...
...
Next Story

India-China Relation: 'ভারত-চিনকে আলাদা করা যাবে না, কোনও কোনও দেশ চায় না যে..', US-কে নিশানা ড্রাগনের

চিনা রাষ্ট্রদূত যে মন্তব্য করেছেন, তা ভারত-চিন সম্পর্কের এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একদিকে যখন সীমান্তে উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনা চলছে, অন্যদিকে তখন কূটনৈতিক স্তরে এই ধরণের বার্তা বেশ ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Published on: Mar 27, 2026, 07:58:32 IST
Advertisement

বর্তমানে বিশ্ব-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভারত ও চিনের সম্পর্ক সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। তারইমধ্যে ভারতে নিযুক্ত চিনা রাষ্ট্রদূত শু ফেইহং দু'দেশের উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা ভূ-রাজনৈতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ভারত ও চিনের মধ্যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা কোনও বাইরের শক্তির দাক্ষিণ্যের ফল নয়, বরং এটি দুই দেশের মানুষের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। সেইসঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, ভারত এবং চিনকে আলাদা করা যাবে না। অন্য কারও উপরে সেটা নির্ভর করে না বলে দাবি করেছেন চিনা রাষ্ট্রদূত।

মার্কিন মন্তব্যের কড়া জবাব

ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকাকে খোঁচা চিনা রাষ্ট্রদূতের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে গুগল জেমিনাই - ন্যানো ব্যানানা)
ভারত-চিন সম্পর্ক নিয়ে আমেরিকাকে খোঁচা চিনা রাষ্ট্রদূতের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্যে গুগল জেমিনাই - ন্যানো ব্যানানা)

চিনা রাষ্ট্রদূতের এই বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নাম না করে আমেরিকার সমালোচনা। সম্প্রতি মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল যে, অতীতে চিনের ক্ষেত্রে যে ভুল করা হয়েছিল, সেটা ভারতের ক্ষেত্রে করা হবে না। এই প্রসঙ্গের রেশ টেনেই চিনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ভারত ও চিন যে উচ্চতায় পৌঁছেছে, তা কারও উদারতা বা দাক্ষিণ্যের কারণে হয়নি। আমাদের এই উন্নতি আমাদের নিজস্ব মেধা এবং শ্রমের ফল।’ তিনি আরও যোগ করেন যে কোনও তৃতীয় শক্তির উচিত নয়, দু'দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন বা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মাঝে বাধা হয়ে দাঁড়ানো।

আরও পড়ুন: China on Bangladesh: হস্তক্ষেপ চাই না, বাংলাদেশি বিদেশমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের বৈঠকের আবহে বললেন চিনা দূত

​অবিচ্ছেদ্য প্রতিবেশী ও পারস্পরিক স্বার্থ

আরও পড়ুন: China Nuclear Center Reports: পরমাণু ঘাঁটি নির্মাণে পাহাড় খুঁড়ছে চিন, ভারতের চিন্তা বাড়িয়ে সামনে এল স্যাটেলাইট চিত্র

​বিভ্রান্তি ও 'চিন আতঙ্ক' নিয়ে সতর্কতা

রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেন যে, কিছু নির্দিষ্ট পক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে ভারত ও চিনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তারা প্রতিনিয়ত ‘চিন আতঙ্ক’ নামক ধারণাটি প্রচার করে দু'দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বাড়াতে চায়। চিনা রাষ্ট্রদূত ভারতের তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানান যেন তারা কোনও নির্দিষ্ট তথ্যের গণ্ডিতে আটকে না থেকে নিরপেক্ষভাবে সত্যকে অনুধাবন করে। তিনি মনে করেন, দুই দেশের মানুষের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়লে এই কৃত্রিম দূরত্ব দূর করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: Indian projects along Pakisan-China border: চিন-পাক সীমান্ত এলাকায় ৩৯,০০০-র বেশি প্রকল্পে অনুমতি ভারতের, আসল কারণটা কী?

​গ্লোবাল সাউথ ও নতুন আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা

এশীয় শক্তির ভারসাম্য রক্ষায় ভারত ও চিনের ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্ব বর্তমানে এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন সংরক্ষণবাদ বাড়ছে, অন্যদিকে একতরফাবাদের কারণে আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হচ্ছে। এমতাবস্থায় 'গ্লোবাল সাউথ'-এর দুই প্রধান স্তম্ভ হিসেবে ভারত ও চিনকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় এই দুই শক্তির ঐক্যবদ্ধ হওয়া সময়ের দাবি।

 
ABOUT THE AUTHOR
Ayan Das

অয়ন দাস হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সিনিয়র কনটেন্ট প্রোডিউসার। প্রায় এক দশক ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত আছেন। সাংবাদিক হিসেবে তিনি মূলত পশ্চিমবঙ্গ-সহ ভারতের রাজনীতি, সমসাময়িক ঘটনাপ্রবাহ এবং পরিকাঠামো উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরেন। ট্রেন, মেট্রো, আবহাওয়া, খেলাধুলোর প্রতি বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। নিয়মিত সেইসব বিষয়েও প্রতিবেদন লিখে থাকেন। পেশাদার অভিজ্ঞতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া, ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গল (সিএবি), স্পোর্টসকিডার মতো সংস্থায় ইন্টার্নশিপ করার পরে ২০১৮ সাল থেকে অয়নের পেশাদার জীবনের সূচনা হয়। পেশাদার সাংবাদিক জীবনের শুরুটা হয় ইটিভি ভারতে। সেখানে এক বছর দু'মাস কাজ করার পরে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর যোগ দেন হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায়। চারদিন পরে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা চালু হয়। অর্থাৎ একেবারে প্রথম থেকেই হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় আছেন। বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য-রাজনীতি, ভারতের রাজনীতি, ট্রেন-মেট্রো-শিল্প সংক্রান্ত পরিকাঠামো-নির্ভর খবর, চাকরির খবর, ক্রিকেট-ফুটবলের মতো খেলাধুলোর খবরের প্রতিবেদন লিখে থাকেন। বিশেষ করে ব্রেকিং নিউজ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে, এমন খবর লেখার ক্ষেত্রে তিনি বিশেষভাবে পারদর্শী। শিক্ষাগত যোগ্যতা: নঙ্গী হাইস্কুল এবং নিউ আলিপুর মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে প্রাথমিক পড়াশোনার পরে আশুতোষ কলেজ থেকে সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন (Journalism & Mass Communication) নিয়ে অয়ন স্নাতক হয়েছেন। তারপর একই বিষয়ে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিগত পছন্দ এবং নেশা: অয়ন মনেপ্রাণে পাহাড়প্রেমিক। সুযোগ পেলেই পাহাড়ে ঘুরতে চলে যান। বরফ ও তুষারপাতের প্রতি বিশেষ জায়গা রয়েছে হৃদয়ে। তাছাড়াও ভারতীয় সেনা, ভারতীয় বায়ুসেনা ও ভারতীয় নৌসেনার প্রতি বিশেষ টান রয়েছে। ভারতীয় জওয়ানদের বীরত্ব, তাঁদের লড়াই নিয়ে বই পড়তে বা তথ্যচিত্র দেখতে ভালোবাসেন। ছোটোবেলায় নিজেরও ভারতীয় সেনায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা ছিল।

SHARE THIS ARTICLE ON
Hindustantimes wants to start sending you push notifications. Click allow to subscribe