Dead Body found in Hasina's House: শেখ হাসিনার বাসভবন থেকে যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ছড়াল চাঞ্চল্য
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘সুধা সদন’ বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতরে এক যুবককে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডির অভিজাত এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত ‘সুধা সদন’ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মহম্মদ শাকিল (২২)। ঘটনাস্থলটি বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের বাসভবন হওয়ায় ঘটনাটি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে এটি আত্মহত্যা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত করে কিছু জানানো হয়নি।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধানমন্ডির ৫ নম্বর সড়কে অবস্থিত ‘সুধা সদন’ বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনের ভিতরে এক যুবককে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ধানমন্ডি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহটি উদ্ধার করে।
ধানমন্ডি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মহম্মদ ওয়াদুজ্জামান জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আঙুলের ছাপ-সহ বিভিন্ন ফরেনসিক নমুনা সংগ্রহ করে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের স্ত্রী ফারজানা ইসলাম ধানমন্ডি থানায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৩টা নাগাদ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। তদন্তকারীরা মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলছেন এবং তাঁর মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তা জানার চেষ্টা করছেন।
ঘটনাস্থল ‘সুধা সদন’-এর রাজনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। এটি ছিল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত বাসভবন। তাঁর স্বামী, বিশিষ্ট পরমাণু বিজ্ঞানী এম এ ওয়াজেদ মিয়ার ডাকনাম ছিল ‘সুধা মিয়া’। সেই নাম থেকেই বাড়িটির নাম রাখা হয় ‘সুধা সদন’। দীর্ঘদিন ধরে এটি শুধু শেখ হাসিনার বাসভবনই নয়, আওয়ামি লিগ সভাপতির ব্যক্তিগত কার্যালয় হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছে।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। সরকার পরিবর্তনের পর বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হয় ‘সুধা সদন’। এরপর থেকেই ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে কেউ বসবাস করছিলেন না।
এই পরিত্যক্ত ভবনের ভিতর থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কীভাবে তিনি ওই ভবনে প্রবেশ করেছিলেন, কতক্ষণ ধরে সেখানে ছিলেন এবং মৃত্যুর আগে তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা ফরেনসিক তথ্য, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এবং সিসিটিভি ফুটেজ (যদি পাওয়া যায়) বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আওয়ামি লিগের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হবে না। আত্মহত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক ঘটনা—সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


