NEET UG 2026 Paper Leak: পরীক্ষার আগের রাতেই পড়ুয়ার কাছে মেসেজ! কীভাবে সিকরের শিক্ষক ফাঁস করেন নিট কেলেঙ্কারি
NEET UG 2026 Paper Leak: গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। তার জেরে বাতিল হয়ে গিয়েছে এই বছরের নিট পরীক্ষা।
NEET UG 2026 Paper Leak: মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি ছিল দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা নিট-ইউজির। ঠিক তার আগের রাতে রাজস্থানের সিকরের এক মেডিক্যাল পড়ুয়ার পাঠানো একটি ‘গেস পেপার’ থেকে শুরু হয়েছিল এমন এক ঘটনা, যা শেষমেশ বাতিল করে দিল পুরো পরীক্ষা, তদন্তের দায়িত্ব গেল সিবিআইয়ের হাতে। এরপরই সামনে এল সবচেয়ে বড় প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের সূত্র।

রাজস্থানের কোচিং সেন্টার সিকরের এক ছাত্র যখন তার ফোনে দুটি পিডিএফ নিয়ে শিক্ষকের অফিসে প্রবেশ করল, তখন প্রথমে এটিকে পরীক্ষা-পরবর্তী একটি সাধারণ গুজব বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শিক্ষক বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি ভারতের মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম বড় প্রশ্নফাঁসের সম্মুখীন হয়েছেন। গত ৩ মে নিট ইউজির পরীক্ষা নিয়েছিল ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)। প্রায় ২৩ লক্ষ পড়ুয়া এই পরীক্ষায় বসেন। জানা যায়, পরীক্ষার অন্তত একমাস আগে কিছু ছাত্রছাত্রীর হাতে এসেছিল একটি সম্ভাব্য প্রশ্নপত্র। তার জেরে বাতিল হয়ে গিয়েছে এই বছরের নিট পরীক্ষা। শুক্রবার ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি ঘোষণা করে আগামী ২১ জুন ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট আন্ডারগ্রাজুয়েট পরীক্ষা হতে চলেছে।
সেই অভিশপ্ত রাত
৩ মে মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর, একটি কোচিং ইনস্টিটিউটের সিনিয়র শিক্ষক ও অপারেটর রজত (ছদ্মনাম) পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ফেরা ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে দেখা করেন। দুই ঘণ্টা পর, সতীশ (নাম পরিবর্তিত) নামের এক ছাত্র রজতের কাছে আসে। ওই ছাত্র বলেন, 'স্যার, আমার কী করা উচিত?' তখন সে রজতকে তার বাড়িওয়ালার পাঠানো একটি ‘গেস পেপারের’ দুটি পিডিএফ দেখায়। আর সেখানেই ধরা পড়ে আসল চমক! শিক্ষক যখন নিটের আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন, দেখা যায়, আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে প্রায় ১৩৫টি প্রশ্ন হুবহু মিলে গিয়েছে। এরপরেই রজত সঙ্গে সঙ্গে সতীশকে সোজা তাঁর অফিসে নিয়ে যান। রজত এইচটি-কে বলেন, 'ওরা খুশি ছিল কারণ পরীক্ষা ভালো হয়েছিল। তবে কেউ কেউ ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্নও ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সতীশ পিডিএফগুলো নিয়ে আমার কাছে আসে, আমি তাকে আলাদাভাবে আমার অফিসে নিয়ে যাই কারণ আমি ছাত্রছাত্রীদের সামনে এত সংবেদনশীল একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চাইনি।'
জিজ্ঞাসাবাদ
এরপর রজত ও আরেকজন শিক্ষক তিন ঘণ্টা ধরে নথিগুলো খতিয়ে দেখেন। রাত ৯টা নাগাদ তাঁরা দেখতে পান যে, ১০৮টির মধ্যে ৪৫টি প্রশ্ন হুবহু একই। পরে এক জীববিজ্ঞান শিক্ষক দেখেন, ২০৪ প্রশ্নের মধ্যে ৯০টি মিলে গেছে। প্রথম পিডিএফটিতে স্ক্যান করা ও হাতে লেখা রসায়নের প্রায় ৬০ পৃষ্ঠার প্রশ্ন ছিল । দ্বিতীয় পিডিএফটিতে টাইপ করা জীববিজ্ঞানের ৮৭ পৃষ্ঠার প্রশ্ন ছিল। এ প্রসঙ্গে রজত বলেন, 'আমরা অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। সতীশ সঙ্গে সঙ্গে তার বাড়িওয়ালাকে ফোন করে, যিনি তাকে জানান যে ২ মে রাত প্রায় ১১টার দিকে তিনি পিডিএফগুলো তার ছেলের কাছ থেকে পেয়েছেন। তার ছেলে কেরলে ডাক্তারি পড়ছে। আমরা দুজনেই দ্বিধায় পড়ে গিয়েছিলাম।'
থানায় টানটান নাটক
ওই দুই শিক্ষক প্রথমে বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু তাঁদের বলা হয় যে এর জন্য পুলিশে অভিযোগ করা প্রয়োজন। তাই রজত সতীশকে স্থানীয় থানায় পাঠিয়ে দেন। 'সেখানে একজন সাব-ইন্সপেক্টর ছিলেন। তিনি বিষয়টি শুনলেন, কিন্তু সতীশকে পরদিন সকালে একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে ফিরে এসে স্টেশন হাউস অফিসারের কাছে জমা দিতে বলেন,' রজত জানান। সেই অভিযোগটি আর পরবর্তী পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পাল্টা উদ্যোগ নগর থানার এসএইচও রাজেশ কুমার বলেন, 'আমরা তাদের জন্য অপেক্ষা করলেও পরদিন সকালে তারা আর ফিরে আসেনি। খবরটা অত্যন্ত সংবেদনশীল ছিল। কোনও জোরালো প্রমাণ এবং লিখিত বিস্তারিত অভিযোগ ছাড়া আমরা কীভাবে এফআইআর দায়ের করতে পারতাম?'
এনটিএ-কে পাঠানো ইমেইল
৭ মে, রজত ও সতীশ এনটিএ-কে ইমেল করার সিদ্ধান্ত নেন। রাজস্থান প্রশাসনিক পরিষেবা (আরএএস)-এর একজন স্থানীয় কর্মকর্তা তাদের বার্তাটির খসড়া তৈরিতে সাহায্য করেন। রজত বলেন, 'আমি জানি, এই অভিযোগটি করার জন্য আমার অনেক সহকর্মী শিক্ষক, অন্যান্য কোচিং সেন্টার, এমনকী ছাত্রছাত্রীরাও আমাকে পছন্দ করবে না। কিন্তু আমি মনে করি, তরুণ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের বাঁচানোর জন্য এটাই সঠিক কাজ ছিল।' রজত তার অ্যাকাউন্ট থেকে সতীশের নাম ব্যবহার করে ইমেলটি পাঠিয়েছিল। ইমেলটির একটি অংশে লেখা ছিল, 'আমার কাছে আরও আছে: পিডিএফগুলোর কপি/ছবি, মোবাইল ডিভাইসে ফাইলগুলো পাওয়ার সময় ও সময় দেখানো স্ক্রিনশট/ছবি, এবং ফাঁস হওয়া পিডিএফ ও আসল পরীক্ষার প্রশ্নগুলোর মধ্যে সাদৃশ্য প্রমাণকারী নথি।'
E-Paper

