...
...
Next Story

Chartered Accountant Success Story: বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি, ১৮ ঘণ্টা পড়ে CA অভিষেক, ২১ বছরেই ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট

Chartered Accountant Success Story: বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি, ১৮ ঘণ্টা পড়ে CA অভিষেক, ২১ বছরেই এক কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে দিলেন বাবা-মা'কে। আর সেই অভিষেক বৈশ্যের সাফল্যের কাহিনী আজ এক উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন।

Published on: Jun 9, 2026, 19:59:31 IST
Advertisement

Chartered Accountant Success Story: কথায় আছে, ইচ্ছা আর জেদ থাকলে চরম দারিদ্র্য বা কঠিন পরিস্থিতিও মানুষের স্বপ্নের পথে বাধা হতে পারে না। এই আপ্তবাক্যটিকেই আবারও অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করে দেখালেন মুম্বইয়ের ২১ বছরের এক তরুণ। একসময় যে ছেলে বাবার সঙ্গে ভোররাতে মুম্বইয়ের রাস্তায় সবজি বিক্রি করতে যেতেন, আজ তিনি একজন সফল চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (CA)। শুধু তাই নয়, মাত্র ২১ বছরেই নিজের উপার্জনে বাবা-মায়ের মাথার ওপর তুলে দিয়েছেন ১ কোটি টাকার এক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। এই অদম্য লড়াইয়ের নায়ক হলেন অভিষেক বৈশ্য। সম্প্রতি কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুশল লোধার একটি ইউটিউব ইন্টারভিউতে এসে অভিষেক নিজের এই অবিশ্বাস্য জীবনযুদ্ধের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছেন।

মাত্র ১৫০ স্কোয়ার ফুটের ঘর থেকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন

বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি, ১৮ ঘণ্টা পড়ে CA অভিষেক, ২১ বছরেই ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট  কিনে দিলেন বাবা-মা'ক। (ছবিটি প্রতীকী, ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)
বাবার সঙ্গে সবজি বিক্রি, ১৮ ঘণ্টা পড়ে CA অভিষেক, ২১ বছরেই ১ কোটি টাকার ফ্ল্যাট কিনে দিলেন বাবা-মা'ক। (ছবিটি প্রতীকী, ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)

অভিষেকের ছোটবেলা কেটেছে মুম্বইয়ের অন্যতম জনবহুল এলাকা বিক্রোলির এক সংকীর্ণ চালের মধ্যে। মাত্র ১৫০ স্কোয়ার ফুটের একটি ছোট্ট ঘরে গাদাগাদি করে থাকতেন পরিবারের পাঁচজন সদস্য! সেখানে পড়াশোনা করার মতো আলাদা কোনও পরিবেশ বা স্বাচ্ছন্দ্য কিছুই ছিল না। অভিষেকের বাবা পেশায় ছিলেন সবজি বিক্রেতা। তাঁর দৈনিক আয় ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। কোনওদিন ২০০ টাকা লাভ হত, কোনওদিন ৪০০ টাকা, আবার কোনও-কোনও দিন লোকসানও হত। সবজি বিক্রি করে মাসে বড়জোর ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা ঘরে আসত। এই সামান্য আয়ে মুম্বইয়ের মতো ব্যয়বহুল শহরে পাঁচ জনের সংসার চালানো এবং সন্তানদের পড়াশোনা করানো কতটা কঠিন, তা সহজেই অনুমেয়।

রাত ৩টেয় সবজি বিক্রি, রাতে একটানা পড়াশোনা

১৩ বছর বয়স থেকেই অভিষেক বুঝতে পেরেছিলেন যে তাঁর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। তাই বাবার কষ্ট লাঘব করতে খেলাধুলোর বয়সেই কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন দায়িত্ব। প্রতিদিন রাত ঠিক তিনটেয় ঘুম থেকে উঠে বাবার সঙ্গে মুম্বইয়ের দাদর সবজি মান্ডিতে চলে যেতেন তিনি। সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত চলত সবজি বিক্রির কাজ। এরপর সেখান থেকে সোজা চলে যেতেন স্কুলে, পরবর্তীকালে কলেজে। এমনকী সিএ আর্টিকেলেশিপ করার সময়ও এই রুটিনের কোনও নড়চড় হয়নি। সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর গভীর রাতে চলত পড়াশোনা।

অভিষেক জানান, সিএ পরীক্ষার ঠিক আগে যে তিন-চার মাসের ছুটির সময় পাওয়া যায়, সেই সময়টাকে তিনি পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলেন। নিজের সমস্ত ক্লান্তি ভুলে জীবনের সবথেকে কঠিন এই পরীক্ষার জন্য তিনি দিনে গড়ে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: চায়ের দোকানে কাজ থেকে IAS! কোচিং ছাড়াই ৩ বার UPSC ক্র্যাক হিমাংশু, কীভাবে সফল?

২১ বছরেই বাবা-মায়ের স্বপ্নপূরণ

ছোট্ট চালের ঘরে থাকার কষ্ট অভিষেককে ভেতর থেকে তাগিদ দিয়েছিল নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করার। কঠিন সিএ পরীক্ষায় সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেই তাঁর জীবন এক ধাক্কায় বদলে যায়। যখন তাঁর বয়স মাত্র ২১ বছর, তখনই তিনি জীবনের সবথেকে বড় ও সাহসী পদক্ষেপটি নেন। থানেতে নিজের বাবা-মায়ের জন্য ১ কোটি টাকার একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। অভিষেক বলেন, ‘আমি সবসময় চেয়েছিলাম আমার বাবা-মা যেন একটা ভালো এবং খোলামেলা জায়গায় সম্মানজনকভাবে বাঁচতে পারেন। সেই কারণেই মাত্র ২১ বছর বয়সে আমি এই ঝুঁকিটা নিয়েছিলাম। আমি আমার বাবার কাছে চিরকৃতজ্ঞ। কারণ হাজার কষ্টের মধ্যেও তিনি আমাদের সুশিক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করেননি।’

আরও পড়ুন: UPSC Success Story Mental Tips: ব্যর্থতার পরে বন্ধুর পরামর্শেই ঘুরে যায় মোড়, কীভাবে কৌশল পালটে UPSC-তে সফল আকাশ?

আজ তিনি আন্তর্জাতিক সফল উদ্যোগপতি

এই কঠিন মাটি থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ের পর অভিষেকের কেরিয়ার গ্রাফ আজ আকাশছোঁয়া। কেরিয়ারের শুরুতে ওমানে প্রথম চাকরিতেই তাঁর মাসিক বেতন ছিল ১.৫ লাখ টাকা, যা পরবর্তীকালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ২.৫ লাখ টাকায়। কিন্তু তিনি চাকরিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। দীর্ঘ ছয় বছর কর্পোরেট সংস্থায় কাজ করার পর নিজের ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে অভিষেক ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে সফলভাবে নিজস্ব সিএ প্র্যাকটিস ও কনসালটেন্সি ফার্ম চালাচ্ছেন। পাশাপাশি ওমানে তাঁর একটি ক্লাউড কিচেন বিজনেসও রয়েছে।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe