BJP slams Rahul Gandhi: ‘আতঙ্ক বিক্রি বন্ধ করুন!’ রাহুলের 'অর্থনৈতিক সুনামি' সতর্কতায় তোপ বিজেপির
BJP slams Rahul Gandhi: রাহুল গান্ধীর ‘অর্থনৈতিক সুনামি’ সতর্কবার্তার জবাবে এক্স-এ দীর্ঘ পোস্ট করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেন, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, 'শক অ্যাবজর্বারগুলো সরানো হয়নি, বরং গত এক দশকে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে।'
BJP slams Rahul Gandhi: বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সতর্ক করেছেন, 'সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সংকটের জেরে দেশে অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহের আবহ তৈরি হচ্ছে। এমনকী তিনি দাবি করেন, ‘জনগণের ক্ষোভ দমন করতে সরকার জরুরি অবস্থা জারি করতে পারে।' তাঁর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি।

কংগ্রেস সদর দফতরে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধী বলেন, 'একটি বিশাল 'অর্থনৈতিক সুনামি' আসছে। জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে এবং এটা তো সবে শুরু। ভারত এমন এক অর্থনৈতিক সংকটের সাক্ষী হবে যা আপনারা আগে কখনও দেখেননি।' তিনি অভিযোগ করেন, ভারতের সুরক্ষা ব্যবস্থা যা আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ধাক্কা শোষণ করত, তা বিজেপি সরকার সরিয়ে দিয়েছে। 'জনগণের ক্ষোভ দমনের জন্য তারা জরুরি অবস্থার মতো কিছু জারি করার চেষ্টা করতে পারে,' বলে সতর্ক করেন তিনি। এরপরেই কংগ্রেস নেতাকে পাল্টা কড়া জবাব দিয়েছে বিজেপি। রাহুল গান্ধীর ‘অর্থনৈতিক সুনামি’ সতর্কবার্তার জবাবে এক্স-এ দীর্ঘ পোস্ট করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য দাবি করেন, বাস্তবতা ঠিক উল্টো। তিনি বলেন, 'শক অ্যাবজর্বারগুলো সরানো হয়নি, বরং গত এক দশকে সেগুলো তৈরি করা হয়েছে।'
বৃহস্পতিবার এক্স পোস্টে মালব্য বলেন, 'যদি সত্যিই ভারতের অর্থনীতির সব ‘শক অ্যাবজরবার’ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে থাকে, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন, বৈশ্বিক আর্থিক কড়াকড়ি এবং ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও দেশের অর্থনীতি কীভাবে স্থিতিশীলতা বজায় রাখছে?' তিনি দাবি করেন, বাস্তব চিত্র রাহুল গান্ধীর বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। ভারতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা প্রমাণে তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহার বৃদ্ধি, গাড়ি বিক্রি, ই-ওয়ে বিল তৈরির সংখ্যা, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি, খাদ্যশস্যের মজুত ও বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের মতো সূচকের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'এগুলো স্থিতিশীলতার লক্ষণ, প্রতিকূলতার নয়।' বিজেপি নেতা আরও বলেন, সরকার পেট্রল-ডিজেলে আবগারি শুল্ক হ্রাস, বিমান সংস্থা ও এমএসএমই সেক্টরে সহায়তার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। 'এগুলো শক অ্যাবজর্বার ভাঙার নয়, বরং শক্তিশালী করার পদক্ষেপ,' উল্লেখ করেন তিনি। অমিত মালব্য কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স (ইউপিএ) সরকারের আমলের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ২০১১-১৩ সালে টাকার মূল্য ৩৬ শতাংশ কমেছিল এবং ২০০৪-২০১৪ অর্থবর্ষে গড় মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৮.২ শতাংশ। 'কংগ্রেস যেখানে ভারতকে দুর্বল করেছিল, সেখানে মোদী সরকার বারবার আসা বৈশ্বিক ধাক্কা সামলেছে,' দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী সরকারের আমলে কোভিড-১৯ মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের মতো একাধিক বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে। রাহুল গান্ধীকে উদ্দেশ করে অমিত মালব্য বলেন, 'অযথা আতঙ্ক ছড়ানো বন্ধ করা উচিত। ভারত নানা বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও শক্তিশালী বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার, নিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি, উন্নত অবকাঠামো, শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, রেকর্ড এফডিআই, পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত এবং শিল্প ও এমএসএমই-র জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার মাধ্যমে সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে।' অন্যদিকে, জরুরি অবস্থা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী লালন সিং রাহুল গান্ধীকে মনে করিয়ে দেন যে, তাঁর ঠাকুমা ইন্দিরা গান্ধী দেশে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন। তিনি বলেন, 'ঠিক এই কারণেই জরুরি অবস্থার কথা তাঁর মনে ঘুরপাক খায়। প্রধানমন্ত্রী মোদী গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, কংগ্রেস রাজতান্ত্রিক শাসনে বিশ্বাসী।' তেলাঙ্গানা বিজেপি প্রধান এন রামচন্দর রাও বলেন, 'কংগ্রেস দলেরই জরুরি অবস্থার মানসিকতা রয়েছে।'
E-Paper

