Delhi Hotel Fire: দিল্লির হোটেলে মৃত্যুর ফাঁদ! পুলিশের জেরায় ধৃত মালিকের চাঞ্চল্যকর তথ্য, অসহায় দম্পতি...
Delhi Hotel Fire: পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লাভকেশ বাজাজের দুই সন্তান বিদেশে বসবাস করায় তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এ জন্য তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (এলওসি) জারির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল।
Delhi Hotel Fire: দক্ষিণ দিল্লির মালব্য নগরের হাউজ রানি এলাকার ফ্লোরিশ স্টে বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্টে (বিএনবি) ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২১ জন। ইতিমধ্যে এই ঘটনায় হোটেল মালিক লাভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আগুন লাগার কারণ খুঁজতে চলছে তদন্ত। এই আবহে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালেন লাভকেশ বাজাজ।

বুধবার সকালে আগুন লাগার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ লাভকেশ বাজাজকে গ্রেফতার করে। গভীর রাট পর্যন্ত তাঁকে ম্যারাথন জেরা করেন তদন্তকারীরা। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন, আগুনে ভবনটি জ্বলতে দেখে তিনি ভয় পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং উদ্ধারকাজে কোনও সহায়তা করেননি। তিনি আরও বলেন, হোটেলে আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলের পাশ দিয়ে গেলেও তিনি গাড়ি থামাননি। আতঙ্কে সেখান থেকে চলে যান।
লাভকেশ বাজাজ কোথায় লুকিয়ে ছিলেন?
হোটেলে আগুন লাগার পর লাভকেশ বাজাজ আর নিজের বাড়িতে ফিরে যাননি। বরং দীর্ঘ সময় শহরের বিভিন্ন জায়গায় উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘোরাফেরা করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বাজাজের দুই সন্তান বিদেশে বসবাস করায় তিনি দেশ ছাড়ার চেষ্টা করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। এ জন্য তার এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে লুকআউট সার্কুলার (এলওসি) জারির প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২২ সালে বাজাজ ভবনটি আহলুওয়ালিয়া নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে কিনেছিলেন। আগে সেখানে একটি খাদি স্টোর পরিচালিত হতো এবং ভবনটি তখন থেকেই জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল। পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, শুরুতে দুইতলা ভবনে ব্যবসা শুরু করলেও পরে তিনি আরও আড়াই তলা অবৈধভাবে যোগ করেন।
বাজাজ স্বীকার করেছেন যে তিনি বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্ট প্রকল্পের অধীনে লাইসেন্স নিয়েছিলেন, যেখানে সর্বোচ্চ ছয়টি রুম পরিচালনার অনুমতি ছিল। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বেজমেন্ট-সহ মোট ২৫টি রুম ভাড়া দিচ্ছিলেন। যদিও বাজাজ হোটেলের একক মালিক, তিনি দাবি করেছেন যে পুরো ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব হোটেল ম্যানেজার জয় মিশ্রের হাতে ছিল এবং বিভিন্ন লাইসেন্সও জয় মিশ্রের নামে ইস্যু করা হয়েছিল। বর্তমানে পুলিশ পলাতক ম্যানেজার জয় মিশ্রকে খুঁজছে।
দম্পতির দেহ উদ্ধার
অন্যদিকে, আগুন নেবার পর যখন হোটেলের এ ঘর ও ঘরে তল্লাশি চলছিল, তখন একটি ঘরের শৌচাগার থেকে দম্পতির দেহ উদ্ধার হয়েছে। দমকলের এক আধিকারিক বলেন, ‘আমাদের ধারণা দম্পতি ভেবেছিলেন যে শৌচাগারে আশ্রয় নিলে হয়তো প্রাণে বেঁচে যাবেন। কমোডের উপর বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় মহিলার দেহ। তাঁর পাশেই চেয়ারে বসা অবস্থায় উদ্ধার হয় স্বামীর দেহ। দেখে মনে হবে যেন, স্ত্রীকে শেষ মুহূর্তেও অভয় দেওয়ার চেষ্টা করে গিয়েছিলেন।’ দমকল জানিয়েছে, হোটেলের উপরতলায় যাঁরা ছিলেন, তাঁদের জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল তাঁদের। যাঁরা দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলে ছিলেন, তাঁদের মধ্যে কেউ ধোঁয়ার কারণে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার হন, আবার কাউকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কেন এত বেশি প্রাণহানি?
প্রথমে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের কারণে আগুন লেগেছে বলে সন্দেহ করা হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তের পর তদন্তকারীরা মনে করছেন, শর্ট সার্কিট থেকেই বুধবার সকালে ওই হোটেলটিতে আগুন লেগেছিল। দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, পাঁচ তলা ওই হোটেলটিতে যাতায়াতের জন্য মাত্র একটিই প্রবেশ ও বেরনোর পথ ছিল। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পালিয়ে যাওয়ার কোনও জরুরি পথ বা 'ফায়ার এক্সিট' ছিল না। হোটেলের ঘরের জানলাগুলি স্থায়ীভাবে সিল করা ছিল। ফলে আগুন লাগার পর ঘরের বিষাক্ত ধোঁয়া বাইরে বেরোতে পারেনি এবং ঘরের ভেতরের মানুষরাও জানলা ভেঙে প্রাণ বাঁচানোর সুযোগ পাননি। এমনকী হোটেলের মূল যে সদর দরজাটি ছিল, সেটি সেন্সর চালিত হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই সেটি জ্যাম হয়ে যায়। ফলে হুড়মুড় করে বাইরে বেরিয়ে আসার সব রাস্তাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল আবাসিকদের জন্য।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, হোটেলের একতলায় একটি রেস্তরাঁ চলত। আর বেসমেন্ট এবং ওপরের তলাগুলি হোটেলের গেস্ট হাউস হিসেবে ব্যবহার করা হত। এই পুরো হোটেলটি সচল রাখতে দুটি রান্নাঘর তৈরি করা হয়েছিল, একটি ছিল একদম বেসমেন্টে এবং অন্যটি ছিল একবারে ছাদে। এই দুই রান্নাঘরেই মজুত করে রাখা ছিল এলপিজি সিলিন্ডার। দিল্লি পুলিশের প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধরা পড়েছে যে, পুরো বিল্ডিং জুড়ে ৪টিরও বেশি বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডার রাখা ছিল। এই বাণিজ্যিক সিলিন্ডারগুলির ওজন সাধারণত ১৭ কেজি থেকে ৪৭.৫ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার পর এই বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডারই মূলত ওই আগুনকে আরও বেশি মাত্রায় বিধ্বংসী ও প্রাণঘাতী করে তোলে। অগ্নিকাণ্ডের এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডির পর সবথেকে বড় যে গাফিলতি সামনে এসেছে, তা হল ওই হোটেলের কোনও বৈধ অগ্নিনির্বাপণ ছাড়পত্র বা 'ফায়ার এনওসি' ছিল না।
E-Paper

