২.৯ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে মুদিখানা দোকান চালাচ্ছেন IIT-র গোল্ড মেডেলিস্ট, কারণ জানলে স্যালুট করবেন

আমেরিকায় ২.৯ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে ভারতেই মুদিখানা দোকান চালাচ্ছেন আইআইটি বম্বের গোল্ড মেডেলিস্ট। আর যে কারণে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি, সেটা জানলে নিশ্চিতভাবে স্যালুট করবেন। সেইসঙ্গে বাচ্চাদের কোডিংও শেখান।

Published on: Jul 5, 2026, 16:59:15 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

সময় এবং পরিস্থিতি মানুষের জীবনকে কোন দিকে মোড় এনে দেবে, তা কেউ আগে থেকে বলতে পারে না। সাফল্যের শীর্ষবিন্দুতে পৌঁছেও অনেক সময় মানুষকে জীবনের কঠিনতম বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়। এমনই এক অভূতপূর্ব ও আবেগঘন মোড় এসেছে বিবেক শর্মার জীবনে। আইআইটি বম্বের গোল্ড মেডেলিস্ট আজ আদর্শ হয়ে উঠেছেন অনেকের কাছেই। প্রশংসা পাচ্ছেন সমাজের সর্বস্ত থেকে।

২.৯ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে মুদিখানা দোকান চালাচ্ছেন আইআইটি বম্বের গোল্ড মেডেলিস্ট। (ছবি সৌজন্যে, এক্স @VikasAlwys)
২.৯ কোটি টাকার চাকরি ছেড়ে মুদিখানা দোকান চালাচ্ছেন আইআইটি বম্বের গোল্ড মেডেলিস্ট। (ছবি সৌজন্যে, এক্স @VikasAlwys)

২.৯ কোটি টাকার সেই স্বপ্নের অফার

আইআইটি বম্বে থেকে পাশ করার পরেই বিবেকের সামনে খুলে যায় বিশ্বমঞ্চের দরজা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোর একটি স্টার্ট-আপ থেকে তাঁর কাছে চাকরির প্রস্তাব আসে। বার্ষিক প্যাকেজ ছিল প্রায় ২.৯ কোটি টাকা। শুধু বিশাল বেতন নয়, সঙ্গে ছিল সম্পূর্ণ স্পনসরড ভিসা, রিলোকেশন অ্যালাউন্স এবং আন্তর্জাতিক স্তরে কেরিয়ার গড়ার এক সুবর্ণ সুযোগ। বিবেক যখন পাসপোর্ট-ভিসা গুছিয়ে আমেরিকা যাওয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে নেমে এসেছিল এক দুর্যোগ।

আরও পড়ুন: IIT Kharagpur alumni cracks UPSC: মেগা সিরিয়ালে লক্ষ্মণের 'ভাই' হন, মাইক্রোসফট ছেড়ে IPS হলেন IIT খড়্গপুরের অভয়

আমেরিকা যাত্রার ঠিক আগেই ওলটপালট জীবন

বিবেকের আমেরিকা রওনা হওয়ার মাত্র কিছুদিন আগে তাঁর পরিবারে এক বড়সড় বিপর্যয় ঘটে। হঠাৎই তাঁর বাবা হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং প্রায় একই সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে যে তাঁর মা ক্যানসারে আক্রান্ত। জীবনের সবচেয়ে বড় আনন্দের মুহূর্ত নিমেষের মধ্যে এক চরম বিষাদে পরিণত হয়।

আরও পড়ুন: IITian rejects 32 LPA job: টাকার থেকে শান্তি বড়! ৩২ লাখ টাকার চাকরি ফিরিয়ে IIT-র স্নেহা থাকছেন প্রিয় শহরে

কানপুরে মুদির দোকান

কিন্তু বাবা-মায়ের পাশে থাকার জন্য কানপুরে মা-বাবার কাছে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বিবেক। চিকিৎসার খরচ চালানো এবং সংসার পরিচালনার জন্য বাড়ির নিচেই একটি ছোটো মুদির দোকান খোলেন। দিনের বেলা তিনি দোকানে বসেন এবং মা-বাবার সেবা করেন। মুদির দোকান চালানোর পাশাপাশি বিবেক তাঁর এলাকার দরিদ্র ও অভাবী শিশুদের বিনামূল্যে কোডিং (Coding) এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামিং শেখান।

আরও পড়ুন: UPSC Civil Services Success Story: বাবা ট্যাক্সিচালক, নিজে পশু চরাতেন, সেই মেয়ে UPSC পরীক্ষায় ক্র্যাক করে IAS হলেন

সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসার ঝড়

বিবেকের এই কাহিনী সামনে আসতেই সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যক্তিত্বরা তাঁর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন। এক নেটিজেন লিখেছেন, ‘সাফল্য সবসময় বড় পারিশ্রমিক বা বহুজাতিক সংস্থায় কাজ করার দ্বারা বোঝা যায় না। বিবেক দেখিয়েছেন যে আসল সাফল্য হল, সংকটের সময়ে সেই মানুষদের পাশে থাকা, যাঁরা আপনার জন্য নিজেদের জীবন বাজি রেখেছিলেন।’ অপর একজন মন্তব্য করেছেন, ‘টাকা আবার উপার্জন করা যায়, কিন্তু বাবা-মা চলে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। বিবেকের এই সিদ্ধান্ত আমাদের শেখায় জীবনের আসল অগ্রাধিকার কী হওয়া উচিত।’

  • Ayan Das
    ABOUT THE AUTHOR
    Ayan Das

    অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More