CJP's march: সিজেপি-র অভিযান ঘিরে রণক্ষেত্র! সংসদ ভবন ত্যাগ PM মোদীর, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাসে উত্তপ্ত রাজধানী
CJP's Sansad Chalo march: নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের দক্ষিণ দিকের যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। এর জেরে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
CJP's Sansad Chalo march: সংসদ ভবনের ভিতরে চলছিল অধিবেশন। উপস্থিত ছিলেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ঠিক সেই সময় সংসদ ভবনের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র হাজার হাজার সমর্থক। মুহূর্তে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের রাজধানী। আর তার কিছুক্ষণ পরেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

সোমবার সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। অভিযোগ, সেই ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। ঘটনায় কয়েক জন বিক্ষোভকারী ও পুলিশকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। সংসদ ভবনের দিকে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফার সংঘর্ষ বাধে। এর পরেই আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার সামনের এলাকায়। প্রতিটি পয়েন্টেই পুলিশ ও আধা সেনাকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা যায়। রেল ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা চলতে থাকে। পুলিশ বারবার বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সংসদের দিকে মিছিলের অগ্রগতি আটকে দেওয়া হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের দক্ষিণ দিকের যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। এর জেরে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। মাণ্ডি হাউস-সহ কয়েকটি স্টেশনের ভিতরে ও বাইরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতেও দেখা যায়। মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ স্টেশনে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ ভবন এবং তার আশপাশের এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। যন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সংসদ ভবনের আশপাশে বর্তমানে ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। অনুমতি ছাড়া কোনও মিছিল বা সমাবেশ করার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে পুলিশ। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তাঁরা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানিয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। যদিও অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য মেলেনি। এদিকে, সিজেপির নেতৃত্ব দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় সরকার আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
E-Paper

