Constipation causes memory loss: মলত্যাগের জন্য জোরে চাপ দিতেই মুছে গেল ১০ বছরের স্মৃতি! কোষ্ঠকাঠিন্যের চরম পরিণতি
Constipation causes memory loss: কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশনের সমস্যা আমাদের অনেকের কাছেই খুব সাধারণ একটি শারীরিক অস্বস্তি। কিন্তু এই সাধারণ সমস্যাটিই যে কারও জীবনের দীর্ঘ এক দশকের স্মৃতি এক নিমেষে মুছে দিতে পারে, তা হয়তো অবাস্তব কোনো সিনেমার গল্পের মতোই শোনায়।
Constipation causes memory loss: চিকিৎসাজগতে এক অদ্ভুত ও বিরল ঘটনা ঘটেছে। কোষ্ঠকাঠিন্যের (Constipation) সমস্যায় ভুগছেন এমন এক মহিলা টয়লেটে মলত্যাগের জন্য এতটাই জোরে চাপ দিয়েছিলেন যে, সাময়িকভাবে তিনি তাঁর জীবনের বিগত ১০ বছরের সমস্ত স্মৃতি হারিয়ে ফেলেন! চিকিৎসকদের কপালে ভাঁজ ফেলে দেওয়া এই অবিশ্বাস্য ঘটনাটির কথা শুনলে য়ে কারও ভয় লাগবে।

কোষ্ঠকাঠিন্য বা কনস্টিপেশনের সমস্যা আমাদের অনেকের কাছেই খুব সাধারণ একটি শারীরিক অস্বস্তি। কিন্তু এই সাধারণ সমস্যাটিই যে কারও জীবনের দীর্ঘ এক দশকের স্মৃতি এক নিমেষে মুছে দিতে পারে, তা হয়তো অবাস্তব কোনো সিনেমার গল্পের মতোই শোনায়। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন বিশ্বজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, এক মহিলা টয়লেটে মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত বেগ বা চাপ দেওয়ার কারণে সাময়িকভাবে তাঁর স্মৃতিশক্তি হারিয়ে ফেলেন। চিকিৎসকদের মতে, এই অদ্ভুত ঘটনার পেছনে রয়েছে এক বিরল চিকিৎসাগত কারণ।
ঠিক কী ঘটেছিল সেই রাতে?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই মহিলা দীর্ঘদিন ধরে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছিলেন। ঘটনার দিন রাতে টয়লেটে গিয়ে মলত্যাগ করার জন্য তিনি বেশ কিছুক্ষণ ধরে অতিরিক্ত শারীরিক চাপ বা বেগ দেন। টয়লেট থেকে বের হওয়ার পরপরই তাঁর পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্য করেন যে, তাঁর আচরণে এক অদ্ভুত পরিবর্তন এসেছে। তিনি অদ্ভুত সব প্রশ্ন করতে শুরু করেন এবং বুঝতে পারছিলেন না তিনি বর্তমানে কোথায় আছেন বা তাঁর চারপাশে কী ঘটছে।
তড়িঘড়ি তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন যে, ওই মহিলা তাঁর জীবনের বিগত ১০ বছরের কোনো ঘটনাই মনে করতে পারছেন না! অর্থাৎ, তাঁর স্মৃতির একটা বড় অংশ সম্পূর্ণ মুছে গেছে।
কেন এমন হলো? চিকিৎসকদের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা
চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর জানান যে, ওই মহিলা আসলে ‘ট্রানজিয়েন্ট গ্লোবাল অ্যামনেশিয়া’ (Transient Global Amnesia - TGA) নামক একটি অতি বিরল স্নায়বিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মেডিকেল পরিভাষায় এর পেছনের কারণটি হলো ‘ভালসালভা ম্যানুভার’ (Valsalva Maneuver)। আমরা যখন মলত্যাগ করার জন্য বা ভারী কোনো জিনিস তোলার জন্য শ্বাস বন্ধ করে পেটে এবং বুকে অতিরিক্ত চাপ দিই, তখন শরীরের ভেতরে এই মেকানিজমটি কাজ করে। অতিরিক্ত চাপ দেওয়ার ফলে আমাদের ঘাড়ের ভেতরের প্রধান রক্তনালী (Jugular Vein)-তে রক্তের চাপ আচমকা অনেক বেড়ে যায়। এর ফলে সাময়িকভাবে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায় বা রক্ত সঞ্চালনে সাময়িক বাধা সৃষ্টি হয়। মস্তিষ্কের যে অংশটি আমাদের স্মৃতি ধরে রাখে (Hippocampus), সেখানে হঠাৎ অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণেই এই সাময়িক স্মৃতিভ্রম বা মেমরি লস ঘটে।
স্বস্তির খবর এবং চিকিৎসকদের সতর্কতা
