India slams Pakistan: 'আইন নেই...,' নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের, মনে করাল ৭১-র গণহত্যা

India slams Pakistan: এই বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করেন হরিশ পার্বথানেনি। 

Published on: May 21, 2026, 12:03:44 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

India slams Pakistan: রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ‘গণহত্যার কলঙ্কিত ইতিহাস’ তুলে ইসলামাবাদকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ শানাল নয়া দিল্লি। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে ভারত জানিয়েছে, পাকিস্তানের অমানবিক আচরণ থেকে বোঝা যায় এরা কী ভাবে দশকের পর দশক ধরে অভ্যন্তরীণ সমস্যা ও ব্যর্থতাকে হিংসার চেহারা দিয়েছে, যা ক্রমে সীমান্ত পার করেছে। 'সশস্ত্র সংঘাতের সাধারণ নাগরিকদের সুরক্ষা' নিশ্চিত করার বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বার্ষিক বিতর্কে, ইসলামাবাদের ‘শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের’ বড় বড় বুলি যে কতটা 'ভন্ডামি', তা প্রমাণ করতে আফগানিস্তানে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক অমানবিক সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গটি বিশ্বমঞ্চের সামনে তুলে ধরেন রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি হরিশ পার্বথানেনি।

নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের
নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানকে তুলোধোনা ভারতের

রাষ্ট্রসংঘে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি, পাক প্রতিনিধিকে কার্যত তুলোধোনা করে বলেন, 'এটা অত্যন্ত বিদ্রূপাত্মক এবং হাস্যকর যে, যে পাকিস্তানের নিজের ট্র্যাক রেকর্ড বছরের পর বছর ধরে নৃশংস গণহত্যার কালো দাগে কলঙ্কিত, তারা আজ এমন একটা বিষয় নিয়ে কথা বলছে, যা সম্পূর্ণভাবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।' নিরাপত্তা পরিষদের ওই বিতর্কের মাঝপথে প্রথাগতভাবে জম্মু ও কাশ্মীর প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন পাকিস্তানের প্রতিনিধি। আর তার জবাবেই ধেয়ে আসে ভারতের ঝাঁঝালো ও তথ্যসমৃদ্ধ আক্রমণ।

আফগানিস্তানে সামরিক অভিযান পাকিস্তানের- মুখোশ খুলল ভারত

এই বছরের শুরুর দিকে আফগানিস্তানের মাটিতে পাকিস্তানের বিমান হামলার কড়া সমালোচনা করেন হরিশ পার্বথানেনি। তিনি বলেন, ‘বিশ্ব ভুলে যায়নি যে, এ বছরের মার্চে পবিত্র রমজান মাসে-যখন শান্তি, আত্মসমালোচনা ও করুণার সময় চলছিল, পাকিস্তান কাবুলের ওমিদ অ্যাডিকশন ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে একটি বর্বর বিমান হানা চালিয়েছিল।’ রাষ্ট্রসংঘের আফগানিস্তান সহায়তা মিশন বা 'ইউনামা'-র সরকারি রিপোর্টের তথ্য উল্লেখ করে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি জানান, 'পাকিস্তানের এই কাপুরুষোচিত এবং বিবেকহীন হিংসাত্মক হামলায় ২৬৯ জন নিরীহ নাগরিক প্রাণ হারিয়েছিলেন এবং আহত হয়েছিলেন আরও ১২২ জন। এমন একটি প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়েছিল, যেটিকে কোনওভাবেই সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় না।’ তিনি আরও যোগ করেন, 'অন্ধকারের মধ্যে নিরীহ সাধারণ মানুষকে নিশানা করে পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক আইনের উচ্চ আদর্শেরর কথা বলা ভণ্ডামি ছাড়া কিছু নয়।’

ইউনামা-র তথ্য অনুযায়ী, কাবুলের ওই হাসপাতালে যখন বিমান হামলা চালানো হয়, তখন সন্ধ্যকালীন তারাবি নমাজ শেষ করে বহু রোগী ও সাধারণ মানুষ মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, আফগান সাধারণ নাগরিকদের বিরুদ্ধে সীমান্ত পারের সশস্ত্র হিংসার কারণে ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভারতের রাষ্ট্রদূত বলেন, পাকিস্তানের এমন ‘জঘন্য আগ্রাসন’ আচরণ একেবারেই আশ্চর্যজনক নয়। কারণ, এটি এমন একটি দেশ, ‘যে দেশ নিজেদের জনগণের ওপরই বোমা বর্ষণ করে এবং সুপরিকল্পিতভাবে গণহত্যা চালায়।’

‘অপারেশন সার্চলাইট’

এ সময় হরিশ পার্বথানেনি বলেন, ১৯৭১ সালে 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে পাকিস্তান সরকার ও তাদের নিজেদের সেনাবাহিনী সুপরিকল্পিতভাবে প্রায় ৪ লক্ষ মহিলার ওপর প্রাতিষ্ঠানিক ও গণধর্ষণের মতো পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছিল। এটি ছিল একটি সুনির্দিষ্ট ‘জেনোসাইডাল ক্যাম্পেন’ বা গণনিধনের নীলনকশা। অপারেশন সার্চলাইট ছিল ১৯৭১ সালের মার্চে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে, বর্তমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পরিচালিত অভিযানের সাংকেতিক নাম। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অমানবিক আচরণ প্রতিফলিত করে যে, পাকিস্তান কীভাবে দশকের পর দশক নিজেদের অভ্যন্তরীণ ব্যর্থতা আড়াল করতে দেশের অভ্যন্তরে ও সীমান্তের বাইরে ক্রমশ মরিয়া সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বাস নেই, আইন নেই, নৈতিকতাও নেই। বিশ্বের মানুষ পাকিস্তানের অপপ্রচারের বাস্তব রূপ দেখতে পাচ্ছে।’