DMK attacks Rahul Gandhi: ‘রাজনৈতিকভাবে অপরিণত!’ রাহুলের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ডিএমকে, ভাঙছে 'ইন্ডিয়া' জোট?

DMK attacks Rahul Gandhi: সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী ঐক্যের ডাক দিলেও, ডিএমকে-র কটাক্ষ, এ যেন ‘বিলম্বিত বোধোদয়।’ মুখপত্রের নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, রাহুল গান্ধী মুখে ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী জোটকে দুর্বল করার মূল কারিগর তিনি নিজেই।

Published on: Jun 16, 2026, 21:39:07 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

DMK attacks Rahul Gandhi: বর্তমানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্দরে অস্বস্তি তুঙ্গে। এই আবহে বিরোধী জোটকে দুর্বল করার জন্য সরাসরি কংগ্রেস এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে দায়ী করে আক্রমণ শানাল তামিলনাড়ুর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্ট্যালিনের দল ডিএমকে। দলের মুখপত্র ‘মুরাসলি’-তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে রাহুল গান্ধীকে ‘রাজনৈতিকভাবে অপরিণত’ এবং ‘বিশ্বাসভঙ্গকারী’ বলে তীব্র কটাক্ষ করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতির আঙিনায় এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।

রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ডিএমকে
রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ডিএমকে

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ডিএমকে-র সঙ্গে জোট থাকলেও, পরবর্তীতে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতির টিভিকে দলকে সমর্থন জানানোয় ক্ষুব্ধ স্ট্যালিনের দল। সিপিএম, সিপিআই এবং ভিসিকে-র মতো দলগুলিও বিজয়ের সরকারকে সমর্থন দেওয়ায় ডিএমকে একে ‘রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবেই দেখছে। এই ক্ষোভের জেরে গত ৮ জুন ‘ইন্ডিয়া’-র বৈঠকেও অনুপস্থিত ছিল ডিএমকে। সম্প্রতি মুখপত্র ‘মুরাসলি’তে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডিএমকে অভিযোগ করেছে, কংগ্রেস লোকসভা নির্বাচনের সময় শরিক দলগুলোর সমর্থন আশা করলেও, রাজ্য স্তরের বিধানসভা নির্বাচনের সময় প্রায়শই তাদের দুর্বল করার চেষ্টা করে। মুখপত্রটিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, 'একের পর এক রাজ্যে যেখানেই বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে, সেখানেই কংগ্রেস ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিকদের ক্ষমতায় আসা আটকাতে সম্ভাব্য সবকিছুই করছে। অথচ, যখন লোকসভা নির্বাচন এগিয়ে আসে, তখন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নামে তাদের সমর্থন চায়।'

সম্প্রতি দিল্লিতে বিরোধী জোটের বৈঠকে রাহুল গান্ধী ঐক্যের ডাক দিলেও, ডিএমকে-র কটাক্ষ, এ যেন ‘বিলম্বিত বোধোদয়।’ মুখপত্রের নিবন্ধে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, রাহুল মুখে ঐক্যের কথা বললেও বাস্তবে বিভিন্ন রাজ্যে বিরোধী জোটকে দুর্বল করার মূল কারিগর তিনি নিজেই। কেরলের উদাহরণ টেনে ডিএমকে জানিয়েছে, সেখানে কংগ্রেস বিজেপির চেয়ে শরিক বাম দলগুলিকে আক্রমণ করতেই বেশি আগ্রহী ছিল। ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যান্য শরিক, কেন রাহুলের এই আচরণের বিরোধিতা করছে না, তার খতিয়ানও তুলে ধরা হয়েছে এই প্রতিবেদনে। তামিলনাড়ুর উদাহরণ দিয়ে ডিএমকে-র অভিযোগ, জোট গড়ে লড়াই করেও পরে বিশ্বাসভঙ্গ করেছে কংগ্রেস। কেবল মুখপত্রেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ায়ও রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসকে নিশানা করেছে ডিএমকে। স্ট্যালিনের সঙ্গ ছেড়ে তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ের দলকে সমর্থন করায় লোকসভার বিরোধী দলনেতাকে আক্রমণ করেছে ডিএমকে-র আইটি সেল। আইটি সেলের বক্তব্য, কংগ্রেসের দুর্দিনে ডিএমকে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল, কিন্তু আজ কংগ্রেস ‘চকচকে খেলনা’-র লোভে সেই জোটের মর্যাদা রাখেনি। এখানে ‘চকচকে খেলনা’ বলতে তামিলনাড়ুর বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয় থলপতির রাজনৈতিক দল ‘টিভিকে’-র সঙ্গে কংগ্রেসের সখ্যতাকে বোঝানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিএমকে-র আইটি সেলের দাবি, কংগ্রেস জল থেকে ডাঙায় উঠেই ডিএমকে-র সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।

যদিও ডিএমকে স্পষ্ট করেছে যে, বৃহত্তর স্বার্থে বিরোধী দলগুলির কোনও যৌথ কর্মসূচিতে তারা শামিল হবে, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে তাদের দূরত্ব যে অনেকটাই বেড়েছে, তা এই আক্রমণাত্মক মনোভাব থেকেই স্পষ্ট। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, লোকসভার বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ডিএমকে-র এই প্রকাশ্য তোপ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড়ো প্রশ্নের জন্ম দিল। রাহুল গান্ধীর এই ‘রাজনৈতিক কূটনীতি’ বিরোধী ঐক্যে কতটা গভীর ক্ষত তৈরি করল, সেটাই এখন দেখার বিষয়।