স্বস্তির বিষয় হলো, ‘ট্রানজিয়েন্ট গ্লোবাল অ্যামনেশিয়া’ বা এই স্মৃতিভ্রম স্থায়ী কোনো সমস্যা নয়। হাসপাতালের নিউরোলজিস্টদের কড়া নজরদারিতে থাকার পর, প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর ওই মহিলার স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তিনি তাঁর হারিয়ে যাওয়া ১০ বছরের স্মৃতি আবার ফিরে পান।
তবে এই ঘটনাটি সাধারণ মানুষের জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। চিকিৎসকরা সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, কোষ্ঠকাঠিন্যকে কখনোই হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। টয়লেটে গিয়ে অতিরিক্ত জোর বা চাপ দেওয়া কেবল স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় না, বরং মস্তিষ্কের এমন মারাত্মক ক্ষতিও করতে পারে।
কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে চিকিৎসকদের পরামর্শ:
- প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন (কমপক্ষে ৩-৪ লিটার)।
- খাবারের তালিকায় উচ্চ ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার যেমন—সবুজ শাকসবজি, ফলমূল এবং ওটস রাখুন।
- সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অলসভাবে বসে না থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ল্যাক্সেটিভ বা ওষুধ ব্যবহার করুন, কিন্তু জোরপূর্বক চাপ দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এই ঘটনাটি অত্যন্ত বিরল হলেও এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ভুলভ্রান্তি এবং শরীরের ওপর তার প্রভাব নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। শরীরের ওপর অতিরিক্ত জোর খাটানো যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনাটি তারই এক জীবন্ত প্রমাণ।
ABOUT THE AUTHORSuman Royসুমন রায় হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় ডেপুটি নিউজ এডিটর পদে কর্মরত। এই মুহূর্তে তিনি এই ওয়েবসাইটের ভারপ্রাপ্ত। কলেজের গণ্ডি পেরিয়েই সুমন সাংবাদিকতার পেশায় চলে এসেছিলেন। মূল আগ্রহের জায়গা ছিল লেখালিখি। সাংবাদিক হিসাবে কাজ শুরু করার পরে সংবাদপত্রের উত্তর সম্পাদকীয় পাতায় কাজ, বিনোদন এবং জীবনযাপন বিভাগে কাজ করতে করতে এখন সুমন ডিজিটাল মাধ্য়মের কনটেন্ট প্রোডিউসার হিসাবে কর্মরত। পেশাদার অভিজ্ঞতা: ১৮ বছরের সামান্য বেশি সময় ধরে সুমন এই পেশায় কর্মরত। প্রথম বছর খানেক কাটে খবরের কাগজে। তার পরে তারা নিউজে স্বল্প কিছু সময়ের কাজ এবং তার পর থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত খবরের কাগজে কাজ করেছেন সুমন। এর মধ্যে ‘একদিন’ নামক দৈনিক পত্রিকায় কয়েক বছর কেটেছে। তবে কেরিয়ারের বেশির ভাগ সময়ই কেটেছে ‘এই সময়’ সংবাদপত্রে। সেখানে বিনোদন, জীবনযাপন এবং ফিচার বিভাগে সুমন কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীতে এক বছর কাটে আনন্দবাজার ডিজিটালে। ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় কর্মরত সুমন। শিক্ষাগত যোগ্যতা: হিন্দুস্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন সুমন। তার পরে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বাংলা নিয়ে স্নাতকস্তরের পড়াশোনা করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: গল্পের বই পড়া, গান শোনা এবং বেড়ানো। কাজের বাইরে মূলত এই তিনটি জিনিস নিয়েই বাঁচেন সুমন। একটু লম্বা ছুটি পেলেই বেরিয়ে পড়েন নতুন জায়গা দেখতে। অচেনা মানুষের সঙ্গে আলাপ করতে, তাঁদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে এবং সেই অভিজ্ঞতার কথা লিখতে পছন্দ করেন সুমন।Read More
E-Paper


