Madhya Pradesh: ফিরল নীল ড্রাম বীভিষিকা! মধ্যপ্রদেশে নাবালকের গলাকাটা দেহ উদ্ধার, বাড়ছে রহস্য
Madhya Pradesh: পুলিশের এক আধকারিক জানিয়েছেন, নীল ড্রামের মধ্যেই শিশুর গলাকাটা দেহ উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা খুন করল তাকে, সে নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে।
Madhya Pradesh: আবার ফিরল সেই নীল ড্রাম আতঙ্কের স্মৃতি। উত্তরপ্রদেশের নীল ড্রামের ঘটনা এখনও দেশবাসী ভোলেনি। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে মুসকান নামের এক মহিলা নিজের স্বামীকে খুন করে ভরে রেখেছিল নীল ড্রামে। নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে শিউরে উঠেছিল দেশবাসী। সেই স্মৃতি ফিরল আরও একবার। বাবার সঙ্গে তার ১১ বছরের ছেলেকে খুনের অভিযোগ উঠেছে লন্ড্রি দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে। খুনের পর বাড়িতেই তার নাবালক ছেলের দেহ নীল ড্রামে ভরে রেখে যায় অভিযুক্ত।

পুলিশ সূত্রে খবর, নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলায়। নিহত নাবালকের মা বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন। জানা গিয়েছে, সোমবার আশা রাজাক ও তার মেয়ে বাড়িতে পৌঁছানোর মুহূর্তেই বুঝতে পারে কিছু একটা অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছে। কারণ বাইরে থেকে দরজায় তালা দেওয়া থাকলেও ভেতরে চলছিল কুলার এবং আলো জ্বলছিল। পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করা ১১ বছরের ছেলে দরজা খুলবে আশা করলেও, কোনও সাড়া না পেয়ে আশা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মনের মধ্যে খারাপ চিন্তা ভিড় করতে শুরু করে। তিনি ভাবতে থাকেন তাঁর ছেলে হয়তো আশেপাশেই আছে। এই আশায় মহিলা আর তার মেয়ে পাগলের মতো ছেলেকে খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু সন্তানের কোনও খোঁজ না পেয়ে অস্বস্তি বাড়তে থাকায় বিপর্যস্ত আশা পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়ির তালা ভাঙার পর ভেতরে ঘটনা দেখে স্তম্ভিত হয়ে যান সকলে।
দরজা খুলে দেখা যায়, দেওয়াল ও একটি বালিশে লেগে রয়েছে রক্তের ছোপ। সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যে, ঘরের এক কোণে রাখা একটি নীল প্লাস্টিকের ড্রাম সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেখান থেকে রক্ত চুইয়ে পড়ছিল। পুলিশের এক আধকারিক জানিয়েছেন, সেই ড্রামের মধ্যেই ওই শিশুর গলাকাটা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কে বা কারা খুন করল তাকে, সে নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। তবে পরিবারের লোক সন্দেহ করেন স্থানীয় এক যুবককে। তিনি এলাকার এক লন্ড্রি দোকানের মালিক মথুরা রাজাক। তার দোকান বন্ধ দেখে আশার সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। পরিবারের দাবি, মহারাষ্ট্রে কর্মরত ওই শিশুর বাবা রমেশ রাজাকের সঙ্গে বিবাদের জেরে মথুরা খুনের হুমকি দিয়েছিল। তাঁদের আরও অভিযোগ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে মথুরা বিভিন্ন প্রকারে আশাকে হেনস্থা করত। যার জেরে প্রায় দশ দিন আগে তাদের মধ্যে চরম বিবাদ হয়। তবে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মথুরা নিখোঁজ। অভিযুক্তকে খুঁজে বের করতে স্থানীয় পুলিশ তিনটি দল গঠন করেছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করেছে এবং দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ১০৩ ধারা (খুন)-এর অধীনে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
E-Paper

