UPSC Civil Services Success Tips: বাবা চা বেচতেন, ২৮ লাখের চাকরি ছেড়ে প্রথমবারেই IAS হলেন সরকারি স্কুলে পড়া তরুণ
UPSC Civil Services Success Tips: বাবা সবজি ও চা বিক্রি করতেন। ২৮ লাখ টাকার চাকরি ছেড়ে প্রথমবারেই IAS হলেন সরকারি স্কুলে পড়া তরুণ। তাঁর বয়স মাত্র ২৩।
UPSC Civil Services Success Tips: অদম্য জেদ আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে যে কোনো বাধাই যে জয় করা সম্ভব, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন দিল্লির তরুণ আয়ূষ গোয়েল। অভাবের সংসারে বড় হয়েও মাত্র ২৩ বছর বয়সে নিজের প্রথম প্রচেষ্টাতেই দেশের সবথেকে কঠিন পরীক্ষা ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস ক্র্যাক করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। আজ তিনি একজন আইএএস (IAS) অফিসার। কিন্তু এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে এক দীর্ঘ লড়াই এবং ত্যাগের গল্প।

সংগ্রামের দিনগুলি
আয়ূষের পরিবার হরিয়ানার হিসারের বাসিন্দা। ১৯৯৭ সালে ভালো জীবনের আশায় তাঁর বাবা সুভাষচন্দ্র গোয়েল দিল্লি চলে আসেন। পরিবারের ভরণপোষণের জন্য তিনি কখনও রাস্তায় সবজি বিক্রি করেছেন, কখনও আবার চায়ের দোকান দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি দিল্লির শাহদরায় একটি ছোটো মুদির দোকান চালান। মা মীরা দেবী একজন গৃহবধূ। অভাব থাকলেও সন্তানের শিক্ষায় কোনও খামতি রাখেননি এই দম্পতি। দিল্লির একটি সরকারি স্কুল (রাজকীয় প্রতিভা বিকাশ বিদ্যালয়) থেকেই পড়াশোনা শুরু হয় আয়ূষের।
মেধাবী ছাত্র থেকে কর্পোরেট দুনিয়া
আয়ূষ বরাবরই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। দশম শ্রেণিতে ৯১.২ শতাংশ এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে বাণিজ্য বিভাগে ৯৬.২ শতাংশ নম্বর পান তিনি। এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামী হংসরাজ কলেজ থেকে ইকোনমিক্স অনার্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন। গ্র্যাজুয়েশনের পর ক্যাট (CAT) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আইআইএম (IIM) কোঝিকোড় থেকে এমবিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পড়াশোনার জন্য ২০ লাখ টাকার শিক্ষা ঋণও নিয়েছিলেন তিনি। এমবিএ শেষ করার পর জেপি মর্গ্যান নামক বিশ্ববিখ্যাত সংস্থায় বার্ষিক ২৮ লাখ টাকার প্যাকেজে চাকরি পান আয়ূষ।
আকস্মিক সিদ্ধান্ত ও বাবার দুশ্চিন্তা
চাকরি পাওয়ার পর পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করেছিল। কিন্তু সাত মাসের মাথায় আয়ূষ বুঝতে পারেন, কর্পোরেট জগতের এই বিলাসবহুল জীবন তাঁকে তৃপ্তি দিচ্ছে না। তিনি দেশের জন্য, বিশেষ করে শিক্ষা ক্ষেত্রে কিছু করতে চেয়েছিলেন। যখন তিনি চাকরি ছেড়ে ইউপিএসসি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তখন তাঁর বাবা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। এমনকী চাকরি ছাড়ার খবর শুনে তিনি অসুস্থও হয়ে পড়েন। কোম্পানি আয়ূষকে বছরে ১.৫ কোটি টাকার প্যাকেজে নিউ ইয়র্ক যাওয়ার অফার দিলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
একটানা প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত সাফল্য
চাকরি ছেড়ে ২০২১ সালের নভেম্বর মাস থেকে পুরোদমে ইউপিএসসির প্রস্তুতি শুরু করেন আয়ূষ। কোনও কোচিং ছাড়াই নিজস্ব স্ট্র্যাটেজিতে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০২২ সালের ইউপিএসসি প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ছিল তাঁর জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা। নিজের অধ্যাবসায় এবং একাগ্রতার জোরে ২০২২ সালের ইউপিএসসি সিএসইতে ১৭১ র্যাঙ্ক অর্জন করেন তিনি। আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির কোটা থাকায় তিনি আইএএস ক্যাডার পান এবং বর্তমানে তিনি কেরলম ক্যাডারে নিযুক্ত।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
আয়ূষ মনে করেন, সঠিক দিকনির্দেশনা থাকলে যে কোনও সরকারি স্কুলের ছাত্রই বিশ্ব জয় করতে পারে। একজন আইএএস অফিসার হিসেবে তাঁর লক্ষ্য হল যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা এবং দুঃস্থ মেধাবী পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানো।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper


