Trump-Xi Summit: 'মহান নেতা' থেকে 'বন্ধু!' মার্কিন-চিন সম্পর্কে জোর দিয়ে জিনপিংয়ের ভূয়সী প্রশংসা ট্রাম্পের

Trump-Xi Summit: মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই সফরে তিনি তার সঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়িক নেতাদের নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, 'আপনাকে সম্মান জানাতে আজ এখানে শুধুমাত্র শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাই উপস্থিত হয়েছেন।'

Published on: May 14, 2026, 12:38:01 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Trump-Xi Summit: চিনের রাজধানী বেজিংয়ে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে শুরু হয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্মলেন। আর বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে অভিহিত করে ভূয়সী প্রশংসা করলেন ট্রাম্প। তবে বৃহস্পতিবার বেজিংয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রারম্ভিক বক্তব্যে ট্রাম্প চিনা প্রেসিডেন্টকে তাঁর ‘বন্ধু’ হিসেবে সম্বোধন করেন এবং এই বৈঠককে নিজের জন্য অত্যন্ত 'সম্মানের' বলে উল্লেখ করেন।

জিনপিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প (via REUTERS)
জিনপিংয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প (via REUTERS)

যদিও এই সম্মেলনটি ব্যাপক জাঁকজমক ও প্রতীকী অর্থে গুরুত্বপূর্ণ, তবে বাণিজ্য, তাইওয়ান ইস্যু কিংবা ইরান যুদ্ধের মতো জটিল বিষয়গুলোতে বড় ধরনের কোনও নাটকীয় সাফল্যের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন যে, অতীতে দুই দেশের মধ্যে নানা বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তারা টেলিফোনে আলাপচারিতার মাধ্যমে খুব দ্রুত সেগুলোর সমাধান করেছেন। ট্রাম্পের কথায়, ‘আপনি একজন মহান নেতা, অনেকে হয়তো আমার এই কথাটা পছন্দ করেন না, কিন্তু সত্য এটাই যে আপনি মহান। আমাদের একসঙ্গে একটি চমৎকার ভবিষ্যৎ রয়েছে।' এই সফরে ট্রাম্প মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদেরও সঙ্গে নিয়ে এসেছেন, যার মধ্যে এনভিডিয়ার জেনসেন হুয়াং এবং টেসলার ইলন মাস্কের মতো ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের লক্ষ্য হলো চিনের সঙ্গে কৃষি পণ্য ও যাত্রীবাহী বিমান বিক্রির চুক্তি ত্বরান্বিত করা এবং একটি স্থায়ী বোর্ড গঠন করা যাতে ভবিষ্যতে গত বছরের মতো শুল্ক যুদ্ধ বা বাণিজ্য যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, এই সফরে তিনি তার সঙ্গে বিশ্বের সেরা ব্যবসায়িক নেতাদের নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, 'আপনাকে সম্মান জানাতে আজ এখানে শুধুমাত্র শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরাই উপস্থিত হয়েছেন।' ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, কেউ কেউ একে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সম্মেলন হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং তিনি তাদের মধ্যে আলোচনার ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট চিনা প্রেসিডেন্টকে বলেন, 'আপনার সঙ্গে থাকা এবং আপনার বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের সম্পর্ক আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে আরও ভালো হতে চলেছে।'

উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার আহ্বান শি-র

এদিন বৈঠকের শুরুতে শি জিনপিং বিশ্ব রাজনীতির বর্তমান অস্থিরতা ও রূপান্তরের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত এক শতাব্দীতে বিশ্ব এমন পরিবর্তনের সাক্ষী হয়নি এবং বর্তমান এই অস্থির সময়ে চিন-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থিতিশীল সম্পর্ক অত্যন্ত জরুরি। শি জিনপিং বলেন, 'সারা বিশ্ব আমাদের এই বৈঠকের দিকে তাকিয়ে আছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এমন এক পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে যা গত এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত পরিবর্তনশীল ও উত্তাল।' জিনপিং তার বক্তব্যে ‘থুসিডাইডস ট্র্যাপ’ বা উদীয়মান শক্তির সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত শক্তির অনিবার্য সংঘাতের তত্ত্বটি উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, দুই দেশ কী এই ফাঁদ এড়িয়ে সম্পর্কের একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারবে? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, 'চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কী থুসিডাইডস ট্র্যাপ কাটিয়ে সম্পর্কের এক নতুন কাঠামো তৈরি করতে পারবে? আমরা কী সম্মিলিতভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করে বিশ্বে আরও স্থিতিশীলতা আনতে পারব? আমাদের বিশ্ব, দুই দেশের জনগণ এবং মানবতার ভবিষ্যতের স্বার্থে আমরা কী আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি উজ্জ্বলতর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি?'

তিনি আরও বলেন, 'এই প্রশ্নগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো আমাদের সময়ের এমন কিছু প্রশ্ন, যার উত্তর বড় দেশগুলোর নেতা হিসেবে আপনার এবং আমার দেওয়া প্রয়োজন।' সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহে এই আলোচনা শুরু হলেও বেশ কিছু অমীমাংসিত ইস্যু এই সম্মেলনের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে তাইওয়ানের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন এবং ফেনটানিল পাচার রোধে বেজিংয়ের ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্পের অসন্তোষ আলোচনার টেবিলে ছায়া ফেলতে পারে। দুই দিনের এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। শুক্রবার দুপুরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি ব্যক্তিগত বৈঠকের মধ্য দিয়ে ট্রাম্প তার এই ঐতিহাসিক বেজিং সফর শেষ করবেন বলে জানা গেছে।