ নুওয়ালের মতে, ‘ভার্গবাস্ত্র’-ই ভবিষ্যতের ‘সুদর্শন চক্র’ প্রকল্পের ভিত্তি হবে। তাঁর আশা, ডিআরডিও এবং অন্যান্য সংস্থার যৌথ প্রচেষ্টায় ২০৩০ সালের মধ্যে ২.৫ কিলোমিটার, ৬ কিলোমিটার এবং ২৫ কিলোমিটার পাল্লার একটি আধুনিক দেশীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবে ভারত। এতে দেশের প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে এবং বিদেশি প্রযুক্তির উপর নির্ভরতাও অনেকটাই কমবে।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More