Great Nicobar Project: ঘুম উড়ছে প্রতিপক্ষের! চিনের নজরদারি ঠেকাতে সামরিক প্রতিরোধ ভারতের

Great Nicobar Project: যদিও গ্রেট নিকোবর দ্বীপে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেন্দ্রের গ্রেড নিকোবর প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি।

Published on: May 3, 2026, 19:49:09 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

Great Nicobar Project: যদিও পরিকল্পনা হয়েছিল ২৫ বছর আগে, অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়। এবার তা রূপায়নে তৎপর হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার। ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে সমুদ্রের বুকে গড়ে তোলা হবে সশস্ত্র বাহিনীর সদা-যুদ্ধপ্রস্তুত এক ঘাঁটি। সেনা, বায়ুসেনা ও নৌসেনার মিশেলে তৈরি এক যৌথ বাহিনী মোতায়েন থাকবে সেখানে।

চিনের নজরদারি ঠেকাতে সামরিক প্রতিরোধ ভারতের (HT Photo)
চিনের নজরদারি ঠেকাতে সামরিক প্রতিরোধ ভারতের (HT Photo)

২০০০-এর দশকের শুরুতেই ওই অঞ্চলে ভারতের প্রতিপক্ষ চিন তার সামরিক নীতি স্থল থেকে সমুদ্রকেন্দ্রিক করে তুলেছিল। এরপর নয়া দিল্লি ২০১৪ সালের পর থেকে তার সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবতে শুরু করে। অন্যদিকে, ধারাবাহিক ভাবে চিনা পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)-র নৌশাখার নজরদারি জাহাজ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী ট্র্যাকার, যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনগুলো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ধারাবাহিক ভাবে প্রবেশ করতে থাকে। পাশাপাশি, কম্বোডিয়া, শ্রীলঙ্কা, মায়ানমার, মলদ্বীপ, ইরান এবং আফ্রিকার পূর্ব উপকূলে তাদের লজিস্টিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রে খবর, বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে ছয় থেকে সাতটি চিনা সামরিক জলযান ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে থাকে এবং এই দশকের মধ্যে বিমানবাহী রণতরী-সহ চিনা টাস্ক ফোর্সগুলিও মাঝেমধ্যেই এই অঞ্চলে প্রবেশ করছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে এই পরিস্থিতিতে ভারতের সামনে এক মাত্র বিকল্প হলো লক্ষদ্বীপ এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে দীর্ঘ-পাল্লার সক্ষমতা গড়ে তোলা। তবেই ভারত সমুদ্র-নিষেধাজ্ঞা (সামরিক পরিভাষায় ‘সি-ডিনায়েল’) এবং সমুদ্র-প্রবেশ প্রতিরোধ (সি-অ্যাকসেস ডেটারেন্স) কার্যকর করতে পারবে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বীর বিরুদ্ধে কৌশলগত সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারবে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা ছাড়াও, দেশের পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলে বিশ্বমানের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব থাকায় এই দ্বীপ অঞ্চলে দেশের জন্য বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতের প্রথম চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (সিডিএস) জেনারেল বিপিন রাওয়াতই জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে মিলে গ্রেট নিকোবরের ক্যাম্বেল বে এলাকায় বিশ্বমানের ট্রান্সশিপমেন্ট হাব গড়ে তোলার এবং ভারতের জন্য একটি সামরিক ঘাঁটিতে পরিণত করার পরিকল্পনা করেছিলেন, যার উদ্দেশ্য ছিল যে কোনও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রথম আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করা এবং দেশের বাইরে থাকা অভ্যন্তরীন ভাগকে সুরক্ষিত রাখা। চিনের সামরিক গতিবিধির উপর নজরদারি বাড়াতে কয়েক বছর আগেই আন্দামানে নতুন একটি বিমানঘাঁটি চালু করেছিল ভারত। পোর্ট ব্লেয়ার থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উত্তরে গড়ে তোলা হয় ‘কোহাসা’ নামে এই ঘাঁটিটি। কার নিকোবরে বায়ুসেনা ঘাঁটি, কামার্তো দ্বীপে আইএনএস কারদ্বীপ, ক্যাম্বেল বে দ্বীপে বিমানঘাঁটির পাশাপাশি এবার নিকোবরে নতুন সংযুক্ত ঘাঁটি তৈরি হলে ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নয়া দিল্লির প্রভাব আরও বাড়বে।

যদিও গ্রেট নিকোবর দ্বীপে উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে তোপ দেগেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তাঁর বক্তব্য ছিল, কেন্দ্রের গ্রেড নিকোবর প্রকল্প দেশের প্রাকৃতিক ও আদিবাসী ঐতিহ্যের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় কেলেঙ্কারি। এই গোটা বিষয়টিকে দেশের সবচেয়ে বড় এবং জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন রাহুল। শুধু তাই নয়, গত বছরের সেপ্টেম্বরে একটি সম্পাদকীয়তে কংগ্রেসের সংসদীয় চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধীও এই প্রকল্পকে দ্বীপপুঞ্জের আদিবাসীদের শোষণ এবং সেখানকার জনগোষ্ঠী ও বাস্তুতন্ত্রের প্রতি হুমকি বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। যদিও নরেন্দ্র মোদী সরকার গ্রেট নিকোবরে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর উদ্বেগের লিখিত জবাব দিয়েছে।