Indian Citizenship Proof Explainer: পাসপোর্টও চূড়ান্ত প্রমাণ নয়! তাহলে ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণ করবে কোন নথি?

বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে নাগরিকত্বের 'চূড়ান্ত' প্রমাণ বলা যায় না। এই বক্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- যদি পাসপোর্টও নাগরিকত্বের শেষ কথা না হয়, তাহলে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করবে কোন নথি?

Published on: Jun 25, 2026, 09:18:42 IST
Share
Share via
  • facebook
  • twitter
  • linkedin
  • whatsapp
Copy link
  • copy link

একটি ভারতীয় পাসপোর্ট থাকলে বিশ্বের যে কোনও দেশের ইমিগ্রেশন কাউন্টারে নিজের পরিচয় দেওয়া যায়। বিদেশে সমস্যায় পড়লে ভারত সরকারের কনস্যুলার সুরক্ষা পাওয়া যায়। সাধারণ মানুষের ধারণা, পাসপোর্ট মানেই ভারতীয় নাগরিকত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী প্রমাণ। কিন্তু সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রকের (MEA) একটি মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিকে নাগরিকত্বের 'চূড়ান্ত' প্রমাণ বলা যায় না। এই বক্তব্য সামনে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে- যদি পাসপোর্টও নাগরিকত্বের শেষ কথা না হয়, তাহলে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করবে কোন নথি?

An Indian passport placed on top of a Colombian passport on a highly polished rosewood table. The passports are reflected on the polished wooden surface. The Indian passport has two booklets attached to each other denoting a much travelled holder. The holder obviously needed additional pages. The countries' details and emblems are in gold print on the documents' covers. Horizontal format. Copy space. (Getty Images/iStockphoto) (HT_PRINT)
An Indian passport placed on top of a Colombian passport on a highly polished rosewood table. The passports are reflected on the polished wooden surface. The Indian passport has two booklets attached to each other denoting a much travelled holder. The holder obviously needed additional pages. The countries' details and emblems are in gold print on the documents' covers. Horizontal format. Copy space. (Getty Images/iStockphoto) (HT_PRINT)

কেন বিতর্ক?

ভারতে পাসপোর্ট দেওয়া হয় শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদের। পাসপোর্ট পাওয়ার আগে আবেদনকারীর বিভিন্ন নথি যাচাই করা হয়। পুলিশ ভেরিফিকেশনও হয়। ১৯৬৭ সালের পাসপোর্ট আইনে স্পষ্ট বলা আছে, কেউ ভারতীয় নাগরিক না হলে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া যাবে না।

তাহলে বিদেশ মন্ত্রক কেন বলছে পাসপোর্ট নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়?

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকার এখানে একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য তুলে ধরেছে। পাসপোর্ট নাগরিকত্বের শক্তিশালী প্রমাণ হলেও ভবিষ্যতে যদি জানা যায় কেউ ভুয়ো তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট পেয়েছে, তাহলে সরকার সেই পাসপোর্ট বাতিল করতে পারে। অর্থাৎ পাসপোর্ট নাগরিকত্বের প্রমাণ, কিন্তু তা অখণ্ডনীয় বা চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

ভোটার কার্ড কি নাগরিকত্বের প্রমাণ?

সাম্প্রতিক ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার সময়ও একই প্রশ্ন উঠেছিল। অনেকের ধারণা, ভোটার কার্ড থাকলেই নাগরিকত্ব প্রমাণ হয়ে যায়। কিন্তু আইনগতভাবে বিষয়টি এতটা সরল নয়। ভোটার তালিকায় নাম থাকা মানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ভোট দেওয়ার যোগ্য বলে নির্বাচন কমিশন তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। কিন্তু ভোটার কার্ড নিজে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়। প্রয়োজনে নির্বাচন কর্তৃপক্ষ নাগরিকত্ব সংক্রান্ত তথ্য আবারও যাচাই করতে পারে।

তাহলে কোন নথি নাগরিকত্বের প্রমাণ?

এখানেই ভারতের আইন কিছুটা জটিল। বিশ্বের অনেক দেশের মতো ভারতে জন্মের সময় প্রত্যেক নাগরিককে আলাদা করে কোনও ‘সিটিজেনশিপ কার্ড’ দেওয়া হয় না। ২০২০ সালে সংসদে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে প্রশ্ন করা হয়েছিল—আধার, পাসপোর্ট, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড বা জন্ম শংসাপত্রের মধ্যে কোনটি নাগরিকত্বের প্রমাণ? উত্তরে সরকার কোনও একক নথির নাম বলেনি। সরকার জানিয়েছিল, নাগরিকত্ব নির্ধারণ হয় ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী। জন্ম, বংশপরম্পরা, রেজিস্ট্রেশন, ন্যাচারালাইজেশন (স্বাভাবিকীকরণ) বা কোনও অঞ্চল ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়া যেতে পারে।

