Foreign Investment: ইরান যুদ্ধের আঁচ ভারতেও! বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বড় পদক্ষেপ সরকারের : সূত্র
Foreign Investment: সূত্রের খবর, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে।
Foreign Investment: ইরান যুদ্ধের জেরে বেসামাল দেশের অর্থনীতি। বিদেশি মুদ্রা সাশ্রয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে দেশবাসীকে একগুচ্ছ আর্জি জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তাতেও বিশেষ লাভ হয়নি। ডলারের তুলনায় ক্রমেই পড়ছে টাকার দাম। তাই এবার ভারতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

সূত্রের খবর, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ভারতীয় সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভ কর সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। বুধবারই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে। ফলে ভারতে সরকারি ঋণপত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আর মূলধনী লাভের উপর কর দিতে হবে না। বিদেশি মূলধন প্রবাহ বাড়ানো, টাকার মান স্থিতিশীল রাখা এবং ঋণ বাজারে তারল্য বৃদ্ধি করাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই পরিবর্তন কার্যকর করতে আয়কর আইন সংশোধনের জন্য একটি অধ্যাদেশ জারির অনুমোদনও দিয়েছে। রাষ্ট্রপতির সম্মতির পরই নতুন বিধান কার্যকর হবে বলে জানা গিয়েছে। সরকারের আশা, এই পদক্ষেপে ভারতের বাজারে বিদেশি বিনিয়োগ আরও বাড়বে। শুধু তাই নয়, সরকারি বন্ড থেকে অর্জিত সুদের আয়ের উপর করের বোঝাও কমানোর বিষয়ে সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
বর্তমানে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের (এফপিআই) তালিকাভুক্ত শেয়ার ও বন্ডে ১২ মাসের বেশি সময় বিনিয়োগ ধরে রাখলে ১২.৫ শতাংশ দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ কর দিতে হয়। তবে নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভারতীয় সরকারি সিকিউরিটিজে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাভের উপর আর কোনও মূলধনী লাভ কর ধার্য করা হবে না। এছাড়া সরকারি ঋণপত্র থেকে অর্জিত সুদের উপর তাঁদের ২০ শতাংশ উইথহোল্ডিং ট্যাক্সও দিতে হয় তাঁদের। এর আগে ৫ শতাংশের একটি রেয়াতি করহার চালু থাকলেও ২০২৩ সালে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে, চলতি বছরে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় শেয়ার বাজার থেকে প্রায় ২.৫ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ তুলে নিয়েছেন। ফলে প্রভাব পড়ছে টাকার দামে। ২০২৬ সালকে বিদেশি তহবিল প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম খারাপ বছর হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে রুপির উপর চাপ বেড়েছে এবং বাজারে ডলারের প্রবাহ কমেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান কর কাঠামো ভারতের সরকারি বন্ডকে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির তুলনায় কম আকর্ষণীয় করে তুলেছিল। ফলে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী ভারতীয় ঋণ বাজারে আগ্রহ হারিয়েছিলেন। নতুন কর ছাড় সেই পরিস্থিতি বদলাতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারি বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার শক্তিশালী হবে, ঋণ বাজারে তারল্য বৃদ্ধি পাবে এবং টাকার মান ধরে রাখতে সাহায্য করবে। পাশাপাশি সরকারের জন্য অর্থ সংগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎসও তৈরি হবে। অপরিশোধিত তেলের দাম, মুদ্রাস্ফীতি এবং চলতি হিসাবের ঘাটতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্রের মতে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এটি হতে পারে আরও কয়েকটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সূচনা। বাজার এখন সরকারের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি এবং সম্ভাব্যভাবে আরবিআই-র পরবর্তী ঘোষণার দিকে নজর রাখছে।
E-Paper

