Bangladesh Parliament: 'হিন্দুদেরই দেশ ছিল!' বাংলাদেশে রাম মূর্তির নির্মাণ বিতর্কে সংসদে সওয়াল বিএনপি MP'র

Bangladesh Parliament: ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার না বানিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। সংসদে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হিন্দুরা কী বাংলাদেশে থাকবে না? তারা কী বাংলাদেশের নাগরিক নন?

Published on: Jun 26, 2026, 22:09:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Bangladesh Parliament: বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সেখানকার সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে ফের বড়সড়ো প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হলো।নির্মাণকাজ শেষ হলে এটিই হত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভগবান রামের মূর্তি। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ মন্দির চত্বরে নির্মীয়মাণ ভগবান রামের মূর্তির উচ্চতা ৮১ ফুট। তবে কট্টরপন্থী ইসলামি সংগঠনগুলোর হুমকির মুখে ভগবান রাম মূর্তির নির্মাণকাজ। ইতিমধ্যেই মূর্তিটির প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু আপাতত সেই কাজ বন্ধ করা হয়েছে। তারপরেও মূর্তি অপসারণের দাবিতে প্রায় রোজই গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় মন্দির চত্বরের আশপাশে মিটিং মিছিল করছে উগ্র ইসলামিক সংগঠনগুলি। এই আবহে রামমূর্তি নির্মাণে বাধা দানের ঘটনার প্রতিবাদ করে বাংলাদেশ সংসদে জোরালো বক্তব্য পেশ করেছেন বিএনপি'র কিশোরগঞ্জ ৪ আসনের এমপি ফজলুর রহমান।

বাংলাদেশে রাম মূর্তির নির্মাণ বিতর্কে সংসদে সওয়াল বিএনপি MP'র (সৌজন্যে টুইটার)
বাংলাদেশে রাম মূর্তির নির্মাণ বিতর্কে সংসদে সওয়াল বিএনপি MP'র (সৌজন্যে টুইটার)

ধর্মকে ব্যবসার হাতিয়ার না বানিয়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। সংসদে তিনি প্রশ্ন তোলেন, হিন্দুরা কী বাংলাদেশে থাকবে না? তারা কী বাংলাদেশের নাগরিক নন? সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন ১২০৪ খ্রিস্টাব্দের আগে বাংলাদেশ হিন্দু এবং বৌদ্ধদের দেশ ছিল! আজ থেকে ১৪০০ বছর আগে তো এটা হিন্দুদেরই দেশ ছিল! মুসলিমরা অনেক পরে বর্তমান বাংলাদেশের ভৌগোলিক এলাকায় বসবাস শুরু করেন। সংসদে পলাশবাড়ীর ঘটনা নিয়ে ফজলুর রহমান বলেন, একটি রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে ঢাকায় শাহবাগে অন্যদিকে পলাশবাড়ীতে এবং অন্যত্র রোজ মিটিং মিছিল হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন মূর্তি নির্মাণে আপত্তি করা হচ্ছে কেন?

গাইবান্ধা ইস্যুতে সংসদে তিনি বলেন, ‘তাদের পোশাকটা দেখলেই বুঝি আমি, তারা কারা। সেই পোশাকি লোকজনের সংখ্যা এখন বেড়ে গেছে। এমন বাড়া বাড়ছে যে তারা পৃথিবীর কোনও সভ্যতা, সংস্কৃতি-কোনও কিছু শুনতে চায় না। কোনও কথা শুনতে চায় না। ধর্মকে নিয়ে শুধু ব্যবসা করতে চায়। তারা হলো ধর্ম ব্যবসায়ী।’ তিনি আরও বলেন, তারা বলছে মালাউনরা (হিন্দুদের প্রতি অবমাননা শব্দ) বাংলাদেশ থেকে চলে যাও। হিন্দুরা বাংলাদেশ থেকে চলে যাও। এখানে রাম মন্দির করা চলবে না, ইত্যাদি। ফজলুর রহমান ভাষণ দেওয়ার সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। গাইবান্ধা রাম মন্দির বিতর্ক নিয়ে বাংলাদেশ সরকার এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে সংসদে কোনও বিবৃতি দেয়নি। তবে মন্দির প্রাঙ্গণের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন আছে। কিন্তু হিন্দু সংগঠনগুলির দাবি অবিলম্বে মূর্তি নির্মাণের কাজ শুরু করতে দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে বিএনপি সাংসদ বলেন, 'সরকার যদি মনে করে সেখানে মন্দির বা রামমূর্তি নির্মাণ ঠিক হবে না, তাহলে তা বন্ধ করে দিতে পারে। বলুন এদেশে মন্দির করা যাবে না মূর্তি গড়া যাবে না।' তবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি, ওই ১০০ না, ৩০০ মন্দির-মূর্তি বানাক, আমি মুসলিম, আমার কী আইলো-গেল (আসলো-গেল)? আমি তো ওই দিকে তাকাই না। আমি প্রয়োজনে ২৫ তলা মসজিদ করব। অসুবিধা কী? ওরা মন্দিরে পুজো করবে, আমি আমার মসজিদে নমাজ পড়ব। অসুবিধা কী? একসঙ্গে কী আমরা থাকব না?’ ফজলুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, 'আমরা কী একসাথে থাকব না? হিন্দুরা নয় শতাংশ মানুষ। দেড় দেড় কোটি মানুষ। ওরা কী এদেশে থাকবে না! এটা তো তাদেরও দেশ। চৌদ্দ পুরুষ আগে তো এটা তাদেরই দেশ ছিল। ‌১২০৪ খ্রিস্টাব্দের আগে এটা হিন্দু এবং বৌদ্ধদের দেশ ছিল। আমরা মুসলমানরা এখানে কীভাবে এসেছি? আমরা এসেছি সুফিবাদের প্রবর্তক খাজা মইনুদ্দিন চিশতী রাহমাতুল্লাহ, খাজা নিজাম উদ্দিন চিশতি, হজরত শাহজালালের হাত ধরে। সুফিবাদ বলেছে, শোন রে মানুষ ভাই, সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপরে নাই। কিন্তু গাইবান্ধায় যারা রাম মন্দিরে বিরোধিতা করছে তারা সুফিবাদকে মানে না। তারা মাজারও ভেঙে দিয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, ‘পীর সাহেবদের দোষটা কী? কুষ্টিয়াতে কুপাইয়া মারলেন কেন? ফরিদপুরে আগুন জ্বালায়া মারলেন কেন? শাহজালালের মাজার ভাঙার জন্য আমার এক ভাই চার কোটি টাকা ঘোষণা করে কেন?' ফজলুর রহমান বলেন, এখানে মাজার থাকবে, মন্দির থাকবে। বিএনপি'র এই সাংসদ বরাবরই একটু ভিন্ন ধারার রাজনীতিবিদ বলে পরিচিত। দলের বিরুদ্ধেও নানান সময়ে মুখ খুলে তিনি বেশ কয়েকবার শাস্তির মুখেও করেছেন। তবে এরপরও তিনি বরাবর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ধর্মনিরপেক্ষতা নিয়ে সরব। এই কারণে বাংলাদেশের ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর নিশানায় রয়েছেন এই মুক্তিযোদ্ধা রাজনীতিক তথা সাংসদ।