T20 World Cup 2026 Champion India: তিন অভিশাপও হার মানল গম্ভীরের রেকর্ডের কাছে, ঐতিহাসিক T20 বিশ্বকাপ জয় ভারতের
ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় ভারতের। এই প্রথমবার ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল কোনও দল। প্রথমবার কোনও দল পরপর দু'বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। ২০২৪ সালে জিতিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। এবার জেতালেন সূর্যকুমার যাদব।
তিন 'অভিশাপ' ভেঙে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। এতদিন কোনও দল পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি কোনও দল। আজ সেইসব অভিশাপ ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল। আর সবথেকে বড় যে 'অভিশাপ' ঘুচল, সেটা হল ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের হৃদয়ভঙ্গের রাতে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আমদাবাদের যে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অভিশপ্ত রাত কেটেছিল, ২০২৬ সালের ৮ মার্চ সেটাই পরিণত হল বিজয়োল্লাসের রাতে। যা দেখে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের রেকর্ডের কাছে টিকল না কোনও অভিশাপ। খেলোয়াড় হিসেবে বা ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে - গম্ভীর যখনই আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছেন, তখনই টিম ইন্ডিয়া কাপ জিতে মাঠ ছেড়েছে। আজ টি-টোয়েন্টি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধ্বংস করে দিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২৫৫ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

অভিষেক, সঞ্জু ও ইশানের বিস্ফোরণ
আর সেইসব অভিশাপ কাটানোর জন্য যেন রবিবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে মাঠে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে। যা টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর। তাও রানটা বেশি হতে পারত কিছুটা। কিন্তু ১৬ তম ওভার থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত চার ওভারে মাত্র ২৮ রান ওঠে। তারপরও যে ভারত ২৫৫ রান তুলে ফেলে, সেটার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন এবং ইশান কিষান।
প্রথম উইকেটে ৭.১ ওভারে ৯৮ রান যোগ করেন অভিষেক এবং সঞ্জু। তারপর দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জুর সঙ্গে ৪৮ বলে ১০৫ রান যোগ করেন ইশান। সঞ্জু ৪৬ বলে ৮৯ রান করেন। ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক। ২৫ বলে ৫৪ রান করেন ইশান। আর শেষের দিকে আট বলে ২৬ রান অপরাজিত থাকেন শিবম দুবে। শেষ ওভারেই তিনি ২৪ রান তোলেন।
অক্ষরের ফাটকার পরে বুমরাহ-ইশান ম্যাজিক
সেই ছন্দে বোলিংয়েও ধরে রাখে ভারত। প্রথম ওভারে ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ফস্কানো এবং দ্বিতীয় ওভারে ২০ রান হজম করার পরে অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে ফাটকা খেলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। যা পুরোপুরি কাজে দেয়। প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী অ্যালেনকে আউট করে দেন। পরের ওভারেই বল হাতে নিয়ে প্রথমেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে সেটার কৃতিত্ব পাওয়া উচিত ইশানেরও। দুর্ধর্ষ ক্যাচ ধরেন তিনি।
আর সেখান থেকেই নিজেদের হাতে ম্যাচের রাশ তুলে নেয় ভারত। টিম সেফার্ত কিছুটা চেষ্টা করলেও তাঁর উইকেট তুলে নিয়ে কিউয়িদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন বরুণ চক্রবর্তী। যিনি গত ম্যাচের মতো ফাইনালেও সেরকম ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু ২৬ বলে ৫২ রান করা সেফার্তকে আউট করে দিয়ে নিজের ছাপ রেখে যান। তাছাড়া ভারতের হয়ে চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট নেন বুমরাহ। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও পেসারের সেরা বোলিং ফিগার। সেইসঙ্গে তিনটি উইকেট পান অক্ষর। তিন ওভারে ২৭ রান খরচ করেন।
ABOUT THE AUTHORAyan Dasঅয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।Read More
E-Paper