বিভিন্ন মানুষের ক্ষেত্রে বিভিন্ন নথি

যাঁরা জন্মসূত্রে নাগরিক, তাঁদের ক্ষেত্রে জন্ম শংসাপত্র গুরুত্বপূর্ণ নথি হতে পারে। আবার কারও ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের নথি, স্কুলের শংসাপত্র, ভোটার তালিকার রেকর্ড, জমির দলিল বা দীর্ঘদিনের বাসস্থানের প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে যাঁরা রেজিস্ট্রেশন বা ন্যাচারালাইজেশনের মাধ্যমে ভারতীয় নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের জন্য নাগরিকত্ব শংসাপত্র (Citizenship Certificate) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নথি। আদালত সাধারণত কোনও একটিমাত্র নথির উপর নির্ভর না করে একাধিক নথি ও তথ্য একসঙ্গে বিচার করে সিদ্ধান্ত নেয়।

আধার, প্যান বা রেশন কার্ড কি নাগরিকত্বের প্রমাণ?

অনেকেই মনে করেন আধার কার্ড নাগরিকত্বের প্রমাণ। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। আধার আইনেই বলা আছে, আধার শুধুমাত্র পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ। এটি নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। একইভাবে প্যান কার্ড করদাতার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড সরকারি সুবিধা পাওয়ার নথি এবং ভোটার কার্ড ভোটদানের যোগ্যতার প্রমাণ। এদের কোনওটিই এককভাবে নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

মূল সমস্যাটা কোথায়?

ভারতের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণার উপর দাঁড়িয়ে ছিল—যতক্ষণ না কোনও বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, ততক্ষণ একজন ব্যক্তিকে নাগরিক বলেই ধরা হবে। কিন্তু নাগরিকত্ব যাচাই, ভোটার তালিকা সংশোধন বা অভিবাসন সংক্রান্ত নানা বিতর্কের ফলে এখন সেই প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ফলে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে কোনও ব্যক্তির কাছে পাসপোর্ট, আধার, ভোটার কার্ড, প্যান কার্ড এবং জন্ম শংসাপত্র সবই রয়েছে, তবুও বিশেষ কোনও আইনি প্রক্রিয়ায় তাকে নাগরিকত্বের জন্য অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হতে পারে। বিদেশ মন্ত্রকের সাম্প্রতিক মন্তব্য তাই শুধু পাসপোর্টের আইনি অবস্থান নিয়েই প্রশ্ন তোলেনি। বরং ভারতের নাগরিকত্ব ব্যবস্থা নিয়ে একটি বড় বিতর্ককে সামনে এনে দিয়েছে—একবিংশ শতাব্দীর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য কি এখনও বিভিন্ন নথির সমন্বয়ের উপর নির্ভর করা উচিত, নাকি প্রয়োজন একটি সর্বজনস্বীকৃত জাতীয় নাগরিকত্ব পরিচয়পত্র? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

  • Abhijit Chowdhury
    ABOUT THE AUTHOR
    Abhijit Chowdhury

    ২০২১ সাল থেকে হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অভিজিৎ চৌধুরী। ২০১৮ সালে সালে তাঁর পেশাদার জীবনের শুরু। জাতীয়, আন্তর্জাতিক বিষয়, বাংলার রাজনীতি এবং খেলাধুলোর বিষয়ে লেখার ক্ষেত্রে ৮ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমেরিকা, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের বিষয়ে তাঁর আগ্রহ সবচেয়ে বেশি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পাশ করেই সাংবাদিকতার জগতে প্রবেশ করেছেন অভিজিৎ। হিন্দুস্তান টাইমস বাংলায় যোগদানের আগে ওয়ানইন্ডিয়া এবং ইটিভি ভারতে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে অভিজিতের। এছাড়া আকাশবাণীতে রেডিও জকি হিসেবেও কাজ করেছিলেন তিনি। খবরের জগৎ ছাড়া খেলাধুলো, ইতিহাসে অভিজিতের আগ্রহ রয়েছে। শিক্ষাগত যোগ্যতা: সাংবাদিকতা ও গণজ্ঞাপন নিয়ে অভিজিৎ তাঁর স্নাতক স্তরের পড়াশোনা সম্পন্ন করেছেন আশুতোষ কলেজ থেকে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ব্যক্তিগত পছন্দ ও নেশা: ক্রিকেট, ফুটবল, টেনিস ছাড়া প্রায় সব ধরনের খেলা দেখতে তিনি ভীষণ ভালোবাসেন। কাজের বাইরে তাঁর অবসর কাটে বই পড়ে এবং বিভিন্ন বিষয়ে ডকুমেন্টারি দেখে।Read More