NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপের পথে কেন্দ্র, ১০ বছরের জেল ও ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব
সূত্রের খবর, নতুন সংশোধনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিধান যুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
নিট (NEET) প্রশ্নফাঁসকে ঘিরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় জালিয়াতি রুখতে আরও কঠোর আইন আনতে চলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। সরকারি সূত্রের দাবি, Public Examinations (Prevention of Unfair Means) Act, 2024-এ গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন আনার প্রস্তুতি চলছে। শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই সংশোধনী প্রস্তাবে অনুমোদন মিলতে পারে বলেও জানা গেছে। অনুমোদনের পর আগামী সোমবার লোকসভায় সংশোধনী বিল পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রের খবর, নতুন সংশোধনের মাধ্যমে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের বিধান যুক্ত করা হতে পারে। পাশাপাশি প্রশ্নফাঁস ও সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বর্তমানে দোষী সাব্যস্ত হলে ৩ থেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, গুরুতর বা সংগঠিত অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার বিধান আনা হতে পারে বলে সরকারি সূত্রের দাবি।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি ভিডিও বার্তায় প্রশ্নফাঁসকে 'লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রী ও তাঁদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক' বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, গত আড়াই মাসে সরকার একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং যাতে ছাত্রছাত্রীদের একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সেই লক্ষ্যে দ্রুত পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, অন্তত ২২ লক্ষ পরীক্ষার্থীর স্বার্থ রক্ষায় সরকার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করেছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, প্রশ্নফাঁসের মামলাগুলির দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলিকে ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে এবং মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সংসদে সংশোধনী বিল দ্রুত পাস করানোর চেষ্টা করা হবে।
এদিকে দিল্লি হাইকোর্টও সম্প্রতি প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলার দ্রুত শুনানির জন্য বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের উদ্যোগের কথা ঘোষণা করেছে। সরকারের নতুন পদক্ষেপকে সেই উদ্যোগেরই সম্প্রসারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, বিরোধী দল কংগ্রেস এই ইস্যুতে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন, গত ১০ বছরে দেশে প্রায় **১৫০টি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা** ঘটেছে, অথচ একটি ক্ষেত্রেও কার্যকর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা যায়নি। তাঁর অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ বারবার অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও বার্তার পরও রাহুল গান্ধী তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি বলেন, শুধু নতুন আইন বা কঠোর শাস্তির ঘোষণা যথেষ্ট নয়। ছাত্রছাত্রীদের আস্থা ফেরাতে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে আন্দোলনকারীরা মনে করছেন।
প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন, দ্রুত বিচার এবং বড় অঙ্কের জরিমানার প্রস্তাব কার্যকর হলে দেশের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই মনে করছে কেন্দ্র। তবে বিরোধীদের মতে, আইনের পাশাপাশি তার কার্যকর বাস্তবায়নই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


