Lenskart: হিজাবে অনুমতি, তিলককে 'না!' লেন্সকার্ট কর্মীদের ড্রেস কোড বিতর্ক, জবাব দিল সংস্থা

Lenskart: ২০১৯ সালে ইউনিকর্ন স্ট্যাটাস পাওয়া লেন্সকার্ট বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় আইওয়্যার ব্র্যান্ড।

Published on: Apr 16, 2026, 23:24:08 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Lenskart: ড্রেস কোড সংক্রান্ত একটি ভাইরাল নির্দেশিকাকে ঘিরে বিতর্কে জড়াল ভারতের জনপ্রিয় আইওয়্যার সংস্থা 'লেন্সকার্ট।' অভিযোগ উঠেছে, সংস্থার নির্দেশিকায় হিজাব পরার অনুমতি থাকলেও টিপ, তিলক ও কালাওয়ার মতো ধর্মীয় চিহ্নে নিষেধাজ্ঞা ছিল। আর এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলল সংস্থার প্রধান পীযূষ বনসল। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল এবং ভিত্তিহীন।

লেন্সকার্ট কর্মীদের ড্রেস কোড বিতর্ক (Photo: Reuters)
লেন্সকার্ট কর্মীদের ড্রেস কোড বিতর্ক (Photo: Reuters)

সম্প্রতি এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করেন। সেখানে একটি তথাকথিত গ্রুমিং গাইডে দাবি করা হয়, লেন্সকার্টের কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট ড্রেস কোডে কিছু ধর্মীয় চিহ্ন ব্যবহারে বাধা রয়েছে। ডকুমেন্টে উল্লেখ ছিল, 'বিন্দি পরা যাবে না' এবং 'ধর্মীয় সুতো বা কালাওয়া খুলে রাখতে হবে।' সিঁদুর পরার ক্ষেত্রেও বলা হয়েছিল, তা খুব সীমিতভাবে ব্যবহার করতে হবে এবং কপালে ছড়িয়ে পড়া যাবে না। অন্যদিকে, ওই নির্দেশিকায় হিজাব বা পাগড়ি পরার অনুমতি দেওয়া হলেও তার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। যেমন, হিজাব কালো রঙের পরতে হবে, মাঝারি দৈর্ঘ্যের হতে হবে এবং কোম্পানির লোগো ঢেকে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে উল্লেখ ছিল, দোকানে বোরখা পরা যাবে না।

এই বৈপরীত্য সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। লেখক ও অ্যাক্টিভিস্ট শেফালি বৈদ্য-সহ অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, কেন এক ধরনের ধর্মীয় পরিচয়ে অনুমতি থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা? বিষয়টি দ্রুত বড় আকার নেয় এবং সংস্থার উপর চাপ বাড়তে থাকে। এরপর পীযূষ বনসাল এক বিবৃতিতে জানান, ভাইরাল হওয়া ডকুমেন্টটি পুরনো এবং বর্তমান নীতির প্রতিফলন নয়। তিনি বলেন, 'আমাদের গ্রুমিং পলিসি সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। এই ডকুমেন্টটি আমাদের বর্তমান নির্দেশিকা নয়।' তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, এখন সংস্থায় কোনও ধর্মীয় চিহ্ন বা অভিব্যক্তির উপর নিষেধাজ্ঞা নেই এবং কর্মীরা নিজেদের বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী পোশাক পরতে পারেন। তাঁর সংযোজন, 'আমাদের নীতিতে কোনও ভুলত্রুটি ধরা পড়লে, তা সংশোধন করা হয়। গোটা দেশজুড়ে আমাদের হাজার হাজার কর্মী রয়েছেন, যাঁরা প্রতিদিন আমাদের স্টোরগুলিতে গর্বের সঙ্গে তাঁদের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে চলেছেন। লেন্সকার্ট ভারতে, ভারতীয়দের দ্বারা এবং ভারতীয়দের জন্য নির্মিত। আমরা কখনও আপোস করি না এবং করবও না।' এই ঘটনার জন্য বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় সংস্থার তরফে ক্ষমাও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে নীতিমালা পর্যালোচনা করা হবে।

বলে রাখা ভালো, ২০১৯ সালে ইউনিকর্ন স্ট্যাটাস পাওয়া লেন্সকার্ট বর্তমানে দেশের অন্যতম বড় আইওয়্যার ব্র্যান্ড। সংস্থাটি নিজস্ব ফ্রেম ও লেন্স তৈরি করে মধ্যস্বত্বভোগী বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম দামে পণ্য সরবরাহ করে। শোনা যাচ্ছে, তারা আইপিওর প্রস্তুতিও নিচ্ছে এবং সংস্থার মূল্যায়ন প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি। সম্প্রতি আর্থিক ক্ষেত্রেও জোরালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে সংস্থাটি। রিপোর্ট অনুযায়ী, ডিসেম্বর কোয়ার্টারে সংস্থার মুনাফা প্রায় ৭০ গুণ বেড়ে ১.৩১ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে তা ছিল মাত্র ১৮.৫ মিলিয়ন টাকা। একই সঙ্গে আয়ও বেড়েছে প্রায় ৩৮.৮ শতাংশ। এরমধ্যে লেন্সকার্ট-এর পুরো ঘটনাকে ঘিরে কর্পোরেট ড্রেস কোড, কর্মক্ষেত্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈচিত্র্যের প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।