Himalayan Rivers: হিমালয় থেকে নেমে আসা একাধিক নদী বদলাচ্ছে গতিপথ, উঠে এল চিনা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায়
বেজিংয়ের চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সেস এবং সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়েরর গবেষকেরা ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই গবেষণা চালান। তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বিশ্ব গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে।
হিমালয় থেকে নেমে আসা একাধিক নদী দ্রুত গতিপথ বদলাচ্ছে, আর এর পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহ গলার প্রভাব। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, গত চার দশকে হিমালয়ের নদীগুলির স্বাভাবিক গতিবিধিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। গবেষকদের মতে, উষ্ণায়নের ফলে নদীগুলি আরও অস্থির হয়ে উঠছে, যার জেরে ভবিষ্যতে বন্যা, ভূমিক্ষয় এবং পরিকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা বাড়তে পারে।

বেজিংয়ের চায়না ইউনিভার্সিটি অফ জিওসায়েন্সেস এবং সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়েরর গবেষকেরা ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত উপগ্রহচিত্র পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই গবেষণা চালান। তাঁদের পর্যবেক্ষণে দেখা গিয়েছে, হিমালয় অঞ্চলের তাপমাত্রা বিশ্ব গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বেড়েছে। এর ফলে হিমবাহ ও হিমায়িত মাটি দ্রুত গলছে, যা নদীর প্রবাহ ও পলির গতিবিধিতে বড় পরিবর্তন আনছে।
গবেষণায় মোট ১,৫৮২ কিলোমিটার নদীপথ এবং ১,০৭৯টি নদীবাঁক বিশ্লেষণ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, ১৯৮০-২০২০ সালের মধ্যে হিমালয়ের নদীগুলির গতিপথ পরিবর্তনের হার প্রায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। যেসব নদীবাঁকে প্রাকৃতিক বাধা কম, সেখানে এই পরিবর্তনের হার প্রায় দ্বিগুণের কাছাকাছি পৌঁছেছে। কোথাও নদী পুরনো পথ ছেড়ে ছোট রাস্তা নিয়েছে, আবার কোথাও সম্পূর্ণ নতুন গতিপথ তৈরি করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমবাহ গলে অতিরিক্ত জল নামার ফলে নদীগুলি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। পাশাপাশি ‘পারমাফ্রস্ট’ বা হিমায়িত মাটি গলে যাওয়ায় নদীর পাড় দুর্বল হয়ে পড়ছে। ফলে নদীর পক্ষে সহজে দিক পরিবর্তন করা সম্ভব হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে পাহাড়ি রাস্তা, সেতু, গ্রাম এবং সমতলের কৃষিজমিতেও। গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হিমালয়কে এশিয়ার 'ওয়াটার টাওয়ার' বলা হয়, কারণ এখানকার নদীগুলির উপর প্রায় ২০০ কোটি মানুষের জীবন ও কৃষি নির্ভরশীল। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের এই প্রভাব ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার জলনিরাপত্তা ও পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ABOUT THE AUTHORAbhijit Chowdhury২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More
E-Paper


