Disaster Information Alert System: ফোনে আচমকা বেজে উঠল সাইরেন, ঢুকল ‘জরুরি সতর্কতা’-র মেসেজ, ব্যাপারটা কী হল?

Disaster Information Alert System: আপনার ফোনে কি আচমকা বিকট শব্দে (সাইরেনের শব্দ) সতর্কবার্তা এসেছে? জানুন ভারত সরকারের এই নতুন উদ্যোগ সম্পর্কে। ঠিক কী করা হচ্ছে সেই বার্তার মাধ্যমে? পুরো ব্যাপারটা জেনে আতঙ্কিত না হয়ে।

Published on: May 2, 2026, 12:26:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Disaster Information Alert System শনিবার সকালে ভারতের কয়েক কোটি স্মার্টফোন ব্যবহারকারীর কাছে আচমকা সাইরেনের সঙ্গে একটি বিশেষ বার্তা ভেসে আসে। ফোনের স্ক্রিনে বড় অক্ষরে লেখা ছিল - ‘এমার্জেন্সি অ্যালার্ট: সিভিয়ার’ (Emergency Alert: Severe)। সাধারণ মানুষের মধ্যে সাময়িক আতঙ্ক তৈরি হলেও এটি আসলে ভারত সরকারের একটি পরিকল্পিত মহড়া বা টেস্টিং প্রসেস। কেন্দ্রীয় সরকারের টেলিকমিউনিকেশন বিভাগ এবং ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি (NDMA) যৌথভাবে ভারতের নিজস্ব 'এমার্জেন্সি অ্যালার্ট সিস্টেম' পরীক্ষা করছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিশেষ পরীক্ষা চালাল ভারত সরকার। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)
দুর্যোগ ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিশেষ পরীক্ষা চালাল ভারত সরকার। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে ন্যানো ব্যানানা দিয়ে তৈরি)

কেন এই জরুরি সতর্কবার্তা?

প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন— ভূমিকম্প, সুনামি, বন্যা বা অন্য কোনো জাতীয় সংকটের সময় সাধারণ মানুষকে দ্রুত সতর্ক করার জন্য একটি শক্তিশালী ব্যবস্থার প্রয়োজন। বর্তমানে যে এসএমএস ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা হয়, তাতে একসঙ্গে লাখ-লাখ মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছাতে দেরি হতে পারে। কিন্তু এই নতুন ‘সেল ব্রডকাস্টিং সিস্টেম’ (Cell Broadcast System) ব্যবহার করে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সমস্ত সচল মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দেওয়া সম্ভব।

পরীক্ষামূলক বার্তার মূল উদ্দেশ্য

১) সিস্টেমটির কার্যকারিতা যাচাই করা।

২) বিভিন্ন টেলিকম অপারেটরদের নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এই অ্যালার্ট ঠিকমতো পৌঁছাচ্ছে কিনা, তা দেখা।

৩) মোবাইল হ্যান্ডসেটগুলি এই প্রযুক্তি সাপোর্ট করছে কিনা, তা নিশ্চিত করা।

সেই বার্তায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে, ‘এটি ভারত সরকারের টেলিযোগাযোগ বিভাগ দ্বারা সেল ব্রডকাস্টিং সিস্টেমের মাধ্যমে পাঠানো একটি নমুনা পরীক্ষামূলক বার্তা। অনুগ্রহ করে এটি উপেক্ষা করুন, কারণ আপনার পক্ষ থেকে কোনও পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।’

আরও পড়ুন: INS Mahendragiri Missile Power: ৮ ব্রহ্মস মিসাইল, 'লোডেড' বরাক, পাক-সহ শত্রুদের কাঁদাবে ভারতীয় নৌসেনার নয়া রণতরী

কীভাবে কাজ করে এই প্রযুক্তি?

এই বিশেষ প্রযুক্তিটি ‘কমন অ্যালার্টিং প্রোটোকল’-র (CAP) ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি সাধারণ এসএমএস সার্ভিসের থেকে আলাদা। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, আপনার ফোন যদি ‘সাইলেন্ট’ বা ‘ডু নট ডিস্টার্ব’ মোডেও থাকে, তবুও এই অ্যালার্টটি বিকট শব্দ এবং তীব্র কম্পন তৈরি করতে সক্ষম। এমনকী নেটওয়ার্ক জ্যাম থাকলেও এই বার্তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি হয় না। সি-ডট (C-DOT) দ্বারা উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকার নির্দিষ্ট কোনও রাজ্য, শহর বা এমনকী একটি নির্দিষ্ট ব্লকের মানুষের কাছে মুহূর্তের মধ্যে বার্তা পাঠাতে পারবে।

আরও পড়ুন: NEET 2026 Exam Advisory: এই ভুলটা করবেন না, NEET-র কয়েক ঘণ্টা আগে সতর্ক করল NTA, কী করতে হবে?

আতঙ্কের কারণ নেই: সরকারের আশ্বাস

হঠাৎ ফোনের এই আচরণে অনেক ব্যবহারকারী সমাজমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তবে ভারত সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, এটি সম্পূর্ণ একটি নিরাপদ পরীক্ষা। সারা ভারতে এই সিস্টেমটি চালু করার আগে এর ত্রুটি-বিচ্যুতি খতিয়ে দেখার জন্য পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন রাজ্যে এই পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এর আগে গত বছরও কয়েক দফায় এমন ট্রায়াল চালানো হয়েছিল।

আরও পড়ুন: Yunus pork deal for Bangladesh: বাংলাদেশে 'নিষিদ্ধ' শুয়োরের মাংস আসবে, 'গোপন' চুক্তি করেন ইউনুস! বিস্ফোরক অভিযোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যেভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের হার বাড়ছে, তাতে এই ধরণের ডিজিটাল সতর্কতা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত সহায়ক হবে। দুর্যোগ আসার কয়েক মিনিট আগে যদি সঠিক তথ্য মানুষের হাতে পৌঁছায়, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More