BJP MP daughter: 'ডিলিট করব না!' নিট-আন্দোলনের পাশে দাঁড়াতেই উধাও BJP সাংসদের মেয়ের ইনস্টাগ্রাম
BJP MP daughter: এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয় যে, পোস্টটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর অর্চিতা সারঙ্গীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর সক্রিয় দেখা যায়নি।
BJP MP daughter: রাস্তায় ছাত্রবিক্ষোভ থেমেছে ঠিকই, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই আঁচ এখনও রয়েছে! শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার পর এবার নেটপাড়ায় নতুন চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছেন খোদ বিজেপি নেতা-নেত্রীদের ছেলেমেয়েরা। কার্যত দলের মতামতের তোয়াক্কা না করে সরাসরি সাধারণ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন তাঁরা।

সম্প্রতি কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে তা মুছে ফেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গীর মেয়ে অর্চিতা সারঙ্গী। তাঁর এই পোস্ট ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার দিল্লির জন্তর মন্তরে শিক্ষার্থী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর অর্চিতা সারঙ্গী ইনস্টাগ্রামে সেই খবর শেয়ার করেন। পরে তিনি আরেকটি স্টোরিতে দাবি করেন, আগের পোস্টটি মুছে ফেলার জন্য তার ওপর চাপ দেওয়া হচ্ছে। ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে অর্চিতা লেখেন, 'ধর্মেন্দ্র প্রধানের পিএ, যিনি নিশ্চিতভাবেই আমার মাকে মেসেজ করে আগের স্টোরি মুছে ফেলতে বলবেন (এটি আগেও হয়েছে), তিনি কষ্ট করবেন না। আমি পোস্টটি মুছব না। জয় জগন্নাথ! জয় হিন্দ!'
এই মন্তব্যের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় জল্পনা শুরু হয় যে, পোস্টটি সরিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর অর্চিতা সারঙ্গীর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট আর সক্রিয় দেখা যায়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টটি ডিঅ্যাক্টিভেট করা হয়েছে। তবে অ্যাকাউন্টটি কেন অদৃশ্য হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা সারঙ্গী ধর্মেন্দ্র প্রধানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের মাধ্যমে ধর্মেন্দ্র প্রধান সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। শনিবার দুপুরে ধর্মেন্দ্র প্রধান কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করেন। পরে 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি)-এর নেতৃত্বে চলা ৩৬ দিনের আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। সরকার আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে বলে সিজেপি দাবি করে।
এদিকে, আন্দোলন প্রত্যাহারের আগে সিজেপি সরকারের কাছে শিক্ষার্থী আন্দোলনে অংশ নেওয়া কারও বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া এবং নিট প্রশ্নফাঁসের পর আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ থাকা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছিল। আন্দোলনকারীদের দাবি, সরকারের সঙ্গে বৈঠকের পর এসব দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর দিল্লিতে চলা বিক্ষোভ আন্দোলন আপাতত শান্ত হলেও, অন্তর্জালের দুনিয়ায় তার রেশ এতটুকুও কাটেনি। ভাইরাল হওয়া স্ক্রিনশট, ভিডিও এবং রাজনৈতিক পরিবারের সদস্যদের এমন বিদ্রোহী মনোভাব নিয়ে জোর চর্চা চলছে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া এইসব দাবির সবগুলোর সত্যতা যাচাই করা যায়নি, তবুও এই ঘটনাগুলো বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, এবারের ছাত্র আন্দোলনের ঢেউ শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই আটকে থাকেনি, তা সজোরে ধাক্কা দিয়েছে খোদ নেতামন্ত্রীদের অন্দরমহলেও।
E-Paper

