PM Narendra Modi: পরিবেশন মুখ্যমন্ত্রীর, রসনাতৃপ্তি প্রধানমন্ত্রীর! বাংলার ঝালমুড়ির দিল্লিযাত্রা
PM Narendra Modi: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় এসে ঝালমুড়ি খান নরেন্দ্র মোদী। ঝাড়গ্রামের বিক্রেতার থেকে কিনে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বলেছিলেন, 'ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।'
PM Narendra Modi: রাজনীতির রুখাশুখা ময়দানে ফের চর্চায় ঝালমুড়ি। পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোটের প্রচারে ঝাড়গ্রামে এসে ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এবার ভারত মণ্ডপমে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিজে হাতে তৈরি করে ঝালমুড়ি খাওয়ালেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুধু তাই নয়, এই ঝালমুড়ি অত্যন্ত সুস্বাদু বলেই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী। ঝালমুড়ি তৈরি করে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান প্রধানমন্ত্রী মোদী। ফলে বাংলায় বিধানসভা রাজনীতিতে বড় ভূমিকা রাখা ঝালমুড়ি যে এখন দিল্লিতেও হট ফেভারিট তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

একটানা ভারতের ‘দীর্ঘতম’ সময়ের প্রধানমন্ত্রী থাকার রেকর্ড গড়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এরমধ্যেই বুধবার এনডিএ মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বৈঠকের উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও। ভারত মণ্ডপমে ওই অনুষ্ঠানের ফাঁকে আরও একবার ঝালমুড়ি চেখে দেখেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। আর তাঁকে রীতিমতো বাটিতে ঝালমুড়ি সার্ভ করেন খোদ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এদিন প্রধানমন্ত্রী মোদী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা যাচ্ছে, ঝালমুড়ির স্টলে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর টেবিলের ওপার থেকে শালপাতায় করে প্রধানমন্ত্রীকে ঝালমুড়ি খাওয়াচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। ভিডিওতে আরও দেখা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীনও। প্রধানমন্ত্রী নিজে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর নীতিন নবীনের হাতে নিজে প্লেট তুলে দেন।
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে বাংলায় এসে ঝালমুড়ি খান নরেন্দ্র মোদী। ঝাড়গ্রামের বিক্রেতার থেকে কিনে ১০ টাকার ঝালমুড়ি খেয়েছিলেন তিনি। তখন তিনি বলেছিলেন, 'ঝালমুড়ি আমি খেয়েছি, ঝাল লেগেছে তৃণমূলের।' প্রধানমন্ত্রী মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার ছবি, ভিডিও তোলপাড় ফেলে দিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়াতেও। ঝালমুড়ি খেতে খেতেই আশপাশের মানুষের সঙ্গে দিব্যি আলাপচারিতাও সেরে নিতে দেখা গিয়েছিল খোদ প্রধানমন্ত্রীকে। আর তারপর থেকেই রাজনীতির রুখাশুখা দুনিয়া যেন হয়ে ওঠে মশলাদার। লাইমলাইটে চলে আসে বাংলার সস্তা, মুখরোচক খাবার। তা নিয়ে রাজনীতিও কিছু কম হয়নি। নির্বাচনের আগে স্টেশনে স্টেশনে ঝালমুড়ি বিক্রি করে জনসংযোগ করেছিলেন তৃণমূল নেতা-নেত্রীরা। বিজেপি নেতা-নেত্রীরাও পাল্টা ঝালমুড়ি খান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর ‘ঝালমুড়ি জনসংযোগ’ যে এবারের ভোটে বড় প্রভাব ফেলেছিল তার ফল দেখা গিয়েছে ভোটের ব্যালট বাক্সে। পশ্চিমবঙ্গে ঘাসফুল প্রায় নির্মূল হয়ে রাজ্যজুড়ে ফুটেছে পদ্ম। বাংলা জয়ের পর প্রধানমন্ত্রী মোদীর অভ্যর্থনা জ্ঞাপন বক্তব্যকেও উঠে আসে ঝালমুড়ি প্রসঙ্গ।
সম্প্রতি নেদারল্যান্ডসে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখে শোনা যায় ঝালমুড়ির কথা। নেদারল্যান্ডসে দেশের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনগুলির কথা বলতে গিয়েই ফের ঝালমুড়ির উল্লেখ্য করেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। 'ঝালমুড়ি কি এখানেও পৌঁছে গিয়েছে?' দর্শকের উল্লাসধ্বনি দেখেই প্রশ্ন করেন প্রধানমন্ত্রী। সেবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে ভোটদানের হারের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। আবারও দিল্লিযাত্রা করেছে বাংলার ঝালমুড়ি। এবার ভারত মণ্ডপমে শুভেন্দু অধিকারীর হাতে তৈরি ঝালমুড়িতে রসনাতৃপ্তি প্রধানমন্ত্রীর। ওয়াকিবহল মহলের মতে, এর থেকে স্পষ্ট ঝালমুড়ি-রাজনীতি থেকে এখনই সরে আসছে না বিজেপি ৷ বরং এই বিষয়টিকে আরও কিছুটা এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছেন নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহরা ৷
E-Paper

