US-Iran peace deal: শান্তিচুক্তি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনে তীব্র মতভেদ! ইরানের প্রতিশ্রুতি রক্ষা নিয়ে সংশয়ে CIA
US-Iran peace deal: অ্যাক্সিওস-র প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (মউ) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভ্যন্তরে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে।
US-Iran peace deal: অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সমস্ত শর্তই ইরান মেনে নেবে কিনা, তা নিয়ে সংশয়ী মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘অ্যাক্সিওস’-এর প্রতিবেদনে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

অ্যাক্সিওস-র প্রতিবেদন অনুসারে, ইরানের সঙ্গে করা সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক (মউ) নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অভ্যন্তরে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সংগৃহীত তথ্যকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প-সহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন, চুক্তির চূড়ান্ত শর্ত অনুযায়ী ইরান পরমাণু কর্মসূচিতে ছাড় দিতে কতটুকু রাজি-তা নিয়ে গভীর সন্দেহ রয়েছে। একটি সূত্র জানিয়েছে, 'গোয়েন্দা তথ্য স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের আসল উদ্দেশ্য চুক্তির অধীনে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।' শুধু সিআইএ প্রধানই নন, ট্রাম্পের শীর্ষ টিমের আরও অনেকেই এই চুক্তি নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। সূত্রের খবর, মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ গত রবিবার ঘোষিত এই শান্তি চুক্তি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং দুই বিশেষ মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার এই চুক্তি নিয়ে আত্মবিশ্বাসী এবং এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন।
১৪ দফার এই প্রাথমিক চুক্তির পূর্ণাঙ্গ পাঠ এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে একটি সূত্র দাবি করেছে, ইরান এই চুক্তির মাধ্যমে দেওয়ার চেয়ে অনেক বেশি সুবিধা পাচ্ছে-যদি না তারা শেষ পর্যন্ত মার্কিন উদ্দেশ্য পূরণকারী একটি পারমাণবিক চুক্তিতে সই করতে সম্মত হয়। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম উদ্বেগ প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস-কে বলেন, 'চুক্তিটি নিয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি এবং মার্কিন আলোচনা দলের দাবির মধ্যে অমিল দেখে আমি কিছুটা শঙ্কিত।' তিনি অবিলম্বে এই নথিটি প্রকাশের দাবি জানান। তবে বেশ কয়েকটি মার্কিন ও ইরানি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে যে, পারমাণবিক বিষয়টি শর্তসাপেক্ষ হলেও, হরমুজ প্রণালী দ্রুত উন্মুক্ত করার কথা বলা হয়েছে এই সমঝোতায়। ইরান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য কোনও ধরনের ফি ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে তাদের নৌ-অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেবে। এছাড়া ওমান এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সহযোগিতায় এই প্রণালীর ভবিষ্যৎ নৌ-পরিষেবা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচালনার জন্য আলোচনা করবে ইরান। অবশ্য ৬০ দিন পর ট্রানজিট ফি আদায়ের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ইরানের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত হয়ে গেলেও চূড়ান্ত সইসাবুদ এখনও বাকি রয়েছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের কাছে কোনও পরমাণু অস্ত্র থাকবে না।
এদিকে, এনবিসি-র ‘নাইটলি নিউজ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, এই চুক্তির অন্যতম মূল অংশ হলো, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরিদর্শকরা ইরানকে তার উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ নির্মূল করতে সহায়তা করবে। রবিবার স্বাক্ষরিত এই প্রাথমিক চুক্তিটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীরা এটিকে একটি বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরলেও, গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরে ভিন্ন ভিন্ন মত। প্রশাসন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানো এবং তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব কিনা, সে বিষয়ে এখনও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়ে গিয়েছে।
E-Paper

