Donald Trump: 'আমি ধর্ষক নই!' সাংবাদিকের প্রশ্নে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন ট্রাম্প, এপস্টিন ইস্যুতে...
Donald Trump: কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে অ্যালেন তার ‘ম্যানিফেস্টো’-তে বিতর্কিত কথা লিখেছেন বলে ধারণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ম্যানিফেস্টোতে এপস্টিনের নাম উল্লেখ ছিল না।
Donald Trump: শনিবার ওয়াশিংটনের হিল্টন হোটেলে আয়োজিত হোয়াইট হাউসের নৈশভোজে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যে হামলা করে, তার লেখা এক বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প একজন শিশুকামী, ধর্ষক এবং বিশ্বাসঘাতক। হামলাকারী কোল টমাস অ্যালেনের এই বিবৃতি উদ্ধৃত করায় এক সাংবাদিকের ওপর ক্ষোভ উগরে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ওই সন্দেহভাজন হামলাকারীকে 'চরমপন্থায় প্রভাবিত', 'খ্রিস্টবিরোধী' এবং 'ভীষণ অসুস্থ মানসিকতার মানুষ' বলে উল্লেখ করেছেন।

শনিবার রাতে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের ডিনার চলাকালীন, ক্যালিফোর্নিয়ার ৩১ বছর বয়সি যুবক কলে কোল টমাস অ্যালেন একাধিক আগ্নেয়াস্ত্র ও ছুরি নিয়ে নিরাপত্তা ভাঙার চেষ্টা করে। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। জানা গিয়েছে, সে হোটেলের ভেতরে ঢুকে কয়েক রাউন্ড গুলিও চালায়। ঘটনাস্থলটি ছিল মূল অনুষ্ঠানের বলরুম থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত তাকে কাবু করে।
'আমি ধর্ষক নই'
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর রবিবার সিবিএস নিউজের নোরা ও’ডনেলের সঙ্গে কথা বলেন ট্রাম্প। কিন্তু সাক্ষাৎকারের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন ওই সাংবাদিক অভিযুক্তের তথাকথিত ‘ম্যানিফেস্টো’ থেকে একটি অংশ পড়ে শোনান। সেখানে লেখা ছিল, 'একজন শিশুকামী, ধর্ষক ও বিশ্বাসঘাতককে তাঁর অপরাধ দিয়ে আমার হাত রাঙাতে দেব না।' মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনে সেই 'ম্যানিফেস্টো' পড়তেই মেজাজ হারান ট্রাম্প। সাংবাদিকের উপরে ক্ষোভ উগরে বলেন, 'আমি অপেক্ষা করছিলাম যে কখন তুমি এটা পড়বে। আমি জানতাম তুমি এটা পড়বেই কারণ তুমি অত্যন্ত খারাপ মানুষ।' এরপরই নিজের সাফাই দিয়ে ট্রাম্প বলেন, 'ওঁ (অভিযুক্ত) এটা লিখেছে। আমি ধর্ষক নই। আমি কাউকে ধর্ষণ করিনি। আমি শিশুকামী নই।' এ সময় ও’ডনেল জানতে চান, ‘ওহ, আপনি কী মনে করেন সে আপনাকেই ইঙ্গিত করছিল?’ কিন্তু ট্রাম্প প্রশ্নটি উপেক্ষা করে বলেন, ‘আমি পেডোফাইল (শিশুকামী) নই।’
কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টিনের সঙ্গে তাঁকে জড়িয়ে অ্যালেন তার ‘ম্যানিফেস্টো’-তে বিতর্কিত কথা লিখেছেন বলে ধারণা করেন ট্রাম্প। যদিও ম্যানিফেস্টোতে এপস্টিনের নাম উল্লেখ ছিল না। এ প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, ‘আপনি একজন অসুস্থ মানুষের লেখা এসব বাজে কথা পড়লেন? আমাকে এমন সব বিষয়ের সঙ্গে জড়ানো হয়েছে, যার সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। আমি সম্পূর্ণভাবে দায়মুক্ত হয়েছি।’ উল্টো তিনি ডেমোক্র্যাট শিবিরের নেতাদের দিকে আঙুল তুলে বলেন যে, এপস্টাইন বা অন্যান্য কেলেঙ্কারিতে ওপাশের মানুষরাই জড়িত ছিলেন। নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, ‘আপনার লজ্জা হওয়া উচিত একজন অসুস্থ মানুষের লেখা এসব আবর্জনা পড়ার জন্য, কারণ আমি এর কোনওটিই নই।’
'অসুস্থ মানসিকতার লোক'
হামলাকারী সম্পর্কে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি ম্যানিফেস্টো পড়েছি। সে চরমপন্থায় প্রভাবিত হয়েছিল। সে একসময় খ্রিস্টান ছিল, তারপর খ্রিস্টবিরোধী হয়ে যায়। সম্ভবত সে খুবই অসুস্থ মানসিকতার লোক ছিল।’ এই রাজনৈতিক সহিংসতার জন্য প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাট নেতাদের ‘বিদ্বেষমূলক বক্তব্য’ বা ‘হেট স্পিচ’-কে দায়ী করেছেন। তিনি দাবি করেন, বিরোধীদের বিপজ্জনক বক্তব্যই দেশে এ ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে। গত দুই বছরে এটি ট্রাম্পের ওপর তৃতীয়বার হামলার চেষ্টা হলেও তিনি জানান, গুলির শব্দ শুনে তিনি মোটেও উদ্বিগ্ন হননি। ঘটনার সময় নিজের সাহসিকতার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যখন সিক্রেট সার্ভিস তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিল, তখন তিনি নিজেই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে চেয়েছিলেন। সেই সময় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হলেও ট্রাম্প নিজে খানিকটা সময় নিয়েছিলেন কারণ তিনি দেখতে চেয়েছিলেন আসলে কী ঘটছে।
তিনি আরও জানান, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এই পরিস্থিতি অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করেছেন। ট্রাম্পের এই মন্তব্যগুলো থেকে স্পষ্ট যে, তিনি এই হামলাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক প্রচারের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন।
E-Paper

