Deshbhakti programme: আকাশে উড়ছে ৫০০ জাতীয় পতাকা! দিল্লি সরকারের ‘দেশভক্তি’ প্রকল্পের খরচ কত জানেন?

Deshbhakti programme: পূর্বের আম আদমি পার্টি সরকার ২০২২ সালে এই ‘দেশভক্তি’ উদ্যোগের সূচনা করেছিল এবং সেই বছরের দিল্লির বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে দিল্লির বুকে প্রায় ৫০০টি জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হয়।

Published on: Jun 18, 2026, 23:24:18 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Deshbhakti programme: ১০৪ কোটি টাকার সরকারি প্রকল্পের অধীনে ২০২২ সাল থেকে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় এবং জনসমক্ষে প্রায় ৫০০টি বিশাল জাতীয় পতাকা শোভা পাচ্ছে। এই তিরঙ্গাগুলোকে প্রতিনিয়ত অক্ষত ও সগৌরবে জাতীয় পতাকা উড্ডীন রাখতে ধোয়া, পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিদর্শন এবং নিয়ম করে পরিবর্তনের একটি রক্ষণাবেক্ষণ প্রক্রিয়া চালাতে হয়।

দিল্লি সরকারের ‘দেশভক্তি’ প্রকল্পের খরচ কত জানেন?
দিল্লি সরকারের ‘দেশভক্তি’ প্রকল্পের খরচ কত জানেন?

সাম্প্রতিক গ্রীষ্মকালীন ঝড়ের দাপটে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ বড়সড় পরীক্ষার মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় পতাকাগুলো কীভাবে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে, তা পর্যালোচনা করে দেখছে দিল্লি সরকার। এর অংশ হিসেবে প্রতিটি পতাকা বছরে যতবার পরিবর্তন করা হয়, সেই সংখ্যার পরিমাণ দ্বিগুণ করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।

দেশভক্তি কর্মসূচি কী?

পূর্বের আম আদমি পার্টি সরকার ২০২২ সালে এই ‘দেশভক্তি’ উদ্যোগের সূচনা করেছিল এবং সেই বছরের দিল্লির বাজেটে এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই প্রকল্পের অধীনে দিল্লির বুকে প্রায় ৫০০টি জাতীয় পতাকা উত্তলন করা হয়। প্রতিটি পতাকার আকার আনুমানিক ৩৫ ফুট বাই ৫০ ফুট এবং এগুলোকে ১১৫ ফুট উঁচু একটি ফ্ল্যাগপোল বা পতাকাদণ্ডের ওপর উত্তোলন করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই প্রকল্পের মোট ব্যয় হয়েছিল ১০৪ কোটি টাকা।

বর্তমানে কীভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়?

পিডব্লিউডি দ্বারা পরিচালিত বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে এই স্মারকগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা হয়। এই তেরঙ্গাগুলো মূলত পলিয়েস্টার কাপড়ে তৈরি। বর্তমান রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তি অনুযায়ী, একটি তেরঙ্গা পরিবর্তন করার আগে সর্বোচ্চ পাঁচবার পর্যন্ত ধোয়া বা পরিষ্কার করা যেতে পারে। তবে নিয়মিত এই ধোয়ার কাজ ছাড়াও, বছরে অন্তত চারবার এই তেরঙ্গাগুলো বাধ্যতামূলকভাবে পরিবর্তন বা প্রতিস্থাপন করা হয়ে থাকে। স্বাধীনতা দিবস এবং প্রজাতন্ত্র দিবস-সহ বিভিন্ন জাতীয় উৎসব ও দিনগুলোর সঙ্গে সংগতি রেখেই মূলত এই পরিবর্তনের সময় নির্ধারণ করা হয়। এই প্রসঙ্গে বুধবার পিডব্লিউডি মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মা বলেন, 'এগুলো অত্যন্ত বিশাল আকৃতির তেরঙ্গা এবং বারবার ধোয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাপড়ের বুনন দুর্বল হয়ে পড়ে।'

ঝড়ের দাপট

গত দুই সপ্তাহে হওয়া একের পর এক ঝড়ের কারণে দিল্লির বিভিন্ন প্রান্তে এই জাতীয় পতাকাগুলোর বেশ ক্ষতি হয়েছে। গত ৯ জুন কিছু কিছু এলাকায় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটারও ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এরপরই সরোজিনী নগর, সীমাপুরী, নন্দ নগরী, নিজামুদ্দিন, শাকুরপুর, মদনপুর খাদার, কমলা নেহরু রিজের কাছে এমজি রোড, অশোক বিহার ফেজ-৩, মালব্য নগর, দিলশাদ কলোনি, সদর বাজারের নয়া বাজার রোড এবং ধৌলা কুঁয়া থেকে জাতীয় পতাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পায় পিডব্লিউডি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এতটাই বেশি ছিল যে, প্রতিকূল আবহাওয়ার সময় আপৎকালীন ব্যবস্থা হিসেবে দফতর সাময়িকভাবে ৫০০টি জাতীয় পতাকাই সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হয়।

কী কী পরিবর্তনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে?

দিল্লির বিজেপি সরকার এখন আরও বেশি টেকসই বা দুর্যোগ-সহনশীল কাপড়ের সন্ধান করতে একটি প্রযুক্তিগত সমীক্ষা বা স্টাডি করার নির্দেশ দিয়েছে। পিডব্লিউডি মন্ত্রী প্রবেশ ভার্মা জানান, ইঞ্জিনিয়ারদের একটি দল বড় বড় পোশাক রপ্তানিকারক সংস্থাগুলো পরিদর্শন করছে এবং তারা প্রাথমিকভবে পাঁচ ধরণের কাপড়কে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করবে। ঝড় ও বৃষ্টির মতো পরিস্থিতিতে এই কাপড়গুলোর স্থায়িত্ব এবং কার্যকারিতা কেমন থাকে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হবে।

প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো:

কাপড়: কাপড়ের ঘনত্ব ও ওজন বাড়াতে উচ্চ জিএসএম এবং সেলাইয়ের ক্ষেত্রে আরও উন্নতমানের সুতো ব্যবহার করা হবে।

ধোয়া: বারবার ধোয়ার ফলে কাপড়ের গুণগত মান যেন নষ্ট না হয়, সেজন্য একটি পতাকা সর্বোচ্চ কতবার ধোয়া যাবে, সেই সংখ্যা কমিয়ে আনা হবে।

পরিবর্তন: বছরে নতুন পতাকা লাগানোর সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করে চার বারের জায়গায় আট বার করা হবে।

টেন্ডারের শর্ত: সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারদের এই নতুন ও উন্নত মানের কাপড় ব্যবহার করতে হবে এবং ধোয়া ও পরিবর্তনের নতুন সময়সূচি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং দলটিকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।