Mumbai Durga Puja 2026: মুম্বইয়ের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শারদোৎসব 'বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতি' এ বছর পদার্পণ করল ৯৭ তম বর্ষে। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হওয়ায় এই বঙ্গীয় সংস্কৃতির মেলবন্ধন আজ কেবল মুম্বইয়ের বাঙালিদের উৎসব নয়, বরং সমগ্র শহরের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রতি বছরের মতো এবারও দক্ষিণ মুম্বইয়ের ঐতিহাসিক 'তেজপাল হল'-এ জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশ ও আধ্যাত্মিক ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গোৎসব।
'শক্তি — শান্তির প্রতীক, বিনাশের নয়': ২০২৬ সালের মূল ভাবনা

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলা সংঘাত অনিশ্চয়তা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতির এই বছরের থিম- ‘শক্তি - শান্তি পুনর্প্রতিষ্ঠার প্রতীক, বিনাশের নয়’।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার কালজয়ী বাণী ও ভগবান কৃষ্ণের প্রদর্শিত 'ধর্মসংস্থাপনার্থায়' আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই ভাবনার অবতারণা করা হয়েছে। গীতার জ্ঞান ও বার্তা এবং দেবী দুর্গার মহিষাসুরমর্দিনী রূপের ঐশ্বরিক শক্তি—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, শক্তি কখনও ধ্বংস বা শোষণের হাতিয়ার হতে পারে না। প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে জীবন রক্ষা, ধর্ম পালন এবং বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধি ফিরিয়ে আনার মধ্যে।
সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব মণ্ডপ তৈরি করা হয়েছে
এবার মণ্ডপও হয়েছে পরিবেশবান্ধব। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপ সজ্জা এবং প্রতিমা তৈরিতে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ফ্রেন্ডলি উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের প্রতি সমিতির দায়বদ্ধতার প্রমাণ। কারণ এখন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতিতে পুজোর পাশাপাশি এরকম অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। যেমন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
{{/usCountry}}এবার মণ্ডপও হয়েছে পরিবেশবান্ধব। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, মণ্ডপ সজ্জা এবং প্রতিমা তৈরিতে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব বা ইকো-ফ্রেন্ডলি উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা পরিবেশের প্রতি সমিতির দায়বদ্ধতার প্রমাণ। কারণ এখন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতিতে পুজোর পাশাপাশি এরকম অনেক বিষয় নিয়ে কাজ করা হয়। যেমন দুঃস্থ ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
{{/usCountry}}আর পুজোর বিষয়ে বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতির সভাপতি পার্থ সেন বলেছেন, ‘৯৭ বছর কেবল একটি দীর্ঘ সময়সীমা নয়; এটি সেবা, সহানুভূতি এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লালিত মূলবোধের এক ধারাবাহিক যাত্রা। শ্রীকৃষ্ণ যেভাবে জ্ঞানের মাধ্যমে ধর্মের পথ দেখিয়েছেন, মা দুর্গা সেই ধর্ম ও ন্যায়কে বাস্তবে রূপদান করেন। বিশ্বজুড়ে ভয় ও লোভের পরিবেশে আমাদের এই উৎসব স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আসল রূপান্তর শুরু হয় নিজের ভিতর থেকে। শতবর্ষ উদযাপনের পথে আমরা আমাদের সমাজসেবামূলক ট্রাস্টের জন্য দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের লক্ষ্য গ্রহণ করেছি।’
অন্যদিকে সমিতির চেয়ারপার্সন মিতালী পোদ্দার বলেন, ‘তেজপাল হলের এই দুর্গোৎসব বহু মানুষের কাছে ঘরের অনুভূতি এনে দেয়। কলকাতার ঐতিহ্যবাহী কারিগরদের হাতে তৈরি প্রতিমা, নিখুঁত আচার-অনুষ্ঠান এবং কলকাতার বিশেষ ঠাকুরদের হাতে তৈরি ভোগ এই পুজোর অন্যতম প্রাণ। আমাদের মহিলা সদস্যরা পরম মমতায় দর্শনার্থীদের ভোগ পরিবেশন করেন। শক্তি যখন প্রজ্ঞার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখনই জগতে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়—এই বার্তাই আমরা মুম্বইবাসীর সামনে তুলে ধরতে চাই।’
মুম্বইয়ে বাঙালি সংস্কৃতির জয়গান
বম্বে দুর্গা বাড়ি সমিতির দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য। উৎসবের দিনগুলিতে তেজপাল অডিটোরিয়ামে পরিবেশিত হবে রবীন্দ্রসঙ্গীত, লোকসংগীত, ধ্রুপদী নৃত্য ও নাটক। কলকাতার প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের পাশাপাশি মুম্বইয়ের স্থানীয় সাংস্কৃতিক দল ও শিল্পীরা এই মঞ্চে অংশ নেবেন।