CJP Protest Update: রাতে ফের পুলিশের ওপর পাথর ছোড়ার অভিযোগ যন্তর মন্তরে, আহত একাধিক অফিসার, নিরাপত্তা জোরদার দিল্লিতে
দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ একদল বিক্ষোভকারী হঠাৎ এগিয়ে আসে। এরপর তারা কর্তব্যরত পুলিশ ও RAF জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও বোতল ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ, কয়েকজনের হাতে লাঠি, তলোয়ার এবং খুখরিও ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
CJP Protest Stone Pelting: দিল্লির যন্তর মন্তরে চলতে থাকা বিক্ষোভ ঘিরে বুধবার রাতে বড় ধরনের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী ও র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF)-এর জওয়ান আহত হন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটাতে হয়। ঘটনার পর গোটা এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের দাবি, বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ যন্তর মন্তরের কাছের টলস্টয় মার্গ থেকে সংসদ মার্গের দিকে একদল বিক্ষোভকারী হঠাৎ এগিয়ে আসে। এরপর তারা কর্তব্যরত পুলিশ ও RAF জওয়ানদের লক্ষ্য করে ইট-পাথর ও বোতল ছুড়তে শুরু করে। পুলিশের অভিযোগ, কয়েকজনের হাতে লাঠি, তলোয়ার এবং খুখরিও ছিল, যা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী ও RAF মোতায়েন করা হয়। নিরাপত্তারক্ষীরা বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। পাশাপাশি সীমিত সংখ্যক কাঁদানে গ্যাসের শেলও ব্যবহার করা হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দিল্লি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে অন্তত এক ডজন পুলিশকর্মী ও RAF জওয়ান আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু'জন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ACP), দু'জন ইনস্পেক্টর এবং আরও কয়েকজন পুলিশকর্মী রয়েছেন। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। পুলিশের দাবি, কনট প্লেস এলাকার ACP-ও পাথরের আঘাতে আহত হন।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে জানা যাচ্ছে যে, বিক্ষোভের ভিড়ে কিছু সমাজবিরোধী ব্যক্তি ঢুকে পড়েছিল। তারাই ইট-পাথর ছোড়া এবং হিংসাত্মক কর্মকাণ্ডে উসকানি দিয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে বিক্ষোভকারীদের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তাঁর দাবি, সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের অনশন এবং আন্দোলনকে সফল করতে তারা পিছিয়ে আসবেন না। সরকার দাবি না মানা পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা করেছেন তিনি।
অন্যদিকে, বিক্ষোভ চলাকালীন এক মহিলা আন্দোলনকারীকে চড় মারার অভিযোগ ওঠে অতিরিক্ত ডিসিপি সন্দীপ লাম্বার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়েও প্রশাসনিক তদন্ত শুরু হয়েছে।
পরিস্থিতির জেরে রাজধানীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করা হয়েছে। যন্তর মন্তর ও সংলগ্ন এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও RAF মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে লোক কল্যাণ মার্গ, প্যাটেল চক, জনপথ, আইটিও, দিল্লি গেট, খান মার্কেট, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট-সহ একাধিক মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে রাজীব চক, মান্ডি হাউস এবং সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েটে ইন্টারচেঞ্জ পরিষেবা চালু রয়েছে।
দিল্লি পুলিশ বারবার সাধারণ মানুষকে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছে। একই সঙ্গে হিংসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন। রাজধানীর পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


