DRDO-Adani Pact: দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ, AEW&C Mk-II প্রকল্পে DRDO-র সাথে চুক্তি আদানির

আহমেদাবাদের আদানি ডিফেন্স সিস্টেম অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে ডিআরডিও-র। এই সংস্থা AEW&C Mk-II বিমানের জন্য অত্যাধুনিক মিশন সিস্টেম তৈরি ও উৎপাদনে ডিআরডিও-র ডেভেলপমেন্ট এবং প্রোডাকশান পার্টনার হিসেবে কাজ করবে।

Published on: Jul 23, 2026, 08:31:41 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

DRDO Adani Defence Pact on AEW&C Mk-II Project: ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (DRDO)। বুধবার দুটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করেছে সংস্থাটি। এর মধ্যে একটি চুক্তি হয়েছে ছয়টি এয়ারবাস A321 যাত্রীবাহী বিমানকে বিশেষ সামরিক বিমানে রূপান্তর করার জন্য। অন্য চুক্তিটি হয়েছে অত্যাধুনিক মিশন সিস্টেম তৈরি ও উৎপাদনের লক্ষ্যে। এই দুই প্রকল্পই ভারতের বহু প্রতীক্ষিত Airborne Early Warning & Control (AEW&C) Mk-II কর্মসূচির অংশ।

আহমেদাবাদের আদানি ডিফেন্স সিস্টেম অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে ডিআরডিও-র
আহমেদাবাদের আদানি ডিফেন্স সিস্টেম অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে ডিআরডিও-র

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দিল্লিভিত্তিক এআই ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস লিমিটেড (AIESL)-এর সঙ্গে চুক্তি করেছে ডিআরডিও-র সেন্টার ফর এয়ার বর্ন সিস্টেমস (CABS)। এই সংস্থা ছয়টি এয়ারবাস এ৩২১ বাণিজ্যিক বিমানকে প্রথমে 'গ্রিন কনফিগারেশন'-এ রূপান্তর করবে। অর্থাৎ, বিমানের যাত্রী পরিবহনের সমস্ত আসন, অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক সরঞ্জাম সরিয়ে এমনভাবে প্রস্তুত করা হবে, যাতে পরে সেখানে উন্নত সামরিক রাডার, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বসানো যায়।

এছাড়াও, আহমেদাবাদের আদানি ডিফেন্স সিস্টেম অ্যান্ড টেকনোলজিস লিমিটেডের সঙ্গে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। এই সংস্থা AEW&C Mk-II বিমানের জন্য অত্যাধুনিক মিশন সিস্টেম তৈরি ও উৎপাদনে ডিআরডিও-র ডেভেলপমেন্ট এবং প্রোডাকশান পার্টনার হিসেবে কাজ করবে।

উল্লেখ্য, এই AEW&C Mk-II হল এমন একটি বিশেষ নজরদারি বিমান, যাকে অনেকেই 'উড়ন্ত রাডার' বলে থাকেন। এই বিমান আকাশে দীর্ঘ সময় উড়ে থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র কিংবা শত্রুপক্ষের অন্যান্য গতিবিধি নজরে রাখতে পারে। শুধু তাই নয়, এটি নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখা, যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং বিমানবাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটকে একসঙ্গে পরিচালনা করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মতে, AEW&C Mk-II চালু হলে ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। দূরপাল্লা থেকে সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা সহজ হবে এবং প্রয়োজনে দ্রুত পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে। ফলে দেশের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী হবে।

এই প্রকল্পে ইউরোপের বিমান নির্মাতা সংস্থা এয়ারবাস ডিফেন্স অ্যান্ড স্পেস পরিবর্তিত এ৩২১ বিমান সরবরাহ করবে। এরপর ডিআরডিও এবং আদানি ডিফেন্স যৌথভাবে সেই বিমানে অত্যাধুনিক রাডার, সেন্সর, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য মিশন সিস্টেম সংযুক্ত করবে।

সব কাজ শেষ হলে ভারতীয় বায়ুসেনার সহযোগিতায় এই বিমানের একাধিক পরীক্ষামূলক উড়ান পরিচালিত হবে। সফল পরীক্ষা শেষে সেন্টার ফর মিলিটারি এয়ারওয়ার্দিনেস অ্যান্ড সার্টিফিকেশন এবং ডিরেক্টোরেট জেনারেল অফ অ্যারোনটিকাল কোয়ালিটি অ্যাসিওরেন্স-এর কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নেওয়া হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প শুধু ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে না, একই সঙ্গে 'আত্মনির্ভর ভারত' উদ্যোগকেও বড়সড় উৎসাহ দেবে। দেশীয় সংস্থাগুলিকে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি তৈরি ও উৎপাদনের সুযোগ করে দিয়ে ভবিষ্যতে ভারতকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে আরও স্বনির্ভর করে তুলবে এই উদ্যোগ।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More