Govt Job Success Story: ৪০ চাকরির পরীক্ষায় 'ফেল', খোঁটা দিত সমাজ, PSC পরীক্ষায় বাজিমাত সেই মনোজ পালের
Govt Job Success Story: ৪০ চাকরির পরীক্ষায় 'ফেল', খোঁটা দিত সমাজ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় বাজিমাত সেই মনোজ পালের। সমাজ, প্রতিবেশী ও চেনা মানুষজন যখন টিটকিরি মেরেছিল, তখনও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়েননি মনোজ।
Govt Job Success Story: সাফল্যের কোনও শর্টকাট হয় না- এই কথাটি অনেকেই বলেন। কিন্তু মধ্যপ্রদেশের এক কৃষকের ছেলে মনোজ পাল যেভাবে এই কথাটিকে বাস্তবে প্রমাণ করে দেখিয়েছেন, তা বর্তমান প্রজন্মের যে কোনও চাকরিপ্রার্থীর কাছে তা এক অনুপ্রেরণা। একটি বা দুটি নয়, জীবনের টানা ১২ বছরের কঠিন লড়াইয়ে প্রায় ৪০টি সরকারি চাকরি ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় ব্যর্থতার মুখ দেখতে হয়েছিল তাঁকে। সমাজ, প্রতিবেশী ও চেনা মানুষজন যখন টিটকিরি মেরেছিল, তখনও নিজের লক্ষ্য থেকে একচুলও নড়েননি মনোজ। অবশেষে ধৈর্য, জেদ আর কঠোর পরিশ্রমের ফল মিলেছে। নিজের সপ্তম অ্যাটেম্পটে মধ্যপ্রদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (MPPSC) পরীক্ষা বাজিমাত করেছেন।

২০১৩ সালে হোশঙ্গাবাদে চলে আসেন মনোজ। সেখানে ১৫০০ টাকার ঘরভাড়া দিয়ে শুরু করেছিলেন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি। নিজের পড়ার খরচ এবং শহরে থাকার লড়াই চালাতে মনোজকে টিউশনি পড়াতে হত। পরবর্তীতে তিনি ইন্দোরে চলে আসেন এবং সেখানে নিজের খরচ চালাতে টিউশনির পাশাপাশি কন্টেন্ট রাইটিং এবং পরীক্ষার খাতা দেখার কাজও করেছিলেন।
৪০ বার ব্যর্থতার পাহাড় এবং সমাজের উপহাস
মনোজের মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রদেশের সিভিল সার্ভিস অফিসার হওয়া। তবে পরিবারের কথা চিন্তা করে অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাও দিতে শুরু করেছিলেন। শুরুর দিকে ফরেস্ট গার্ডের লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেও শারীরিক যোগ্যতা বা ফিজিক্যাল টেস্টে বাদ পড়ে যান।
এরপর শুরু হয়েছিল জীবনের হতাশাজনক অধ্যায়। একটার পর একটা পরীক্ষা দিতে থাকেন। আর প্রতিবারই ব্যর্থতার ঝুলি বড় হতে থাকছিল। কখনও মাত্র কয়েক নম্বরের জন্য প্রিলিমসে আটকে যেতেন, কখনও ইন্টারভিউ বোর্ডে গিয়ে স্বপ্নভঙ্গ হত। সবমিলিয়ে প্রায় ৪০টি পরীক্ষায় কাঙ্খিত সাফল্য পাননি। সেজন্য জুটত উপহাসও। খোঁচা দিয়ে কেউ-কেউ বলতেন, ‘তোর দ্বারা কিচ্ছু হবে না, পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে মাঠে চাষ কর বা কোনও দোকান খোল।’
সপ্তম অ্যাটেম্পটে স্বপ্নপূরণ: রাজ্যে পঞ্চদশ স্থান অধিকার
কিন্তু মনোজ সেইসব কটূক্তিকে নিজের শক্তি বানিয়ে নিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, কঠোর পরিশ্রম কোনওদিন বৃথা যায় না। অবশেষে ২০২৪ সালে তাঁর এই পাহাড়সম ধৈর্যের চূড়ান্ত পুরস্কার মেলে। নিজের সপ্তম অ্যাটেম্পটে তিনি শুধু মধ্যপ্রদেশ সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় সফলই হননি, বরং সারা রাজ্যে দুর্দান্ত পারফর্ম করে পঞ্চদশ স্থা অর্জন করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


