Chartered Accountant Success Story: কথায় আছে, ইচ্ছা আর জেদ থাকলে চরম দারিদ্র্য বা কঠিন পরিস্থিতিও মানুষের স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। এই আপ্তবাক্যটিকেই আবারও অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দেখালেন মুম্বইয়ের ২১ বছরের এক তরুণ। একসময় যে ছেলে বাবার সঙ্গে ভোররাতে মুম্বইয়ের রাস্তায় সবজি বিক্রি করতে যেতেন, আজ তিনি একজন সফল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)। শুধু তাই নয়, মাত্র ২১ বছরেই নিজের উপার্জনে বাবা-মায়ের মাথার ওপর তুলে দিয়েছেন ১ কোটি টাকার এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এই অদম্য লড়াইয়ের নায়ক হলেন অভিষেক বৈশ্য। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুশল লোধার একটি ইউটিউব ইন্টারভিউতে এসে অভিষেক নিজের এই অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।
মাত্র ১৫০ স্কোয়ার ফুটের ঘর থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

অভিষেকের ছোটবেলা কেটেছে মুম্বইয়ের অন্যতম জনবহুল এলাকা বিক্রোলির এক সংকীর্ণ চালের মধ্যে। মাত্র ১৫০ স্কোয়ার ফুটের একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন পরিবারের পাঁচজন সদস্য! সেখানে পড়াশোনা করার মতো আলাদা কোনও পরিবেশ বা স্বাচ্ছন্দ্য কিছুই ছিল না। অভিষেকের বাবা পেশায় ছিলেন সবজি বিক্রেতা। তাঁর দৈনিক আয় ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। কোনওদিন ২০০ টাকা লাভ হত, কোনওদিন ৪০০ টাকা, আবার কোনও-কোনও দিন লোকসানও হত। সবজি বিক্রি করে মাসে বড়জোর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘরে আসত। এই সামান্য আয়ে মুম্বইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে পাঁচ জনের সংসার চালানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।
রাত ৩টেয় সবজি বিক্রি, রাতে একটানা পড়াশোনা
১৩ বছর বয়স থেকেই অভিষেক বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই বাবার কষ্ট লাঘব করতে খেলাধুলোর বয়সেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দায়িত্ব। প্রতিদিন রাত ঠিক তিনটেয় ঘুম থেকে উঠে বাবার সঙ্গে মুম্বইয়ের দাদর সবজি মান্ডিতে চলে যেতেন তিনি। সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলত সবজি বিক্রির কাজ। এরপর সেখান থেকে সোজা চলে যেতেন স্কুলে, পরবর্তীকালে কলেজে। এমনকী সিএ আর্টিকেলেশিপ করার সময়ও এই রুটিনের কোনও নড়চড় হয়নি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর গভীর রাতে চলত পড়াশোনা।
অভিষেক জানান, সিএ পরীক্ষার ঠিক আগে যে তিন-চার মাসের ছুটির সময় পাওয়া যায়, সেই সময়টাকে তিনি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলেন। নিজের সমস্ত ক্লান্তি ভুলে জীবনের সবথেকে কঠিন এই পরীক্ষার জন্য তিনি দিনে গড়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।
২১ বছরেই বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ
ছোট্ট চালের ঘরে থাকার কষ্ট অভিষেককে ভেতর থেকে তাগিদ দিয়েছিল নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। কঠিন সিএ পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই তাঁর জীবন এক ধাক্কায় বদলে যায়। যখন তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর, তখনই তিনি জীবনের সবথেকে বড় ও সাহসী পদক্ষেপটি নেন। থানেতে নিজের বাবা-মায়ের জন্য ১ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘আমি সবসময় চেয়েছিলাম আমার বাবা-মা যেন একটা ভালো এবং খোলামেলা জায়গায় সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন। সেই কারণেই মাত্র ২১ বছর বয়সে আমি এই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। আমি আমার বাবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ হাজার কষ্টের মধ্যেও তিনি আমাদের সুশিক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করেননি।’
আজ তিনি আন্তর্জাতিক সফল উদ্যোগপতি
এই কঠিন মাটি থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ের পর অভিষেকের কেরিয়ার গ্রাফ আজ আকাশছোঁয়া। কেরিয়ারের শুরুতে ওমানে প্রথম চাকরিতেই তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১.৫ লাখ টাকা, যা পরবর্তীকালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২.৫ লাখ টাকায়। কিন্তু তিনি চাকরিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। দীর্ঘ ছয় বছর কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করার পর নিজের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে অভিষেক ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সফলভাবে নিজস্ব সিএ প্র্যাকটিস ও কনসালটেন্সি ফার্ম চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ওমানে তাঁর একটি ক্লাউড কিচেন বিজনেসও রয়েছে।