সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসকদের মডিউল! দিল্লির বিস্ফোরণকাণ্ডের নেপথ্যে রোমাঞ্চকর তথ্য প্রকাশ্যে
'ম্যাডাম সার্জন' নামে পরিচিত আরেক 'জঙ্গি ডাক্তার' শাহিন সাঈদের মারুতি সুজুকি সুইফট ডিজায়ারে একটি রাইফেল পাওয়া গিয়েছে।
দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে গত সপ্তাহে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বিস্ফোরণ নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা দেশকে। এই হামলায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ আহত হয়েছে। আর এই ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক রোমাঞ্চকর তথ্য উঠে আসছে গোয়েন্দাদের হাতে। মানুষের প্রাণ বাঁচানোই যাঁদের কাজ, সেই চিকিৎসকদেরই নাম জড়িয়েছে প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্রে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই মডিউলে অন্তত নয়-দশজন সদস্য ছিল, যাদের মধ্যে পাঁচ-ছয়জন চিকিৎসক রয়েছে।

'সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসক'
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুসারে, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, চিকিসকদের এই মডিউলটি পাকিস্তান ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদ (জেএম) সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। এই মডিউলের প্রধান ছিল পাকিস্তান-ভিত্তিক অপারেটিভ উমর-বিন-খাত্তাব ওরফে হানজুল্লা এবং জম্মু ও কাশ্মীরের শোপিয়ানের মৌলবি ইরফান আহমেদ ওয়াগে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন যে, মৌলবি ইরফান আহমেদের সংস্পর্শে আসার পরই চিকিৎসকরা মৌলবাদী হয়ে ওঠে। মৌলবী ইরফান আহমেদের সঙ্গে পাকিস্তানের মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদের সম্পর্ক রয়েছে। সে চিকিৎসকদের সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র স্থাপন করেছিল। ইতিমধ্যে ইরফানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। লালকেল্লার গাড়ি বিস্ফোরণ পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ইরফানের সঙ্গে চিকিৎসকদের এই বৈঠকগুলি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণিত হবে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে, জইশ সন্ত্রাসবাদীরা 'সন্ত্রাসবাদী চিকিৎসকদের' দু'টি অ্যাসল্ট রাইফেল সরবরাহ করেছিল।
'জঙ্গি ডাক্তার' শাহিন সাঈদ
'ম্যাডাম সার্জন' নামে পরিচিত আরেক 'জঙ্গি ডাক্তার' শাহিন সাঈদের মারুতি সুজুকি সুইফট ডিজায়ারে একটি রাইফেল পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, শাহিন জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখা - জমিয়ত উলামা-ই-হিন্দ- এর একজন সিনিয়র নেত্রী, যা অপারেশন সিঁদুরের পরে জেইএম প্রতিষ্ঠা করেছিল। শাহিন ২০ লক্ষ টাকার তহবিল সংগ্রহ করেছিল দেশের একাধিক জায়গায় প্রতিশোধমূলক হামলার জন্য। এছাড়াও তার নামে নতুন একটি মারুতি সুজুকি ব্রেজা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শাহিন সম্ভবত ওই গাড়িটি নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল। ২০২৩ সালে শ্রীনগরের সরকারি মেডিকেল কলেজে ইরফানের সঙ্গে আহমেদ শাকিল এবং উমর নবির প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল। তখনই তারা ফোন নম্বর বিনিময় করেছিল। এরপর দু'বছর ধরে তাদের মধ্যে ফোনে কথা হয় এবার নানা বার্তা বিনিময় চলে। পরে আহমেদ শাকিল এবং নবি উভয়কেই মৌলবী ইরফান মৌলবাদী আদর্শে উদবুদ্ধ করে। অন্যদিকে, শাহিন তাঁর ভাই চিকিৎসক পারভেজকেও মৌলবাদী আদর্শে উদবুদ্ধ করে। এদিকে, ইউপি কলেজে কর্মরত ডঃ ফারুক আহমেদ দারকেও নিয়ে আসে ইরফান আহমেদ ওয়াগে।
এই মডিউলের নবম এবং দশম সদস্য ডাক্তার ছিল না। নবম ছিল আমির রশিদ আলি। জানা যাচ্ছে, যে আই-২০ গাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটানো হয় তা আমিরের নামেই নথিভুক্ত।দিল্লিতে জঙ্গি হামলা চালাতে উমরের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেছিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাম্পোরের সাম্বুরার বাসিন্দা আমির। রবিবারই জম্মু ও কাশ্মীর থেকে জসির বিলাল ওয়ানি ওরফে দানিস নামে উমরের এক সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, জঙ্গি হামলার জন্য সমস্ত রকম প্রযুক্তিগত সহযোগিতা করেছিলেন দানিস। শুধু তাই নয়, আত্মঘাতী ড্রোন বানানো এবং হামলার জন্য রকেট তৈরিতেও সাহায্য করে সে।
E-Paper

